বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রা : সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের চুড়ান্ত অধ্যায়

0

আনাস বিন ইউসুফ ::

এ বছর বৈশাখ উদযাপনের বিষয়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা একটা রিপোর্ট করেছে। সে রিপোর্ট পড়ে অনেকে ব্যথিত হয়েছেন, মর্মাহত হয়েছেন। এ নিয়ে টুকটাক প্রতিবাদ ও ঘৃণাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। আমি তাদের এই বেদনাহত হওয়ার নিন্দা করবো না। বরং আমি আমার জায়গা থেকে একটা আনন্দ প্রকাশ করতে চাই;

আনন্দবাজার পত্রিকা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের জনগণকে আনন্দ দিয়ে থাকে। তারা হয়তোবা আনন্দ দেয়ার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতীয় হস্তক্ষেপের নানান দিক তুলে ধরে রিপোর্ট করে, সম্পাদকীয় লেখে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এদেশের মানুষ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কথিত বন্ধুত্বের মাঝে শান্তি কিংবা আনন্দ কোনোটাই খুঁজে পায় না। অতীতের ইতিহাস এমনি বলে। বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষেয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি যেখানেই হস্তক্ষেপ করেছে, সেখানেই অশান্তির অনলে পুড়ছে জনসাধারণ। বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, এক-এগারো থেকে রোহিঙ্গা ইস্যু পর্যন্ত দৃষ্টি দিলেই আমাদের সামনে প্রতিবেশী বন্ধুর বন্ধুত্বের স্বরূপ চিত্রায়িত হয়ে উঠবে।

পাঠক হয়তো মনে করছেন, কথার ধারাবাহিকতা মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে যাচ্ছে। লেখায় একচেটিয়া ভারত বিরোধিতা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। আদৌ না। আমি বরং চেষ্টা করছি- আড়ালের সত্যটিকে যুক্তিযু্ক্ত বর্ণনা ও ডান-বাম সহ তোলে ধরতে। তবে হ্যাঁ, লেখা বড় করার কোনো চিন্তা নেই। বছরের শেষ সময়ে সকলের ব্যস্ততা রয়েছে। আমার মত আজাইরা পাব্লিক কমই আছে। তাই অল্প কথায় অনেকগুলো বিষয়ের দিকে ইংগিত করার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

সাম্রাজ্যবাদীরা পৃথিবীর যেসব ভূ-খন্ডে তাদের সাম্রাজ্যবাদ নির্বিগ্নে টিকিয়ে রাখতে চায়, সেখানে তারা সুনির্দৃষ্ট কিছু আগ্রাসন পরিচালনা করে থাকে। যেমন–

১. সম্পদ পুঁঞ্জিভূত করার নামে সেখানকার অর্থব্যবস্থায় ভয়াবহ ধ্বস নামিয়ে আনে। যাতে করে সেখানকার মানুষ তাদের কোমর সোজা করে দাঁড়াতে সক্ষম না হয়।

২. সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় সৃষ্টি করে অশিক্ষিত ও অথর্ব নেতৃত্ব তৈরি করে। যাতে করে একটি জাতি তার নিজস্ব স্বকীয়তাবোধ হারিয়ে ফেলে এবং শিক্ষার আলোকে অনাগত করুণ পরিনতির বিষয়ে চিন্তা করতে না পারে।

৩. দেশের ভূ-রাজনীতিতে যাচ্ছেতা হস্তক্ষেপ করে সুষ্ঠু ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চর্চার সকল পথ চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়। যাতে সাহসী নেতৃত্বের অস্তিত্ব না থাকে; যারা দেশ, জাতি ও ধর্মের স্বার্থকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিবে।

৪. পর্দাল অন্তরাল থেকে শাসিত এসব অঞ্চলে সাংস্কৃতিক বিপর্যয় ডেকে এনে মানুষের মন ও মস্তিষ্ক নষ্ট করে দেয়। অর্থাৎ আজ্ঞাবহ শাসক শ্রেণীর ঘাড়ে বসে অত্যন্ত সুকৌশলে দেশের মানুষের ফিত্বরাত তথা স্বভাব-চরিত্রকে ধ্বংস করে দেয়া হয়।

উপরোক্ত চারটি আগ্রাসন ও তৎপরবর্তী করুণ পরিনতির তরুতাজা দৃষ্টান্ত আজকের রোহীঙ্গারা। রোহীঙ্গা সঙ্কটের ইতিবৃত্ত নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন, বা এখনো করছেন তাদের প্রত্যেকে এমনটিই মনে করেন বলে জানি। দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের উপর নানামুখী আগ্রাসন পরিচালনা করে তাদের মনুষ্যত্বকেও নস্যাৎ করে দিয়েছে। তারা ভুলে গেছে, তাদের আত্মপরিচয় কী ছিল। ফলে অন্যায় অত্যাচারের মুখেও কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয় নি রোহীঙ্গারা।

এসব কিছুর সাথে আবশ্যকভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মিডিয়া আগ্রাসন। যার মাধ্যমে সঠিক প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার পাশাপাশি কাল্পনিক মিথ্যার প্রচার করতঃ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়।

বাংলাদেশেও উল্লেখিত প্রতিটি আগ্রাসনের উদারহণ পাওয়া যায়। মনে করিয়ে দেয়ার জন্য শুধু শিরোনাম উল্লেখ করছি— ব্যাংক লুটপাট ও অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা। পাঠ্যক্রমে একের পর এক মনগড়া সংস্কার ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে শিক্ষার স্বকীয়তা নষ্ট করে দেয়া। যুগযুগ ধরে ভূ-রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে করে দেশের রাজনীতির মাঠকে বিষাক্ত করে তোলা। চেতনার উৎসব পালনের কথা বলে বলে একটি মুসলিম জাতীর সভ্যতা-সংস্কৃতির সৌন্দর্য বিলুপ্ত করে দেয়া। এবং সবশেষ মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করে সত্য বলার পথ চিররুদ্ধ করা।

উল্লেখিত বিষয়গুলোর বাইরেও এদেশের মুসলিম সমাজে কিছু ফোবিয়া ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে কোণ্ঠাসা করে ফেলা হচ্ছে। যেমন- কথিত জঙ্গীবাদের কথা বলে মুসলমানদের অন্তরে জিহাদ সম্পর্কে ভীতি ও ভুল ধারনা সৃষ্টি করা। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অপূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠদান পদ্ধতি চালু থাকায় এদেশের সাধারণ মুসলমানরাও জিহাদ সম্পর্কে ন্যুনতম স্বচ্ছ ধারনা রাখতে পারছে না। ফলে তারা কথিত জঙ্গীবাদের সাথে ইসলামের জিহাদকে গুলিয়ে ফেলছে এবং আকিদার সাথে সংশ্লিষ্ট এমন অতিগুরুত্বপূর্ণ বিধানটিকে এক প্রকার অস্বীকার করতে বসেছে; যা রীতিমত ভয়ানক ও বিপজ্জনক বিষয়। এর জন্য প্রথমত দায়ী অপূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠতা সত্বেও মুসলমনদেরকে ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ রাখার রূপরেখা অনুসরণ করা হয়। এছাড়াও আমাদের নেতৃত্বের অসচেতনতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

এবার আসি সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের কথায়—
চতুর্মুখি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করে একটি জাতির ভেতর থেকে যখন সত্য ও সভ্য সংস্কৃতির বিলুপ্তি সাধন করা হয়, তখন তারা তাদের চেতনাবোধ হারিয়ে ফেলে। কোনো স্বকীয়তাবোধ বলতে অবশিষ্ট থাকে না। মুসলমান হয়েও অন্য ধর্মের আচার-রীতি পালনে তাদের মনে বাধ সাধে না। বরং জীবনের শত ব্যস্ততা উপেক্ষা করে উচ্ছসিত হয়ে বিধর্মীয় উৎসবে মেতে উঠে তারা। অথচ আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন—
আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছু ধর্ম (পালনীয়) হিসেবে গ্রহন করে, তা কিছুতেই গ্রহনযোগ্য হবার নয়। সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
[সুরা আলে-ইমরান- ৮৫]

সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের আগ্রাসী তৎপরতা নির্বিগ্ন করতে কিছু ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী তৈরি করে। যারা লাজ-লজ্জা ও শিক্ষা-দীক্ষার মাথা খেয়ে ব্যাপরোয়ার মত কৃতদাসী কর্মকান্ডে মেতে উঠে। বুদ্ধিজীবীর নামে পরজীবীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রভু গোষ্ঠীর বেতনভূক্ত এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার সুযোগ নিয়ে মানুষকে ভুল চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। শুধু তাই না, কেউ যাতে তাদের নষ্ট চেতনার বিরুদ্ধে সাহস করে মুখ খুলতে না পারে, সে লক্ষ্যে অনবরত প্রোপাগান্ডা করে যায়। ফলে আজকের এই দুঃসময়ে এসেও জাতির কান্ডারী দাবিদার বহু আলেম পর্যন্ত “মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে দেয়া হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে” মুখ খুলতে পারেন না। উল্টো সার্বজনিনতা রক্ষার খোড়া যুক্তি পেশ করে কেউ কেউ নিজেও জড়িয়ে পড়ছেন বিধর্মীদের সংস্কৃতি চর্চায়। আর কথিত ফর্মালিটি রক্ষার রাজনীতি একজন বড় পর্যায়ের ধর্মীয় নেতাকেও বাধ্য করেছে- হিন্দুয়ানী উৎসবকে স্বাগত জানাতে। এমন রাজনীতি নিজ পায়ে পদপিষ্ট করা শ্রেয় নয় কি?

আনন্দবাজার পত্রিকা উক্ত বিষয়গুলো আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে স্পষ্ট করে দিল। তারা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিল যে, বাংলাদেশের মুসলমান সার্বজনীন উৎসবের নামে পহেলা বৈশাখের দিন যা যা করে আসছে, সেসব সাধারণ কিছু না। বরং সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার চিত্রায়ন মাত্র; যার পিছনের কলকাঠি নড়ে অতি দূর কিংবা নিকটবর্তী কোনো রাজধানী থেকে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা যখন বৈশাখ দিবসের আলোচনাসভার সেমিনারে দ্বীপ্ত কণ্ঠে বলেন– “অতীতে (২০০৬ এর আগে) যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা বৈশাখের সার্বজনীন উৎসবকে ধর্মের রূপ দিতে চেয়েছিল” তখন মুসলমান হিসেবে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না।

আ.লীগ নোত্রীর উক্ত বক্তব্যের দুইটি দিক নিয়ে কিছু কথা বলে আজকের মত ইতি টানছি, ইনশাআল্লাহ।

১. অনেক খোঁজার চেষ্টা করলাম, অতীতের কথিত স্বাধীনতা বিরোধীরা (বিএনপি) কিভাবে ধর্মের রূপ দিতে চেয়েছিল? তারা নিজেরাও তো আরেক প্রভুর প্রতিনিধিত্ব করে থাকে !

চিন্তা ভাবনার পর আমার যেটা মনে হল, তা হচ্ছে- সম্ভবত বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে ইসলামি দলগুলো কিংবা দেশের অরাজনৈতিক আলেম সমাজের পক্ষ থেকে বৈশাখ উদযাপনের নামে হিন্দুয়ানী উৎসব পালনে আপত্তি উঠেছিল। অতঃপর বিএনপি হয়তো সে আপত্তি আমলে নিয়েছিল, কিংবা আমলে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। আর সেটাকেই পুঁজি হিসেবে গ্রহন করে মানবতার জননী শেখ হাসিনা তার বিরোধী রাজনীতির প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করলেন।

তবে ঘটনা যদি এমন হয়ে থাকে যে, বিএনপির সময় বৈশাখের উৎসব আপন অবস্থাতেই ছিল, কোনো ভিন্নরূপ আসে নি, তাহলে নির্দ্বিধায় বলতে পারি মুক্তিযু্দ্ধের চেতনার মূর্ত প্রতিক মাননীয় শেখ হাসিনা মিথ্যা বলেছেন; যে মিথ্যার অন্তরালে “হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি চর্চার বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন (অর্থাৎ আলেমগণ) শেখ হাসিনা তাদেরকে একটা খোঁচা মারলেন। আলেম সমাজ সে খোঁচাটি অনুভব করতে পারলেই কামিয়াব।
{আল্লাহ সর্বোত্তম হেফাজতকারি। সত্য উচ্চারণকারিকে তিনিই রক্ষা করবেন, ইনশাআল্লাহ।}

২. নেত্রীর বক্তব্যে একটা বিষয় দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে– বৈশাখের উৎসবের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ তিনি এই উৎসবকে ধর্মীয় প্রলেপ দেয়ার কঠোর সমালোচনা ও বিরোধিতা করেছেন। তবে এখানে একটা বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। সেটা হচ্ছে- বৈশাখের সাথে কোন্ ধর্মের সম্পর্ক নেই? ইসলাম ধর্মের? নাকি অন্য কোনো ধর্মের?

উক্ত অস্পষ্টতা দূর করে দিয়েছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। তারা এই কথিত সার্বজনীন উৎসবটিকে হিন্দুয়ানী উৎসবের সাথে তুলনা করে রিপোর্ট করেছে। বাস্তবতাও তাই। পেচা, ভল্লুক, বানর ইত্যাদির মূর্তি নিয়ে মোঙ্গল কামনায় শোভাযাত্রা করা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতিরই অংশ। অথচ এই সত্যটি উপলব্ধি করতে পারে নি (অথবা উপলব্ধি করতে চায় নি) এদেশের মুসলিম (!) জনগণ। কারণ, যুগযুগ ধরে চতুর্মুখি আগ্রাসনের শিকার এ অঞ্চলের মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করে ফেলা হয়েছে। আ.লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে যে ‘সংস্কৃতির ও শোভাযাত্রা’র পক্ষে কথা বলেছেন, আনন্দবাজার পত্রিকা স্পষ্ট করে দিল যে, সেটি একটি হিন্দুয়ানী উৎসব ছিল।

আর এজন্যই আমি আনন্দিত। শুধু তাই না, আমি আনন্দবাজার পত্রিকাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। তারা আমাদেরকে নতুন করে ভাববার এবং নিজেদের করণীয় ঠিক করার পথ দেখিয়ে দিয়েছে। সঠিক সত্য উপলব্ধি করার দারুণ প্রেরণা দিয়েছে। বৈশাখের এই বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র। বিশেষত…।

শেষ কথা– মাননীয় শেখ হাসিনাকে কেউ দোষ দিবেন না। আমি আপনি হয়তো বছরে এক দুই দিন তাহাজ্জুদ পড়ি। অথবা পড়িও না। কিন্তু তিনি একজন নিয়মিত তাহাজ্জুদগুজার। অতএব তার কোনো দোষ নেই; সব সমস্যার গোড়ায় রয়েছে পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থা। যার মূল দর্শন হচ্ছে– রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করে জগাখিচুরী মার্কা সেক্যুলার ধর্ম ছড়িয়ে দাও। যে ধর্মের গ্যাড়াকলে পড়ে শুধু শেখ হাসিনাই না, বরং এই হিন্দুয়ানী উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিতে হবে স্বয়ং ইসলামি রাজনীতির নেতৃবৃন্দকেও।

Comment

Share.

Leave A Reply