খাদ্য ও জমির লোভে বাংলাদেশ ছেড়ে মিয়ানমার যাচ্ছে বৌদ্ধরা!

0

রাখাইন থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জমিতে বাংলাদেশি বৌদ্ধদের পুনর্বাসন করতে আগ্রহী মিয়ানমার। এ জন্য তাদের বিভিন্ন ভাবে লোভও দেখানো হচ্ছে।

সম্প্রতি ব্যাংকক পোস্ট এ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এরইমধ্যে বিনামূল্যে জমি এবং খাবারের লোভ দেখিয়ে বান্দরবান পার্বত্য অঞ্চলের মারমা ও ম্রো গোষ্ঠীর ২২টি পরিবারকে মিয়ানমারে নিয়  যেতে সক্ষম হয়েছে তারা। এদের মধ্যে জেলার থানচি ও আলীকদম উপজেলার ১১টি জাতিসত্তার মানুষ পাড়ি জমিয়েছে সেদেশে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার স্থানীয়রা জানিয়ে, মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়া পরিবারকে ৫ একর জমি, চাষের জন্য গরু এবং নগদ অর্থ দেবে স্থানীয় প্রশাসন এমন প্রলোভনের ভিত্তিতে তারা চলে যাচ্ছেন। এছাড়াও জুম চাষ আগের মতো না হওয়া, বাঁশ-বেত কেটে বিক্রি করার পথ বন্ধ এবং চলতি বছরে খাবার সংকটের আশঙ্কা এসবের কারণে মিয়ানমারের আশ্বাসে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান তারা।

তারা দীর্ঘদিন জুম চাষ করে খেতেন। কিন্তু ফলন আগের মতো হয় না। জঙ্গলে অন্যকিছু করে খাওয়ারও উপায় নাই। তাই অনেকে মিয়ানমার চলে যাচ্ছেন।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে থানচির রেমাক্রি ইউপি চেয়ারম্যন মুইশৈথুই মারমা জানান, উসোথোয় পাড়া থেকে ২ পরিবার, চশৈ পাড়া থেকে ১টি, বড়মদক থেকে ৪ পরিবারসহ মোট ২২টি পরিবার মিয়ানমারের প্রলোভনে পাড়ি জমিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এলাকার জনপ্রতিনিধি, গ্রাম প্রধান ও স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক করেছি। মিয়ানমারের প্রলোভনে পা না দেওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক করেছি। এরপরও অনেকে বিচ্ছিন্নভাবে চলে যাচ্ছে।

ব্যাংকক পোস্টের ওই খবরে বলা হয়, ‘অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ ছাড়ছে বৌদ্ধরা’ আন্তর্জাতিক মহলকে এ সংক্রান্ত ধারণা দিতেই এমন কূটচালের আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমার, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বান্দরবানের স্থানীয় কাউন্সিলর মুইং সোয়ি থোয়ি’র বরাতে ওই প্রতিবেদনটিতে আরো জানানো হয়েছে, ‘বিনামূল্যের ভূমি ও খাদ্যের প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে পার্বত্য ও বনাঞ্চল এলাকার প্রায় ৫০টি আদিবাসী পরিবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলে গেছে। গত মাসেও সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গ্রাম থেকে ২২টি পরিবার চলে গেছে সেখানে।’

‘এই পরিবারগুলো প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কিন্তু এদের মধ্যে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কয়েকজনও রয়েছেন। বিনামূল্যে ভূমি, নাগরিকত্ব এবং পাঁচ বছরের জন্য বিনামূল্যে খাবার দেয়া হবে, রাখাইনে যেতে তাদের এমন প্রলোভন দেখিয়েছে মিয়ানমার’ বলেন মুইং সোয়ি থোয়ি।

তিনি আরো জানান, ‘এরা অত্যন্ত গরীব। রাখাইনে ফেলে আসা রোহিঙ্গাদের জমিতেই তাদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার।’

এ ব্যাপারে থানচির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মিয়ানমারে থাকা আত্মীয় স্বজনরাই আদিবাসী পরিবারগুলোকে প্রলুব্ধ করেছে। মিয়ানমারের প্রলোভনে পা না দেয়ার জন্য আমরা এলাকাগুলোতে সচেতনতা সৃষ্টি করে যাচ্ছি।

Comment

Share.

Leave A Reply