সিলেটের শাহী ঈদগাহে এসব কী হচ্ছে?

0

আতিকুর রহমান নগরী: সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ’র পবিত্রতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। এই ঈদগাহ প্রাঙ্গণে এখন মানুষের অবাধ যাতায়াত। নানা উদ্দেশ্যে মানুষ এখন দিনরাত্রি সমান তালে শাহী ঈদগাহের পবিত্রতা ম্লান করে যাচ্ছে। যেখানে সিলেটের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু অনেকে এই স্থানটিতে এখন নানা বিতর্কিত কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ আছে অপরাধী ও মাদকসেবীরা স্থানটিকে তাদের নিরাপদ একটি আশ্রয় হিসেবেও বেছে নিয়েছে।

রোববার সময়টা আসরের পর। হাতে মোবাইল নিয়ে তরুণের দল। কারো সাথে প্রেমিকা আর কারো সাথে গার্ল ফ্রেন্ড। জোড়া জোড়া তরুণ তরুণী। সবে মিলে করছে তারা সেলফিবাজি। নতুন নির্মিত নান্দনিক সাজে সজ্জিত মিনারের পার্শ্বঘেষে জোড়া জোড়া বসে খোশমেজাজে প্রেমালাপে কিংবা হাস্যরসে মাতোয়ারা। হাতে বাদাম কিংবা চটপটি, ফুসকা মুঠোয় মুঠোয় করছেন সময়পার। সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ প্রাঙ্গনে গেলে এমন দৃশ্য যে কাউকে বিস্মিত করবেই।

হতবাক কিংবা নির্বাক হবারই কথা। নগরীর কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেয মাওলানা আবুল কাসেম কাসিমি তাঁর একজন বন্ধুকে সম্প্রতি কোনো এক বিকেলে শাহী ঈদগাহ দেখাতে গিয়ে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখিন হন।

শুধু তিনি নন, হর-হামেশা সিলেটবাসীর নজরে পড়ছে এমন দৃশ্য। রীতিমতো পবিত্র এই স্থানটিকে বিনোদনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছেন। মুসলমানের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বছরের দু’টি ঈদের নামাযের জন্য ব্যবহৃত ঈদগাহ’র পবিত্রতা, পরিবেশের সুন্দর্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। বছরের ১২ মাসের বাকি দিনগুলো যদি পর্যটক কিংবা বখাটেদের আড্ডার জায়গা। তাহলে দিন দিন পবিত্রতা বিনষ্টের সাথে সাথে বিলীন হয়ে যাবে এর পেছনের ইতিহাস।

রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহী ঈদগার মূল সিঁড়ির উপর বসে আছে কিছু যুবক। হাতে স্মার্ট ফোন। নিচের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে পেছনের সবাইকে নিয়ে সেলফি বন্ধনে ব্যস্ত। মাগরিবের পর বাদামওয়ালা, চটপটি ওয়ালাদের ব্যবসাও ভালো হয়। নবনির্মিত মিনার প্রাঙ্গণে আলোকসজ্জার ছায়ায় বসে আড্ডাবাজিতে ব্যস্ত তারা।

সচেতন মহল মনে করছেন এমন পবিত্র স্থানের পবিত্রতা নষ্ট করছে কিছু বখাটে আর হাওয়া গায়ে লাগানো প্রেমিরা। বিকেলের বাতাস শরিরে লাগিয়ে নিজে হয়তো সিক্ত হচ্ছেন কিন্তু পবিত্র ঈদগাহ’র বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন তারা। এক্ষেত্রে ঈদগাহ কমিটিকেই দোষারূপ করছেন সিলেটের সচেতন নাগরিকরা।

শাহী ঈদগাহ’র বাসিন্দা সিকৃবির ছাত্র সাইফুর রহমান মাহদি বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। অনেক শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাও পবিত্র ঈদগাহকে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করছি।’

এ ব্যাপারে শাহী ঈদগাহ’র খতিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান বলেন, ‘এখানে মন্তব্য কি আর করবো? এটা পবিত্র স্থান। যারা এই পবিত্র স্থানকে পার্ক হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছেন তারা সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ করছেন। ঈদগাহর পবিত্রতা রক্ষায় প্রথমে ঈদগাহ কমিটির মোতায়াল্লিকেই অগ্রণি ভূমিকা রাখতে হবে।’
ঈদগাহে ওঠতি বয়সি ছেলেমেয়েদের এমন চিত্র প্রতিয়নিত দেখা যাচ্ছে যা দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করে শাহী ঈদগাহ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘প্রথমে আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি।

দৃষ্টিননন্দন মিনারকে কেন্দ্র করে মানুষ এখানে ঘুরাফেরা আর আড্ডা দিতে আসে। এর থেকে উত্তোরণের জন্য মিনারের তলদেশে গেইট দিয়ে বেষ্টনি দেওয়ার জন্য কমিটির কাছে প্রস্তাবও করেছি।’

বদরুজ্জামান সেলিম আরো বলেন, ‘আমরা ছোট বেলা থেকেই দেখছি বয়োঃবৃদ্ধ, ডায়াবেটিস রোগিদের হাটাহাটির জন্য এবং ছোট্ট শিশুদের খেলাধুলার জন্য ঈদগাহ’র দু’পাশের ছোট দু’টি গেইট উন্মুক্ত থাকে। আমি বিষয়টি মোতায়াল্লিকে অবগত করবো।’

এ ব্যাপারে শাহী ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির মোতাওয়াল্লি জহির বক্স বলেন, ‘বিষয়টি আমি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করছি এবং ঈদগাহ’র সিকিউরিটিকে একথা বলাও আছে যে, কোনো মেয়েছেলে যাতে অবাধে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।

পাশাপাশি আমি নিজে সাধ্যানুযায়ী মনিটরিং করে বিতর্কের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্ঠা চালাচ্ছি। সমাজের সবাই সচেতন হলে পবিত্র স্থানের পবিত্রতা রক্ষা সহজেই সম্ভব।’ #শ্যামলসিলেট

Comment

Share.

Leave A Reply