শহিদ মুযযাম্মিল’র রক্তের বদলে আমরা কী পেলাম?

0

আব্দুল্লাহ বিন ইসমাঈল ::

রাস্তার জন্যে মাত্র তিন ঘণ্টা সড়ক অবোরধ!! জায়গায়ই সমাধান!! কে সফল আর কে বিফল…?

হরিপুর বাজারে রাস্তায় কিছু গর্ত হয়েছে। মানুষ চলাচলে কষ্ট হচ্ছে।যানবাহন ঠিকমত চলাচল করতে পারছে না। হঠাৎ ঘোষণা আসলো । রাস্তা সংস্কারের দাবিতে তামাবিল হাইওয়ে রোড অবরোধ হবে।৮/১০ ঘণ্টার মাথায় তামাবিল হাইওয়ে রোড অবরোধ।

৪ এপ্রিল১৮ ঈ.। বুধবার। সন্ধ্যা ৭টা। ব্যরিকেড দেয়া হল। গাড়ি আটকে গেল। সারি সারি গাড়ি। লাইন দীর্ঘ হলো। আরো দীর্ঘ হলো। সবাই একাত্নতা ঘোষণা করলো। একই দাবি। রাস্তার সংস্কার চাই। নিরাপদ সড়ক চাই।

কিছু সময় যেতে না যেতে জনপ্রতিনিধিদের পদচারণা। প্রশাসন’র ঘাম ছুটলো। তারাও চলে আসলো। হাঁ, ইউ.এন.ও. সাহেবা জনাবা মৌরিন করিমও আসলেন। আরো আসলেন মুহিবুল হক মুহিব সহ অনেকেই।

সবাই উদগ্রীব। উৎসুক। ভালো কিছু শুনতে পাবে। নাহ, শান্তনার বাণী শুনার জন্য নয়। বাস্তবধর্মী কিছু শুনতে। তারা শুধুই আশ্বাস দেয়নি। শুধু শান্তনার বাণী শুনায়নি। কোন কানপড়াও দেয় নি।

দ্বীপ্তকণ্ঠে ঘোষিত হল; আমরা জনগণের দাবির সাথে একমত। জনগণ দুর্ভোগ পোহাক এটা আমরা চাই না। কাল সকাল থেকেই কাজ শুরু হবে।চলাচল উপযোগী রাস্তা করে দেয়া হবে।

যেই কথা সেই কাজ! সকাল থেকেই রাস্তা সংস্কার’র কাজ শুরু হয়ে গেল। কাজ চলছে। জি, জনাব! ঠেলার নাম বাবাজি…!

আমি যতটুকু জানি এ আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা ছিলো দু চারজন তরুণ। পরে অবশ্যই অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন। শরিক ও হয়েছেন। জাগো হে তরুণ! তোমরাই পারবে…

আন্দোলন কারে কয় দেখিয়ে দিল। তারা বড় বড় সভা সমাবেশ ও করে নি। হাজার হাজার মানুষ নিয়ে দীর্ঘ মিছিলও দেয়নি। গাড়ির লাইন ও ধরায় নি। হাজার হাজার টাকা খরচ করে নি। অমুক মাটিতে স্মরণকালের সেরা সমাবেশ ও করে নি। স্মারকলিপিও দেয় নি। গোল টেবিলে বসেও নি। চেপ্টা টেবিলেও বসেনি। কারো কাছে ধরণাও দেয় নি। ঢাকা থেকে কেউ আসেও নি। পরামর্শও দেয় নি। মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করে নি। গলা ফাটিয়ে বক্তব্য দেয় নি। রাগারাগি করেনি। আবার বক্তব্য শিখার কসরত করে নি। কিন্ত, অবরোধের তিন ঘণ্টার মাথায় আন্দোলনের ফলাফল ঘরে তুলে নিয়ে নাক ডাকিয় বহুত আরামসে ঘুমালো। হাঁ, এ আন্দোলন শুুধু মানুষের সামান্য আরামের জন্যে। আর কিছু নয়।

এবার দেখি প্রিয় ভাই শহিদ মুযযাম্মিল’র জন্য আমরা কী করলাম? আচ্ছা, মিছিল, মিটিং, সভা, সমাবেশ অনেক করেছি। বক্তব্য অনেক দিয়েছি। কিন্ত, লাভ কী হল?? একটু হিশেব করেন। বলেন লাভ কী হলো? টাকাপয়সার অপচয় হল। মূল্যবান সময় নষ্ট হল। পড়া-লেখার ক্ষতি হল। এদিকে অপরাধীরা বীরদর্পে বুকফুলিয়ে চলা ফেরা করছে। আমাদের কে গালিগালাজ করছে। মুহতারাম শায়খ মুফতী ইউসুফ সাহেবের কবর রচনার হুমকি দিচ্ছে। বিচারের নামে কিছু রাগব বোয়ালদের পেট পালার ব্যবস্থা হচ্ছে। কত্তো দুঃসাহস বাড়িয়ে দিয়েছি আমরা তাদের। তারা বললো যে, বিচার করতে হলে উভয়পক্ষ জামানত দিয়ে দস্তখত সহ বন্দ বান্দ হতে হবে। আমাদের ক্ষতি হয়েছে তা কে দেখবে..? আচ্ছা বুঝলাম তাদের ক্ষতি হয়েছে; কিন্ত হাজারো ঘরবাড়ি কি একজন মানুষের তুলনায় তো কিছুই নয়। একজন নিরপরাধ মানুষকে পুরোপুরি অন্যায়ভাবে হত্যা করে এহেন কথা বিচারের মজলিসে বলছে। কী আজব দুনিয়া!! মুযযাম্মিল দ্বীনের জন্য আপন প্রাণ উৎসর্গ করেছে। আমরা তার জন্য কী করেছি? তার রক্তের বদলা কি আমরা নিতে পেরেছি? তার আত্না শান্ত হবে এমন কোন কাজ কী আমরা করতে পেরেছি…? তার আত্নীয় স্বজনকে কোন শান্তনার বাণী শুনাতে পেরেছি..? তার রক্তের বিনিময়ে ভণ্ডমুক্ত জৈন্তা কী পেয়েছি…? নাহ, কিছুই পাইনি..! আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম ঠিক। এমন একতা হয়ত বা আগে দেখা ও যায়নি। বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধতে হবে সেটা জানি। কিন্ত কে বাঁধবে? কারো সাহস নেই…!

আজ পুরো দুই মাস হয়ে গেল মুযযাম্মিল হত্যার । রাস্তা অবরোধের কোন হদিসই মেলে নি। অথচ তিনঘণ্টায় ফলাফল নিয়ে ঘরে উঠা গেল 10:: গত সপ্তাহে ঢাকায় গিয়েছিলাম। বেশ কয়েকজন জানতে চাইলেন, শহিদ মুযযাম্মিল হত্যার কী হলো…? আমি নিরুত্তর! এত বড় বড় সমাবেশ তো হল। এখন কী অব্স্থা…? নাহ, এরও কোন সদুত্তর আমি দিতে পারিনি। আচ্ছা, একটি প্রশ্ন : মুযযাম্মিল ভাইয়ের বুকের তাজা রক্তের বদলে আমরা কী পেলাম?

উত্তর:..মুযযাম্মিল তাজা খুনের বদলে, আলেমদের রক্তের বদলে আর কিছু হোক না হোক কমপক্ষে ভণ্ডমুক্ত জৈন্তা দেখতে চাই। আমাদের নমনীয়তার ফলে এক সময় পেরেশানী করতে হবে। হয়রানির শিকার হতে হবে।তখন আফসুস ছাড়া কিছুই করার থাকবে না। হে আল্লাহ! শহিদ মুযযাম্মিল কে মাফ করো! তার দরজা বাড়িয়ে দাও! আমাদেরকে মাফ করো! সবাইকে হেফাযত করো! শিরক মুক্ত ঈমান ও বিদআহ মুক্ত আমল করার তাওফিক দাও! আমিন!

Comment

Share.

Leave A Reply