ইমাম বুখারি ও মাযহাবে হানাফি

0

লুকমান হাকিম ::

এক. আমাদের কেউ ইমাম বুখারি রাহ. এর নাম শোনেন নি-এমনটা পাওয়া যাবে না। ইমাম বুখারি রাহ. এক বিস্ময়ের নাম। ছিলেন, প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। গভীর জ্ঞানী ও চিন্তক। নির্মল চরিত্রের অধিকারী। পাহাড়সম দৃঢ় ও অটুট। সততা আর সত্যতার পরীক্ষায় হিমালয় পর্বতসম হিম্মতের মূর্তপ্রতীক। ইলমে হাদীসের মুকুটহীন সম্রাট।
বিশ্বখ্যাত মনীষীদের মাঝে ইমাম বুখারি অত্যুজ্জ্বল এক নাম। তিনি একাধারে ইলমে হাদিসের সঙ্কলক, গবেষক, উস্তাদ, ইসলামি ফিকহের রচয়িতা, উসুলবিদ, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ এবং আরবিসাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনকারী ছিলেন। ইমাম বুখারির আসল নাম মুহাম্মদ। কুনিয়াত আবু আবদুল্ল¬াহ। তাঁর পূর্ণ নাম আবু আবদুল্ল¬াহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন মুগীরা ইবনুল আহনাফ আল জুফি আল বুখারি। ইমাম বুখারি নামেই তিনি সমধিক পরিচিত। বিশুদ্ধতার মাপকাঠিতে তার সংকলন সহীহুল বুখারির অবস্থান কিতাবুল্লাহের পরেই। মুসলমি উম্মাহ তাঁর সাধনার ও মুজাহাদার কাছে চিরঋণী।
মুহাদ্দিসগণ তাঁকে আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস, নাসেরুল আহাদিসীন নববিয়্যাহ উপাধিতে স্মরণ করেন। তিনি মুসতাজাবুদ্দাওয়াহ ছিলেন। এ পৃথিবীতে যেসব প-িত ও মুহাদ্দিসের অক্লান্ত পরিশ্রমের বদৌলতে মহানবি সা.-এর হাদিস লালন ও চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে, ইমাম বুখারি রাহ. তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। তাঁর পিতার নাম আবুল হাসান ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুগীরা। তিনি একজন বড় মুহাদ্দিস ও বুজুর্গ ছিলেন। ইমাম বুখারি হিজরি ১৯৪ সনের ১৩ শাওয়াল জুমুআর দিন উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিত নগরী বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন। ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ নামক রিজালশাস্ত্রের গ্রন্থে ইমাম বুখারি রাহ. এর বরাতে বর্ণনা করা হয়েছে- “ইসহাক বিন আহমাদ খালফ বলেন, আমি ইমাম বুখারি রাহ. কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমার পিতা মালেক বিন আনাস থেকে শুনেছেন, আর তিনি হাম্মাদ বিন জায়েদকে দেখেছেন, তিনি ইবনুল মুবারকের সাথে দুই হাতে মুসাফাহা করেছেন।” (সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১৪ তম তবকা, নং-১৭১, রাবী ইমাম বুখারি।)
ইমাম বুখারির পিতা ইবনুল মুবারক রাহ. এর সাথে দুই হাতে মুসাফাহা করেছেন। হানাফি মাযহাবেও দুই হাতে মুসাফাহা করার কথা বলা হয়েছে।
দুই. ইমাম বুখারি রাহ.-কে পাঁচ বছর বয়সে তার পিতা কুরআন পড়ান। তারপর সর্বপ্রথম তিনি মক্কী বিন ইবরাহীম রাহ. এর কিতাব পড়েন। ইমাম আবদুল্ল¬াহ বিন মুবারকের কিতাব পড়েন। ইমাম সুফিয়ান সাওরির ‘আল জামেউল কুবরা’ পড়েন। আবু হাফস রাহ.-এর কিতাব পড়েন।
এখানে লক্ষ্য করুন, মক্কি বিন ইবরাহীম ইমাম আবু হানিফা রাহ. এর ছাত্র। আবদুল্লাহ বিন মুবারক রাহ.-ও ইমাম আবু হানিফা রাহ. এর ছাত্র। এ দিকে ইমাম সুফিয়ান সাওরি হানাফি এবং ইমাম আবু হাফস রাহ. ও হানাফি। তাহলে ইমাম বুখারি রাহ. এর পড়াশোনা শুরু হানাফি মাযহাবের সাথে সংশ্লি¬¬ষ্ট ব্যক্তিদের কিতাব দিয়ে এবং আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্রদের সুহবত পেয়ে।
তিন. ইমাম বুখারি রাহ.-’র বয়স যখন ১৫/১৬, তখন ২১০ হিজরিতে নিজের পিতা ও ভাই আহমাদের সাথে হজ্ব করেন। তারপর সেখানে হাদিস পড়েন। তাঁদের মাঝে সবচেয়ে বড় উস্তাদ হলেন আবু আবদুর রহমান আল মুকরি। যিনি ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্র। ইমাম বুখারি বসরায় গিয়ে যাঁদের কাছে হাদিস পড়েন, তাদের মাঝে বড় উস্তাদ হলেন ইমাম আবু আসেম রাহ., যিনি ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্র। তারপর আরো একজন বড় উস্তাদ হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আনসারী রাহ.; তিনিও আবু হানিফা রাহ. ’র ছাত্র। তারপর কুফা গেলেন সেখানে যাঁদের কাছে কিতাব পড়লেন, তাঁদের মাঝে বড় উস্তাদ হলেন উবায়দুল্ল¬াহ বিন মুসা। তিনিও ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্র। আরেক উস্তাদের নাম আবুল ফুজাইল রাহ.। তিনিও ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্র। তারপর পড়ার জন্য বাগদাদ গেলেন। সেখানে যাঁদের কাছে পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে বড় উস্তাদ হলেন, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রাহ.। যিনি ইমাম আবু ইউসুফ রাহ.’র ছাত্র। আর ইমাম আবু ইউসুফ রাহ.- ইমাম আবু হানিফা রাহ. ’র বিশেষ ছাত্র।
লক্ষ্য করুন, ইমাম বুখারি রাহ. নিজের শহরে ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্রদের কাছে পড়েছেন। অন্য শহরে গিয়েও আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্রদের কাছেই পড়েছেন।
আবু হানিফা রাহ. ’র জন্মস্থান কুফার সাথে ইমাম বুখারির সম্পর্ক: ইমাম বুখারি রাহ. জ্ঞানার্জনের জন্য যেসব শহরে অধিক সফর করেছেন, তার মধ্যে কুফা নগরী সবার শীর্ষে। সেখান থেকে তিনি সবচেয়ে বেশি ইলম অর্জন করেছেন। এ জন্য বুখারির পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় কুফি রাবির আলোচনা বিদ্যমান। কুফাবিজয়ী হলেন হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রা.। নির্দেশদাতা ছিলেন হযরত উমর রাযি.। আবাদ করার জন্য প্রথম আমীর হিসেবে কুফায় আসেন আম্মার বিন ইয়াসির রাযি.। সেখানের প্রথম শিক্ষক আবদুল্ল¬াহ বিন মাসউদ রাযি.। যাঁরা প্রথমে আবাদ করেছেন ১০৫০ সাহাবিদের মাঝে ৭০ জনই বদরি সাহাবি। আর ৩১৩ জন রাসুল সা. ’র সাথে হজ্ব পালনকারী সাহাবি। তাহলে কুফা আবাদ করার হুকুম দিলেন খলীফায়ে রাশেদ রাসুল সা. ’র প্রিয় সাহাবি হযরত ওমর বিন খাত্তাব রাযি.। কুফা আবাদকারী হলেন নবিজি সা. ’র সাহাবি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাযি.। প্রথম আমীর আম্মার বিন ইয়াসীর রাযি.। প্রথম শিক্ষক আবদল্ল¬াহ বিন মাসউদ রাযি.। আবাদকারী সাহাবীদের মাঝে ৭০ জন বদরি সাহাবি। আর ৩১৩ জন রাসুল সা. ’র সাথে হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারী সাহাবি। এই কুফার সাথে ইমাম বুখারির সম্পর্কের বিবরণ তিনি নিজেই দিচ্ছেন: “আমি সিরিয়া, মিশরে ও জাযিরাতুল আরবে গিয়েছি ২বার এবং বসরায় ৪বার। হেজাযে অবস্থান করেছি ৬ বছর। আর কতবার যে কুফা ও বাগদাদে মুহাদ্দিসদের সাথে গিয়েছি তার কোনো ইয়ত্তা নেই।” (মুকাদ্দিমায়ে ফাতহুল বারী ১/১৪৭)।
ইমাম বুখারি হেজাযে কতদিন ছিলেন মনে আছে। মিশর, সিরিয়া ও জাযিরাতুল আরবে কতবার গেছেন মনে আছে। কিন্তু কুফা আর বাগদাদে অনেক বার গেছেন। একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণ করে ইমাম বুখারি রাহ. ’র কুফার সাথে তাঁর ইলমি নিসবত কতটা গভীর ছিল। এ কারণেই বুখারি শরীফের এমন পৃষ্ঠা খুব কমই আছে- যাতে কুফি বর্ণনাকারী নেই। পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় কুফি রাবি। এটাও সুষ্পষ্ট প্রমাণ ইমাম বুখারি কুফার প্রতি কতটা কৃতজ্ঞ। আসলেই ইমাম বুখারি রাহ. কুফা এবং আহলে কুফার ভক্ত ও অনুরক্ত এবং হানাফি মাযহাবের প্রাণকেন্দ্র কুফার সাথে তাঁর আত্মার সম্পর্ক। কুফার বাসিন্দাদের সাথে ইমাম বুখারির হৃদয়ের সম্পর্ক। ইমাম বুখারি রাহ. যাঁদের কাছে পড়েছেন তাঁদের সম্পর্ক হানাফিদের সাথে। যেসব শহরে গিয়েছেন তাঁদের সাথেও হানাফিদের সম্পর্ক।
চার. ইমাম বুখারি রাহ. প্রায় ২০টির মতো কিতাব রচনা করেছেন। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কিতাবটি হল বুখারি শরীফ। বুখারি শরীফের দিকে আমরা একটু নজর দিই। বুখারি শরীফে শাওয়াহেদ, মুরসালসহ সর্বমোট ৯০০৮২ বর্ণনা আছে। সনদে উল্লেখ আছে তিনি হাদিস শুরু করেছেন তার শায়খ থেকে এবং তার সনদ শেষ করেছেন সাহাবি রাযি. পর্যন্ত গিয়ে। বুখারিতে এমন বর্ণনা অনেক আছে যাতে ইমাম বুখারির শায়খও কুিফ এবং হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবিও কুফাতে অবস্থানকারী। শুধু তাই নয়, এমন বর্ণনাও আছে যার প্রত্যেক বর্ণনাকারী কুফি।
যেমন-

حدثنا عثمانُ قال: حدثنا جريرُ عن منصورٍ عن إبراهيمَ عن علقمةَ قال: قال عبد الله: صلى النبي صلى الله عليه و سلم – قال إبراهيم: لا أدري – زاد أو نقص الخ
(صحيح البخاري، كتاب الصلاة، باب التوجه نحو القبلة حيث كان، رقم الحديث-৩৯২)

সহিহ বুখারির এ বর্ণনাটিতে লক্ষ্য করুন- ইমাম বুখারির শায়খ উসমান, তার শায়খ জারীর, তার শায়খ মানসুর, তার শায়খ ইবরাহীম নাখায়ী, তার শায়খ আলকামা, তার শায়খ আবদুল্ল¬াহ বিন মাসউদ রাযি.। এ হাদিসের সনদের ৬ জন রাবী আছে। আর ৬ জনই কুফি রাবি। শুধু কী তাই? বুখারি শরীফের সর্বশেষ হাদিসের সনদের দিকে লক্ষ্য করুন-

حدثنا أحمد بن أشكاب، حدثنا محمد بن فضيل عن عمارة بن القعقاع عن أبي زرعة عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه و سلم: “كلمتان حبيبتان إلى الرحمن خفيفتان على اللسان ثقيلتان في الميزان: سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم

এ হাদিসের সনদের শুধুমাত্র হযরত আবু হুরায়রাা রাযি. ছাড়া বাকি সকল রাবি কুফি। আহমাদ বিন আশকাব, মুহাম্মদ বিন ফুযাইল, উমারা বিন কা’কা’, আবু জুর‘আ সবাই কুফি। এখান থেকে জানলাম, ইমাম বুখারি যাঁদের কাছে পড়েছেন তারাও কুফি। যাঁদের সনদে হাদিস এনেছেন তারাও কুফি এবং ইমাম বুখারি রাহ.’র সাথে কুফার সম্পর্ক নিবিড়।
পাঁচ. ইমাম বুখারি রাহ. বুখারিতে যেসব হাদিস এনেছেন সনদসহকারে, তাতে ৫টি সনদও আছে। ৪টি সনদও আছে। ৩টি সনদও আছে। ইমাম বুখারি রাহ. ’র সবচেয়ে বড় গর্ব হল- ৩টি সনদের ওপর। সনদ কম হলে হাদিসের মাঝে শক্তি বেশি হওয়ায় ইমাম বুখারির সুলাসিয়াত তথা তিন সনদবিশিষ্ট হাদিসের ওপর গর্ব আছে।
এবার দেখুন, সেসব সুলাসিয়াতের কী হাল? বুখারিতে মোট সুলাসিয়্যাত হল ২২ টি। এ ২২টি সুলাসিয়্যাতের ১১টি সনদে ইমাম বুখারি রাহ.’র শায়খ হলেন-মক্কি বিন ইবরাহীম। যিনি ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্র। এর মাধ্যে ৬ টি হাদিদের বর্ণনাকারী রাবি হলেন-আবু আসেম আন নাবীল রাহ.। তিনিও ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্র। এর মাঝে ৩ তিনটি হাদিসের বর্ণনাকারী রাবি আবদুল্ল¬াহ বিন আনসারী। যিনি ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্র। এর মধ্যে একটি হাদিসের বর্ণনাকারী রাবি হযরত হাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া রাহ.। তিনি কুফি তথা কুফায় অবস্থানকারী ব্যক্তি। এর মধ্যে একজন রাবি হলেন ইসাম বিন খালেদ আল হিমসি। যিনি হিমসের অধিবাসী। এবার লক্ষ্য করুন- ইমাম বুখারি রাহ. যে সুলাসিয়্যাতের ওপর গর্ব, সেই ২২ টি সুলাসিয়্যাতের ২০টির বর্ণনাকারী ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র ছাত্রের। আর একটি ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র নিজের এলাকা কুফার। আর একজন শুধুমাত্র হিমসের অধিবাসী। তাহলে ইমাম বুখারি গর্ব করতে চান, তো ইমাম আবু হানিফা রাহ. ’র ছাত্র ছাড়া করতেই পারেন না।
ছয়. ইমাম আবু হানিফা রাহ. আমাদেরকে সনদসহকারে মদীনার ইলম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। ইমাম বুখারি রাহ.-ও মদীনার ইলম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন সনদসহকারে। লক্ষ্য করুন! ইমাম বুখারি রাহ. আমাদেরকে মদীনায় নিয়ে যাওয়ার সনদ-

حدثنا أحمد بن أشكاب، حدثنا محمد بن فضيل عن عُمَارَة بن القعقاع عن أبي زرعة عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه و سلم…

ইমাম বুখারি রাহ. রাসুল সা. পর্যন্ত সনদ পৌঁছতে মাধ্যম নিলেন ৫টি। আহমদ বিন আশকাব, তারপর মুহাম্মদ বিন ফুযাইল, তারপর উমারা বিন কা’কা’, তারপর আবু জুর‘আ, তারপর আবু হুরায়রা রাযি.। তা হলে ইমাম বুখারি রাহ. আমাদের মদীনায় পৌঁছাতে মাধ্যম বানালেন ৫টি। এবার লক্ষ্য করুন ইমাম আবু হানিফা রাহ. আমাদের মদীনায় পৌঁছাতে কয়টি মাধ্যম ব্যবহার করেন-

عن أبي حنيفة عن عبد الله بن أنيس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم…
عن أبي حنيفة عن عبد الله بن أبي أوفى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم…
عن أبي حنيفة عن عبد الله بن حارث قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم…
عن أبي حنيفة عن جابر بن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم…

ইমাম বুখারি রাহ. যেখানে আমাদের মদীনায় পৌঁছাতে ব্যবহার করেন ৫টি মাধ্যম। আর ইমাম আবু হানিফা রাহ. সেখানে ব্যবহার করেন মাত্র একটি মাধ্যম। তিনি বর্ণনা করেন সরাসরি হযরত আবদুল্লাহ বিন উনাইস রাযি. থেকে। হযরত আবদুল্লাহ বিন আবী আওফা রাযি. থেকে। হযরত আবদুল্লাহ বিন হারেস রাযি. থেকে। হযরত জাবের বিন আবদুল্লাহ রাযি. থেকে। যেহেতু আমরা মদীনার ইলমে পৌঁছতে চাই। আর সেখানে পৌঁছতে ইমাম বুখারির মাধ্যম বেশি আর ইমাম আবু হানিফা রাহ. ’র মাধ্যম কম। তাই আমরা ইমাম বুখারি রাহ. কে রেখে ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র তাকলীদ করে দ্রুত মদীনার ইলমের শহরে পৌঁছে যাই।
সাত. ইমাম বুখারি রাহ. এর কাছে তাঁর কিতাব ৯০ হাজার ছাত্র পড়েছেন। কিন্তু বুখারি শরীফের সনদ প্রসিদ্ধ চারজনের মাধ্যমে।
১. ইবরাহীম বিন মা’কাল বিন হাজ্জাজ আন নাসাফি রাহ. মৃ. ২৯৪ হি.।
২. হাম্মাদ বিন শাকের আন নাসাফি রাহ. মৃ. ৩১১ হিজরি।
৩. মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল ফিরাবরি রাহ. মৃ. ৩২০ হিজরি।
৪. আবু তালহা মানসুর বিন মুহাম্মদ রাহ. মৃ. ২৬৯ হিজরি।
লক্ষ্য করুন! ৯০ হাজার ছাত্রের মাঝে সহিহ বুখারিতে যে চারজনের সনদ প্রসিদ্ধ এর মধ্যে প্রথম দুইজন তথা ইবরাহীম বিন মা’কাল বিন হাজ্জাজ আন নাসাফি এবং হাম্মাদ বিন শাকের আন নাসাফি ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র মুকালি¬দ। তা হলে বোঝলাম, ইমাম বুখারি রাহ. যাঁদের কাছে পড়েছেন তারা হানাফি। যে শহরে বেশি গেছেন সেটাও হানাফি। যাঁদের মাধ্যমে সহিহ বুখারি শরিফ অধিক প্রচারিত হয়েছে তাঁরাও হানাফি।
অবশেষে
সহিহ বুখারি উলামায়ে হানাফির অবদান
সহিহ বুখারি উলামায়ে হানাফির আহ্বান।
উলামায়ে হানাফি সহিহ বুখারির তরজুমান
উলামায়ে হানাফি সহিহ বুখারির খাদিমান।

লেখক : শিক্ষক, জামেয়া ইসলামিয়া ফরিদাবাদ সিলেট

Comment

Share.

Leave A Reply