ডাক্তার যখন ডাকাত! 

0

ইমদাদুল হক নোমানী
সম্পাদক, কওমিকণ্ঠ

মানুষ মাত্রই কমবেশ অসুস্থ হয়। একজন রোগী শারীরিক দূর্বলতার পাশাপাশি মানসিকভাবেও অস্থির ও ক্লান্ত থাকে। তাই নিজেকে সবচে’ নিরুপায় ও দুর্বল মনে করে অন্যের সাহায্য, সহানুভূতি ও সদয় আচরণ প্রত্যাশা করে। একসময় ছুটে যায় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তারই পারে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে উজ্জিবিত করতে। কখনো কখনো ওষুৃধের চেয়ে মনোবল তৈরীই মৌলিক চিকিৎসা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ডাক্তারী পেশা আজ এতটাই বাণিজ্যিক যে, সেবা শুধুই প্রতীকী ব্যাপার!

আগের যুগে মানুষ ডাক্তার হতো, হতে চাইতো। কারণ এর মাধ্যমে মানুষের সেবা করা যায়, দুঃস্থ-মুমূর্ষু মানুষের পাশে দাঁড়ানো সহজ হয়। এ যুগেও কিছু কিছু অসাধু ছাত্র-ছাত্রী ডাক্তার হতে চায়, মা-বাবারাও সন্তানদের ডাক্তার বানানোর ইচ্ছে করে। এতে ইনকাম ভালো, ফিউচার উজ্জ্বল। সেবার প্রতীক এপ্রোন পরে নির্দয়ভাবে চুটিয়ে বেহিসাবী টাকা সহজেই কামাই করা যায়!

যেহেতু অফুরন্ত টাকা ইনকামই একমাত্র ও মুখ্য লক্ষ্য, তাই ডাক্তারী পেশা আজ দানবের পেশায় পরিণত হয়েছে। এমন কোনো পথ নেই, যে পথে তাদের টাকা নদীর স্রোতের মতো আসে না। রোগী দেখা বলতে যা বোঝায় তাকে গড়ে এক মিনিটের দর্শনই বলা যুক্তিযুক্ত। তাতেই চার্জ ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা। হিসাব সহজ। টাকা খরচ করে ডাক্তার হয়েছে। সুতরাং শায়লকের মতো সুদে-আসলে তার আদায় চাই। রোগীর সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনা, রোগ অনুসন্ধানের চেষ্টা করা, রোগীকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করার জন্য প্রয়োজনীয় আলাপ ও সুপরামর্শ প্রদান- এসব অনেক আগেই ডাক্তারদের আচরণ থেকে লোপ পেয়েছে। পক্ষান্তরে যোগ হয়েছে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রেসক্রিপশনে অতিরিক্ত ঔষধ লিখে ক্লিনিক ও ঔষধ কোম্পানির লোকদের খুশি করা!

অপরদিকে ডায়াগনোসিসের জন্য যে প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় টেস্ট করানো হয় সেখানেও ডাক্তার মশাইদের অংশ থাকে। ঔষধ কোম্পানির লোকদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, টিভি, ফ্রিজ, ওভেন, মোবাইল সেট সহ নামী-দামী ঘূষ উপহার হিসাবে পেতে অপ্রয়োজনীয় ও বেশী-বেশী ঔষধ লেখাও ডাকাত ডাক্তারদের কামাই’র পথ।

কিছু কিছু ডাক্তারদের আয়ের পথ বড়ই বৈচিত্রময়! রহস্যময়ও বটে! অ্যাসিডিটি জনিত পেট ব্যথাকে এপেনডিসাইটের ব্যথা বলে রোগীকে অপারেশন করানো। সামান্য কিছুতেই আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, এক্সরে, স্ক্যানিং এসব একেবারেই মামুলি বিষয়। সব থেকে মজার ব্যাপার হলো গর্ভবতী কোনো মহিলা, ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হওয়া মানেই তার কপালে সিজারিং ডেলিভারী অবধারিত। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক পদ্ধতিটি যেন অঘোষিতভাবে বিলুপ্ত। পক্ষান্তরে ভূল চিকিৎসা, অপ্রয়োজনীয় অপারেশন, অপারেশনের সময় পেটের মধ্যে তুলা, গেজ, কাঁচি ইত্যাদি রেখেই সেলাই করার মতো লোমহর্ষক প্রভূত অভিযোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি অবহেলা-অদক্ষতার কারণে রোগীর মৃত্যু, অপারেশনের নামে কিডনি চুরির খবরও পত্রিকা/টিভির মাধ্যমে প্রায়শই শোনা যায়। মামলা-মোকদ্দমার জন্য, বিভিন্ন অফিসের চাকরিজীবীদের ছুটিছাটাতে এবং ফিজিক্যাল ফিটনেসের মিথ্যা সার্টিফিকেট দিয়েও ডাক্তারবাবুরা ভালো আয় করেন। এ অবস্থা চলছে। ক্রমশ বাড়তেই আছে। কিন্তু আর কতকাল…?

Comment

Share.

Leave A Reply