কোটা সিস্টেম ও এলোমেলো ভাবনা

0

মহিউদ্দিন কাসেমী ::

এক বৃদ্ধের নাতির কপালে গুলি লেগে মারা যায়। খবর পেয়ে গ্রাম থেকে বৃদ্ধ এসে হাজির। লাশ দেখে মর্মাহত বৃদ্ধ বলে উঠলেন যাক অল্পের জন্য কপালে গুলি লেগেছে চোখটা তো বেচে গেছে।
দেশে চলছে কোটাধারিদের রামরাজত্ব সেখানে সরকারী চাকুরির খাত কোটামুক্তির আন্দোলন আমাকে সেই বৃদ্ধের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
যাইহোক একটা প্রতিষ্ঠিত যুক্তি দিয়ে না হয় আন্দোলন চলছে স্বীকৃত কোটাপ্রথার বিরুদ্ধে। একবারো কি কেউ ভেবে দেখছেন শতভাগ কোটামুক্ত হলেও সেই সরকারী চাকুরীগুলো ওরাই পাবে যারা আজ কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিরুদ্ধে গিয়ে সরকারের পক্ষে দাড়িয়েছে? দেশজুড়ে চলা একশ পারসেন্ট আওয়ামী কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সাহস কি কারো আছে?
উপজাতিদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু তাদের বাঙ্গালি হতে বলেছিলেন, তারা এড়িয়ে যায়। বাঙ্গালিদের সাথে সমান প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আবার তাদের জন্য কেন ৫% কোটা রাখতে হবে?
মুক্তিযোদ্ধা! উনারা তো দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। উনাদের সন্তানদের তো আর দেশের সেবা দেয়ার দরকার নেই। যারা তখন দেশের জন্য কিছু করতে পারেনি তাদের সন্তানদের দেশের জন্য কিছু করতে দিন।
জাল কার্ড ও সত্যিকার কার্ডধারী সামান্য কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের জন্য যদি ত্রিশ পারসেন্ট চাকুরি বরাদ্দ দেয়া লাগে তাহলে ত্রিশ লক্ষ শহিদের সন্তান ও নাতিপুতির জন্য পুরো দেশটা লিখে দিন না।
লেবু বেশি কচলালে তিতা হয় কে না জানে? মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম তৈরি করে সমাজ বিভাজনের মুলহোতারা টের পায়নি যে এতদিনে তারা মূলত মুক্তিযোদ্ধাসন্তানদের এক ধরণের ঘৃণার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এখন তো সন্তান ও নাতির পর্যায়ে আছে যখন পুতির পর্যায়ে যাবে আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা পঞ্চাশে উন্নীত হবে তখন তো মনে হয় দেশে মুক্তিযোদ্ধা আর অমুক্তিযোদ্ধার আলাদা যুদ্ধ হবে।
এবার আসুন অন্য চিন্তা করি। মেধাবিরা কেন চাকুরির জন্য লড়ছে? কোথায় তাদের যোগ্যতা? কোথায় তাদের ক্রিয়েটিভিটি? চাকুরির বাইরে তারা কি সমাজকে সৃজনশীল কিছু দেয়ার জন্য ভাবছে কখনো?
নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য তো আপনি ও আপনার সন্তান গিয়েছিলেন জান্নাততূল্য পাবলিক ভার্সিটির দোরগোড়ায়। গড়ে কত টাকা বেতনের জন্য আজ রাস্তায় মার খাচ্ছেন? কোথায় আপনার নিশ্চিত ভবিষ্যৎ? এ তো মাত্র একটা নমুনা। চাকুরিতে যোগদান আর তা টিকিয়ে রাখতে আরো কতো প্রহসনের শিকার হতে হয় তা তো এখন ওপেন সিক্রেট।
এলোমেলো অনেক কথাই লিখলাম। সর্বশেষ যেটা বলবো কোটা ব্যবস্থা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও অপাংক্তেয়তার একটি মাত্র দিক। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র যখন ব্যর্থতার দিকে এগুচ্ছে, লক্ষ কোটি মানুষ যখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চলছে সেখানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সফলতায় সামান্য কিছু চাকুরিজিবীর কর্মসংস্থান আর দেশের জন্য কিই-বা বয়ে আনবে?
যাই হোক সরকার বাহাদুর সক্ষম হয়েছে যে কোন ভাবেই এ আন্দোলনকে হাতের মুঠোয় পুরতে। এজন্য ধন্যবাদ পেতেই পারেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা।
এক মাস অনেক লম্বা সময় এর মধ্যে কোটা কে ল্যাবরেটরীতে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। এ আন্দোলনের হোতাদের দুইভাগে ভাগ করে একভাগকে পাশ আরেকভাগকে বাঁশ দিয়ে কোটা আন্দোলনের নাম চিরতরে বাংলার জমিন থেকে মুছে দেয়া হবে।
আমরাও শান্তি চাই।

Comment

Share.

Leave A Reply