কাকরাইলে বিশৃঙ্খলার নেপথ্য কারণ মাওলানা সা’দের চিঠি

0

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী দাওয়াতে দ্বীনের সর্ব বৃহৎ সংগঠন তাবলিগ জামাতের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গত কয়েকদিন ধরে এ দ্বন্দ্ব চরমে। সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় একটা সাময়িক সমাধান হলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

চলতি মাসের ১৪ তারিখ দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে বাংলাদেশি সাথীদের ৩ দিনব্যাপী জোড় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক শুরা সদস্যদের বাধা উপক্ষো করে কয়েকজন শুরা সদস্য ও সাধারণ অনেক সাথী এ জোড় ইজতেমায় অংশগ্রহণ করে। এ নিয়েই কাকরাইল মারকাজে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়।

দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে ঢাকা আসলেও ইজতেমা মাঠে যেতে পারেননি। প্রচণ্ড বাধার মুখে তিনি কাকরাইল মারকাজে অবস্থান করেন। পরে ইজতেমায় অংশ না নিয়ে দিল্লি ফিরে যান।

কাকরাইল মারকাজে থাকাকালে তিনি আগামী বছরের ইজতেমা ও দিল্লির নিজামুদ্দিনের জোড়ের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। ২০০৪ সালের পর নিজামুদ্দিন মারকাজে বাংলাদেশিদের কোনো জোড় হয়নি। যা এবার আবার শুরু হয়।

১৪ থেকে ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জোড় থেকে মাওলানা সাদ কান্ধলভি কাকরাইল মারকাজে এক চিঠি প্রেরণ করেন। তাতে তিনি তার দুই অনুসারিকে কাকরাইল মারকাজের শুরার ফয়সাল হিসেবে শামিল করার আহ্বান জানান-

media

কাকরাইল মারকাজে প্রেরিত চিঠিতে মাওলানা সাদ বলেন-
আল্লাহ তাআলার মহান সত্ত্বার ইচ্ছায় সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন এবং দ্বীনের দাওয়াতের মেহনতে মশগুল আছেন। আল্লাহ আপনাদের এ উঁচু মেহনত কবুল করুন এবং হেদায়েত আম হওয়ার মাধ্যম বানান। আল্লাহ একান্ত দয়া ও মেহেরবানিতে আপনারা নববি মেহনত চালিয়েছেন এবং জামাত আকারে বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে এ দাওয়াত পৌঁছিয়েছেন।

‘আল্লাহ এ দয়ার মূল্যায়ন এই যে, এ কাজকে নববি আদর্শের ভিত্তিতে এবং সাহাবাদের জীবনের আলোকে পরিচালিত করা। কেননা তারা সর্বযুগের নমুনা ও আদর্শ। আর এটাই হেদায়েত আম হওয়ার উপায়। যেমনটি প্রথম যুগে হয়েছে।

এ কাজে যে পরিমাণ একিন আসবে আল্লাহ অদৃশ্যভাবে তাতে অকল্পণীয় সাহায্য করবেন। সুতারাং এ মেহনতে নিজেদের আত্মত্যাগ বাড়াতে হবে। কেননা ত্যাগই আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও তার কাছে কবুল হওয়ার মাধ্যম।’

চিঠিতে তিনি আরো বলেন, আল্লাহর রহমতে মেহনতের কাজ দিনদিন বাড়ছে এবং কাজের তাগাদাও বাড়ছে। আপনাদের শুরার কয়েকজন সাথী বিভিন্ন অসুবিধার কারণে মাশওয়ারায় উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এই প্রয়োজনকে সামনে রেখে আপনাদের নিজামুদ্দিন আগমনের সময় মাশওয়ারার মাধ্যমে এই ফয়সালা হয়েছে যে, মাওলানা মোশারফ সাহেব এবং প্রফেসর ইউনুস সাহেবকেও কাকরাইল শুরার ফয়সাল হিসেবে শামিল করে নেবেন।

‘আল্লাহ পাক দাওয়াতের মেহনতের দূরদৃষ্টি ও মৌলিকত্ব আমাদের সবাইকে দান করুন। আমিন । সবাই নামাজ পড়ে দোয়া করুন যাতে আল্লাহ মৃত্যু পর্যন্ত চলা সহজ করে দেন।’

ইতিপূর্বে একই প্রক্রিয়ায় নিজামুদ্দীনের মারকাজ থেকে আসা চিঠির মাধ্যমে কাকরাইলের ৪ জন মুরুব্বিকে শুরার ফয়সাল নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১১ সালে ফয়সাল নির্বাচিত শুরা সদস্যরা হলেন- মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা রবিউল হক, ওয়াসিফুল ইসলাম ও খান সাহাবুদ্দিন নাসিম।

উল্লেখ্য যে, নতুন করে কাকরাইল মারকাজের এ উত্তেজনা মাওলানা সাদ কান্ধলভির এ চিঠিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে। মাওলানা সাদ কান্ধলভির চিঠির নির্দেশ বাস্তাবয়ানের জন্য তার অনুসারীরা গত শুক্রবার চেষ্টা করলে এ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

বিশৃঙ্খলার কারণ হলো- বাংলাদেশসহ বিশ্বের আলেমদের আপত্তি ও বাধা সত্ত্বেও মাওলানা সাদ পুরনো বিষয় থেকে সরে না এসে বরং নতুন করে বাংলাদেশের দুজন সদস্যকে শুরায় যুক্ত করার নির্দেশ দেন। যা বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের মারকাজ কাকরাইলে এক বাড়তি ক্ষোভ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিশৃঙ্খলা দমনে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

Comment

Share.

Leave A Reply