মাদরাসা সুপারের মাথায় মল দেয়ার ঘটনায় ৩ জন গ্রেপ্তার

0

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে একটি মাদরাসার জমি দখলে বাধা এবং পরিচালনা কমিটির গঠন ও জামায়াত ইসলামী মাতাদর্শের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতে না পেরে মাদরাসার সুপারকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। স্থানীয় জামায়াত শিবির সমর্থকরা ওই শিক্ষককে শায়েস্তা করতে মাথায় মানুষের মল ঢেলে দিয়েছে।

এই ঘটনায় রবিবার রাতে বাকেরগঞ্জ থানায় মাদরাসার সুপার মাওলানা আবু হানিফ বাদী হয়ে ১৪জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, জামায়াত সমর্থক মিনজু হাওলাদার (৪৫), সে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মৃত মো. হাসেম মুসল্লির ছেলে ও দায়েরকৃত মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

রাজাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদারের ছেলে মো. মিরাজ হোসেন সোহাগ, সে মামলার ৮নম্বর এজাহারভুক্ত আসামী এবং মো. বেল্লাল হোসেন (২৫) বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের নূর মোহাম্মদের ছেলে। তাকে ফেসবুকে প্রকাশিত লাঞ্ছনারর ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করা হয়।

আবু হানিফ বলেন, অনেক আগে থেকে স্থানীয় জামায়াত শিবির অনুসারীরা মাদরাসা ও এর জমি দখল করার চেষ্টা করছিল। এই চক্রটি নানাভাবে বিনা অনুমতিতে মাদরাসার জমিতে বিভিন্ন কার্যক্রম করে আসছিল। আমি এতে বাধা দিই। এ নিয়ে মামলাও চলছে। আমি মামলার বাদী। এ কারণে ওরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত। স্থানীয় মসজিদে মিলাদ ও মোনাজাত করতে দেয় না ওই মহলটি।

তারা জামায়াত ইসলামির তরিকা অনুযায়ী কাজ করছে। এতে আমি প্রায় সময়ে প্রতিবাদ করি। কাঠালিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাৎ দাখিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মনোনীত ব্যক্তিকে। এসব কারণে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল এবং ও মাদরাসা থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে। শেষ পযর্ন্ত তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ত্ দিতে অস্বীকৃতি জানালে লাঞ্ছনাকারীরা জোটবদ্ধ হয়ে জাতীয়পার্টি নেতা জাহাঙ্গীরকে সামনে রেখ ন্যক্কারজনক এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আঃ হক বলেন, মাদরাসার সুপারের সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। জমি ও মাদরাসার দখল ও কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে বিরোধের জের ধরে শরীরে মল ঢেলে দেয়া হয়েছে। মাদরাসা সুপার থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সাথে সাথে মামলা রুজু করে এজাহারভুক্ত দুইজন ও ফুটেজ দেখে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

এ দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আজ বেলা সাড়ে ১২টার সময়ে প্রেস ব্রিফিং করেন বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম পিপিএম। তার কার্য্যলয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংএ তিনি বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা যযারা ঘটিয়েছে, তাদের কোনও ধরনের ছাড় নেই। আশা করছি খুব অল্প সময়ে মধ্যে এঘটনার সাথে জড়িত সকলকেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।

ঘটনার সাথে জড়িতদের বেশিরভাগ জামায়াত শিবির অনুসারী কি না এ প্রশ্নের উত্তরের পুলিশ সুপার বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Comment

Share.

Leave A Reply