শবে বরাতের করণীয় ও বর্জনীয় আমল

0

সালেহ মশহুদ ::

আল্লাহ তা’লার নিরান্নব্বইটি সিফাতি নামের মধ্যে “খালিক” হচ্ছে একটি নাম। আর তিনি “কুন” (হয়ে যাও) শব্দের দ্বারা সকল মাখলুক সৃষ্টি করেছেন।একারণে মানব পিতা আদম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজ কুদরতি হাত দ্বারা সৃষ্টি করে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন একটি উদ্দেশ্যে। সে উদ্দেশ্যটি হচ্ছে নিছক তাঁর ইবাদত করা। আমরা আদম আলাইহিস সালামের সন্তান হিসেবে আল্লাহ তা’লার আদেশ-নিষেধ পালনের ক্ষেত্রে অনেক অবাধ্যতা করে ফেলি। যে কারণে আমরা তার কাছে পাপী হয়ে যাই। আর পাপ হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ, আমরা তো কোন নবী-রাসূল নই যে, আমাদের পাপ হবে না।আমরা পাপ করার পর তাঁর কাছে লজ্জিত হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করবো। তিনি ক্ষমা করবেন।কারণ, তিনি “গাফ্ফার”। আমরা যে কোনো দিন যেকোন সময় তাঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারি। তবে বৎসরে এমন একরাত রয়েছে, যে রাতে স্বয়ং আল্লাহ তা’লা প্রথম আসমানে আমাদের জন্য ক্ষমার বার্তা নিয়ে এসে বলেন- কে আছো ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আজ যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে তাকে আমি ক্ষমা করে দিবো। এভাবে ফযর পর্যন্ত ডাকতে থাকেন। এ মহান রাত হলো শা’বানের ১৫ তারিখের রাত্রি। যাকে আমরা শবে বরাত নামে চিনি।
শবে বরাত অর্থ মুক্তির রাত। এ রাত সম্পর্কে অনেকেই বলেন যে, কুরআন-হাদিসে এ রাতের মর্যাদার কথা উল্লেখ নেই। তাই তারা এ রাতের ইবাদত করাকে বিদঅাত বলেন। তাদের জবাবে মাওলানা তাকি উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেন, এ রাতের মর্যাদা সম্পর্কে ১০জন সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা রয়েছে।অবশ্যই এর কোন কোনটির সনদ দুর্বল। আর মুহাদ্দিস ও ফক্বিহগণের ফয়সালা হল, কোন একটি হাদিসে যদি সনদগত দুর্বলতা দেখা দেয়, তবে ভিন্ন হাদিস দ্বারা তা সমর্থিত হয় তাহলে এ সমর্থনের কারণে তার দুর্বলতা রহিত হয়ে যায়। সুতরাং এ রাতের ফযিলত সম্পর্কে অন্তত ১০জন সাহাবী থেকে হাদিস বর্ণিত থাকার কারণে তাকে ফযিলতহীন বলা ভুল।
এ রাতে হাদীস ও ফেক্বাহ শাস্ত্রের আলোকে কয়েকটি আমলের কথা উল্লেখ রয়েছে।
১. রাত্রি জাগরণ করা অর্থাৎ সুবহে সাদিক পর্যন্ত নফল ইবাদত করা।
২. পরেরদিন রোজা রাখা।
৩. বিশেষ করে এ রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রিযিক ও সুস্থতা চাওয়া।
৪. কবর জিয়ারত করা।
৫. এ রাতে গোসল করা মুস্তাহাব। কিন্তু বর্তমানে আমরা এই আমলগুলো না করে কয়েকটি বিদঅাত কাজ করছি, যেগুলোর গুনাহ সবার উপর আরোপিত হচ্ছে। তা হলো-
১. সিন্নির ব্যবস্থা করা। এটা প্রচলিত হয়েছে ঈসালে সওয়াব করতে গিয়ে এভাবে যে, এরাতে ধনী লোকেরা গরীব লেকদেরকে হালুয়া-রুটির ব্যবস্থা করে খাওয়ায়, তাদের আত্মীয় স্বজনের ঈসালে সওয়াবের জন্য।
২. আগরবাতি ব্যবহার করা। আর তা প্রচলিত হয়েছে হিন্দুদের দেওয়ালি পূজা থেকে।
৩. মসজিতে মোমবাতি দান করা। সেটা একসময় মসজিদে বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিলোনা তাই লোকেরা দান করতো। কিন্তু এখন মসজিদে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে।
৪. কেউ কেউ ভুল ধারণা করেন যে, এ রাতে নির্দিষ্ট নামায রয়েছে।
৫. এ রাতে মেহেদী বা সাজ-সজ্জা গ্রহণ করা।
এ বিদঅাতগুলো উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ।
তাই আসুন! আমরা এই বিদআতগুলো পরিহার করি।কারণ, নবী সা: বলেছেন, “প্রত্যেক বিদঅাত পথভ্রষ্ট”। আর আমরা পূর্বে উল্লেখিত আমলগুলোর প্রতি যত্নবান হই।

Comment

Share.

Leave A Reply