ইফতারে ছোলা কেন খাওয়া হয়?

0

ইফতারের থালা ছোলা ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ। বলুন তো ইফতারে ছোলা কেন খাওয়া হয়? যদি ভেবে থাকেন চপ, পেঁয়াজু, বেগুনির মতোই ছোলাও শুধু মুখরোচক খাবার হিসেবে রাখা হয় তবে সেটা হবে ভুল ধারণা। কারণ ছোলা এমনই এক পুষ্টিকর খাবার যা আপনার সারাদিনের রোজার ক্লান্তি দূর করতে পারে। ছোলায় আমিষের পরিমাণ মাংস বা মাছের আমিষের পরিমাণের প্রায় সমান। ছোলার ডাল, তরকারিতে ছোলা, সেদ্ধ ছোলা ভাজি, ছোলার বেসন- নানান উপায়ে ছোলা খাওয়া যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। খাওয়ার পর খুব তাড়াতাড়িই হজম হয়ে গ্লুকোজ হয়ে রক্তে চলে যায় না। বেশ সময় নেয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভালো।

ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগই পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়াও আছে ভিটামিন বি­­-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়াম। এ সবই শরীরের জন্য কাজে লাগে।

ছোলায় খাদ্য-আঁঁশও আছে বেশ। এ আঁঁশ কোষ্ঠ কাঠিন্যে উপকারী। খাবারের আঁঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। এতে কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর হয়। ফলে খাদ্যনালীর ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কমে।

রক্তের চর্বি কমাতেও সহায়ক খাদ্যের আঁঁশ। আরও নানান শারীরিক উপকার আছে খাদ্য-আঁঁশে। দেরিতে হজম হয়, এরূপ একটি খাবার হচ্ছে ছোলা।

Comment

Share.

Leave A Reply