সারা দেশে বন্দুক যুদ্ধে ৯ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

0

সোমবার দিবাগত রাতে সারাদেশের ছয় জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নয় মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। জেলাগুলো হলো ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও সাতক্ষীরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি তারা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিজেদের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৮ মে) দিবাগত রাতে এসব ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ১৫ দিনে ১০৫ জন নিহত হলো।

ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে মোটামুটি সামগ্রিক সংবাদ তুলে ধরা হলো:

ঢাকা : রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন আশিয়ান সিটি মাঠ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তার নাম সুমন মিয়া ওরফে খুকু সুমন (৩২)। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণখান থানার সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের কাছে সংবাদ আসে কিছু মাদক ব্যবসায়ী আশিয়ান সিটির মাঠে অবস্থান করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এতে মাদক ব্যবসায়ী সুমন গুলিবিদ্ধ হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার ইয়াবা, একটি ওয়ান শুটার গান, দুটি গুলি ও চারটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।

দক্ষিণথানা পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত পোনে ২টায় মৃত ঘোষণা করে বলে জানায় পুলিশ।

যশোর : সোমবার (২৮ মে) দিবাগত রাতে যশোরে গুলিবিদ্ধ দুটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশ দাবি করেছে।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমল হুদা জানান, শহরের চাঁচড়া রায়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে নিহত হন ওই এলাকার মানিক (২৭) ও সদর উপজেলার মণ্ডলগাতি গ্রামের আহসান আলী (৫৬)। নিহত দুজনই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, মানিকের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় ৯টি ও আহসান আলীর বিরুদ্ধে ১১টি মাদক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি দেশি পিস্তল, দুটি গুলি ও ৫টি গুলির খোসা এবং ৬০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, এর আগে সদর উপজেলার নোঙ্গরপুর এলাকা থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। যশোর কোতয়ালী থানার ওসি আজমল হুদা জানান, একদল ডাকাত গাছ কেটে সড়ক ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় গ্রামবাসী তাদের ধাওয়া দেয়। এসময় ডাকাতদের একজনকে ধরে ফেলে গণপিটুনি দেয় তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি জানান, গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তির নাম বুলি (৫৬)। তার বাড়ি সদর উপজেলার হাশিমপুর গ্রামে। তার বিরুদ্ধে ১৪টি ডাকাতির মামলা রয়েছে বলেও ওসি জানান।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত ডাক্তার শফিউল্লাহ সবুজ বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ওই তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, রায়পাড়ায় নিহত দুই ব্যক্তির মাথার খুলি গুলিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছেন। তারা হলেন মোকাদ্দেশ হোসেন (৪২) ও ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল(৪৮)। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় তাদের তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেয়ালা বটতলা মাঠে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর আলী জানান, মাদক দ্রব্য কেনাবেচার জন্য একদল মাদক ব্যবসায়ী দৌলতপুর উপজেলার শেয়ালা বটতলা মাঠে অবস্থান করছিল। এ সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, মোকাদ্দেশ হোসেন ও ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। এদের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের ৮টি করে মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলম, আবদুর রাজ্জাক ও কনস্টেবল সুজিত কুমার আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি এলজি, ৫টি গুলি, একটি পিস্তলের ম্যাগজিন ও ২৫০টি ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।

কুমিল্লা : মুরাদনগরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছেন। তারা হলেন বাতেন ও রিটন ওরফে লিটন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুরাদনগরের গুঞ্জর বেড়িবাঁধের পাশে একটি ইট ভাটার সামনে থেকে দুজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও মুরাদনগর থানার ওসি মঞ্জুর আলমের নেতৃত্বে বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওত পেতে থাকা মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে লিটন ও বাতেন আহত হয়। পুলিশ দুজনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা মারা যায়। তাদের সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মুরাদনগর থানা পুলিশের এসআই মোজাম্মেল, এসআই মাসুদুর রহমার ও এসআই রোকন আহত হয়।

পুলিশ জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪০০ বোতল ফেনসিডিল, একটি পাইপগান ও একটি কার্তুজ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, নিহত মাদক ব্যবসায়ী বাতেনের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় ৮টি ও লিটনের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। এ নিয়ে ৭ দিনে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১০ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হলো।

ময়মনসিংহ : পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মিজান (৪৫)নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত বলে পুলিশের দাবি। সোমবার (২৮ মে) দিবাগত রাত সোয়া ২টায় ভালুকার পাড়াগাও চটনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ভালুকা থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ ও এএসআই শাহ আলম গুরুতর আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল হতে ১০০ গ্রাম হেরোইন, তিনটি গুলির খোসা, ১টি রামদা, ১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আশিকুর রহমান রাতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, মাদক ভাগাভাগির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ গুলি করে। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে এলাকা তল্লাশির সময় মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি মো. মিজানকে (৪৫) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত মিজানের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, ডাকাতিসহ ৮/৯টি মামলা আছে বলেও জানায় পুলিশ।

সাতক্ষীরা : কলারোয়ায় আনিসুর রহমান (৪০) নামের এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তিনি মাদক ব্যবসায়ী।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ জানান, গতকাল রাত সোয়া ২টায় তার কাছে খবর আসে যে দেয়াড়া ইউনিয়নের পিপলাপোলের মাঠে মাদক চোরাচালানিদের দুটি পক্ষ মাদক ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করছে। এ খবর পেয়ে খোরদো পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে তাদের বিরত করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

ওসি আরো জানান, কিছুক্ষণ পর গোলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনিসুর রহমানের। তিনি কলারোয়ার পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলায় ১০টি মামলা রয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে, নিহতের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, তার স্বামীকে সোমবার সকালে বাড়ি থেকে সাদা পোশাকধারী লোকজন তুলে নিয়ে যান। পর%

Comment

Share.

Comments are closed.