আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরীর কবর থেকে সুঘ্রাণ বের হচ্ছে

0
ইলিয়াস মশহুদ : ওলি-আউলিয়ার রাজধানীখ্যাত সিলেট জেলার কানাইঘাটের আধ্মাত্মিক মনীষী, শায়খুল হাদিস আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রাহ.’র কবর থেকে আতরের ন্যায় অলৌকিক সুগন্ধ র্নিগত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ নিয়ে, এলাকাসহ বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আলেম-উলামাসহ সাধারণ লোকজন ছুটে আসছেন একটুখানি ঘ্রাণ শুঁকার জন্য। রমজানের এই সময়েও লোকে লোকারণ্য দারুল উলুম কানাইঘাট মাদরাসা ও মাকবারা প্রাঙ্গন।
গত শুক্রবার (৮ জুন) থেকে আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রাহ’র কবর জিয়ারত করে  বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে বলে কওমিকণ্ঠকে জানিয়েছেন দারুল উলুম মাদরাসার ফাযিল ও জমিয়তে বাংলাদেশের কেন্দ্রী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আসআদ আহমদ।
জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় ৪৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ, বিদ্যাসাগরখ্যাত মাওলানা মুশাহিদ বায়মপুরী রাহ. ইন্তেকাল করেন।
এ সর্ম্পকে দারুল উলুম কানাইঘাটের শায়খুল হাদীস ও জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের আমীর মাওলানা আলিম উদ্দীন দুর্লভপুরীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এমন ঘটনা তাঁর ইন্তেকালের পর এবারসহ চারবার ঘটলো।
মাওলানা আসআদ আহমদ মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে তার উস্তাদের বরাত দিয়ে জানান, ১৯৭১ সালে হযরতের ইন্তেকালের পর অনেক দিন পর্যন্ত তাঁর কবর থেকে সুগন্ধি বের হতে থাকে। সে সময় লোকজন কবরের মাটি খুঁড়ে নিতে শুরু করে।
দ্বিতীয়বার, হযরতের ইন্তেকালের ৩ মাসের মাথায় আবারো কবর থেকে সুগন্ধি বের হয়।
এরপর ২০১১ সালে তৃতীয়বার এবং সর্বশেষ গত ৮ জুন শুক্রবার থেকে এই সুঘ্রাণ বের হতে থাকে।
এলাকাবাসী ও মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর প্রতিদিনের ন্যায় ছাত্ররা জিয়ারতকরতে থাকেন, তখন তারা আতরের ন্যায় সুঘ্রাণ অনুভব করতে থাকেন। ঐদিন বাদ এশা ঘ্রাণের মাত্রা আরো বেশী অনুভূত হয়। এরপর রাতভর এলাকার লোকজন আসতে থাকেন। 
এদিকে সুঘ্রাণ বের হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন জায়গা থেকে দলে দলে লোকজন জিয়ারত করতে আসতে থাকেন।
আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রাহ.’র সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য
মাওলানা মুশাহিদ বায়মপুরী র. ১৩২৭ মোতাবেক ১৯০৭ ঈসায়ী সালে কানাইঘাটের বায়মপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম  ক্বারী  আলিম ঊদ্দীন ও মাতা হাফিজা সুফিয়া বেগম। তিনি ১৯৩৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় ভর্তি হয়ে মেধাবী ছাত্র হিসেবে বিশ্ব রের্কড সৃষ্টি করেন।
১৯৭০ সালে তদানিন্তন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য র্নিবাচিত হন। রাজনৈতিক ময়দানে তিনি জমিয়তে ঊলামায়ে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
তিনি শায়খুল ইসলাম আল্লামা সায়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী রাহ.’র শাগরিদ ছিলেন। যুগশ্রেষ্ট এই মহান বুযুর্গ ১৯৭১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পবিত্র ঈদুল আযহার রজনীতে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে দারুল ঊলুম দারুল হাদীস কানাইঘাট মাদরাসার সম্মুখে মাওলানা শহরুল্লাহ ও মাওলানা মুজম্মিল আলীর কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
উল্লেখ্য যে, আজকের জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দারুল হাদীস কানাইঘাট মাদ্রাসায় তাঁরই প্রচেস্টায় ১৯৫৪ সালে দাওরায়ে হাদীস চালু হয়।

Comment

Share.

Leave A Reply