বিজয়ী এরদোয়ানকে অভিনন্দন : কিছু কথা

0

সৈয়দ শামছুল হুদা ::

প্রেসিডেন্ট পদে আবারও বিজয়ী হলেন এরদোয়ান। এ বিজয় সহজ ছিল না। এ চ্যালেঞ্জ গ্রহন মসৃণ ছিল না। সময়ের এক বছর আগেই নির্বাচন ঘোষণা করার সাহস মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় কারো নেই। তিনি বিজয়ী হয়েছেন। অভিনম্দন তাকে। এ বিজয় শুধু তুরস্কের নয়, বিশ্বের সব মুসলিমের।

তুরস্কের এই নির্বাচন নিয়ে আমার দেশের মিডিয়াগুলোর কোন উচ্ছাস নেই। দায়সারা গোছের সংবাদ কেউ কেউ প্রকাশ করছেন। আজকে যদি সিএইচপির মুহাররেম ইঞ্ছি পাশ করতো, তখন দেখতেন মিডিয়াবাজি কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি? ওরা আজ হতাশ। হতাশ আরব বিশ্ব। হতাশ পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী। সকল শয়তানী চক্রই নিরব। এটাই প্রমাণ করে এরদোয়ান সঠিক পথে আছেন। উম্মাহর পাহারাদার হিসেবে নিজেদের যথার্থ উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

তুরস্কের এই নির্বাচনে আমাদের জন্যও কিছু শিক্ষা আছে। আমাদের দেশে যারা ইসলামী রাজনীতি করেন, দল করেন, সংগঠন করেন, নির্বাচন করেন, বিভিন্ন পদে লড়েন, তাদের জন্য এখানে শিখার আছে। আমরা প্রতিপক্ষকে যেনতেন প্রকারে ঘায়েল করার যে স্বপ্ন দেখি, প্রতিপক্ষকে ঠেকানোর জন্য যে ধরণের নোংরা পথ অবলম্বন করি, তার কোনটাই তুরস্কের নির্বাচনে ছিল না।

বামপন্থী সেক্যূলার শক্তি শুধু এরদোয়ানেরই প্রতিপক্ষ নয়। তারা ভিনদেশিদের নানা শয়তানীর এজেন্টও। তাদের মাধ্যমে শত্রুরা এরদোয়ানকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে সেটা এরদোয়ানের মাথায়ও আছে। কিন্তু এরদোয়ান কোন বাঁকা পথে যাননি। সোজা পথে হেঁঠেছেন। চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। গ্রহন করেছেন।

আমরা সাধারণত কোন পদ ছাড়তে চাই না। ক্ষমতার গন্ধ পেলে সেটা ত্যাগ করতে চাই না। জোরজবরদস্তি, কূটকৌশল যে কোন উপায়ে টিকে থাকার জন্য, পদে অটল থাকার জন্য চেষ্টা করি। এতে যদি দল ভেঙ্গে যায় যাক, এতে যদি সংগঠন টুকরো হয়ে যায় যাক। আমার পদ আকড়ে থাকতে হবেই।

আপনি কি ভাবতে পারেন. আজকে যদি বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলও ক্ষমতায় থাকতো, তাদেরকে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ করা হতো, তখন সেই দলের প্রধান সময়ের আগেই নির্বাচন ঘোষণা করবেন? এমন সাহস কারো আছে? চামচাগো গুতাগুতিতে নির্বাচন পারলে দুই বছর পিছিয়ে দিতেন। আগানোর তো প্রশ্নই আসে না।

এরদোয়ান এই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছেন। কারণ তিনি জানেন তাঁর গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু, তিনি জাতিকে কী উপহার দিয়েছেন। কতটুকু দিয়েছেন। তিনি প্রতিপক্ষের শয়তানী সম্পর্কে ওয়াকিফহাল। কী করণীয় সে সম্পর্কেও সচেতন। যে কারণে তার বিজয় কেউ ছিনিয়ে নিতে পারেনি।

আপনি যদি সত্যবাদী হন, আত্মবিশ্বাসী হন, কৌশলী হন, শয়তানের শয়তানী সম্পর্কে সচেতন হন, তাহলে আপনার ভয় কিসের? কেন পদ ছাড়তে এত ভয় পান?

আমাদেরকে শুধু অভিনন্দন জানালেই হবে না। তুরস্ক থেকে কিছু শিখতেও হবে। নিজ নিজ দল, সংগঠনে চর্চাও করতে হবে।

Comment

Share.

Leave A Reply