শায়খুল হাদীস আল্লামা মনির উদ্দিন : ইলমে হাদীসের জীবন্ত কিংবদন্তি

0

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ ::

শায়খুল হাদীস আল্লামা মনির উদ্দিন হাফিজাল্লাহু। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, একটি ইতিহাস। আমাদের মাথার উপর এক বিশাল ছায়াবৃক্ষ। একদিকে কিংবদন্তির শায়খুল হাদীস, অপরদিকে রঈসুল মুফাসসির। একদিকে ইলম-আমলের নকীব, অপরদিকে সুলুক ও মা’রিফতের শায়েখ।

এমন সাদাসিধা নিভৃতচারী বুজুর্গ আলেম এ জামানায় বিরল। ভেতরে বাহিরে এক। সাদামাটা চলাফেরা। কোনরূপ শান-শওকত বা দুনিয়ার প্রতি আসক্তি নেই। সাথে কখনো নেই খাদেম খুদ্দাম। বাজার হাট, কাপড় চুপড় নিজের সব কাজ নিজেই করেন। একদিন সকালে হুজুরের বাড়িতে গিয়ে দেখি হুজুর হালচাষে ব্যস্থ। এতবড় একজন বিদগ্ধ হাদীস বিশারদ, কিন্তু কোন প্রকার আত্ম অহংকার নেই।

এতবড় মাপের আলেম, আর শায়খের কাছে যে কোন সাধারন মানুষ কত সহজে মিশতে পারে, এটা দেখলে অবাক হতে হয়। কত সহজে দ্বীন সম্পর্কে জেনে নিতে পারে। আমি এমনও দেখছি বাজার করার সময়, মাছ বাজারে দাড় করিয়েও অনেক পাবলিক একটি মাসআলা জেনে নেয় সাচ্ছন্দ্যের সাথে। এতে সত্যকারের এই ওয়ারাসুতুল আম্বিয়া ও উম্মাহর দরদী আলেমের ভেতর কোনরূপ অসন্তুষ্টি বা বিরক্তবোধ নেই।

একটি মুহুর্তের জন্য হুজুর কোন গল্প গুজবে কাটান না। কারো সমালোচনা বা গিবত করতে কেউ দেখেনি। সারাক্ষন কিতাব মুতাআলাই যেন হযরতের জীবনের অবিচ্ছেদ্দ্য অংশ। এতো আমলের পাবন্দ আর তাকওয়াবান আলেম এই যুগে খোঁজে পাওয়া দুস্কর। হুজুরকে মাহফিলে দাওয়াত দিলে পায়ে হেটেই চলে যান,মাইলের পর মাইল। দুর হলে লোকাল বাসে। ওয়াজ করে আসার সময়, গোপনে চলে আসেন, হাদীয়ার ভয়ে।

কুতবে বাঙ্গাল হযরত মাওলানা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া রহ প্রতি রমজানে বড়বড় আলেম নিয়ে হযরতের দরসে বোখারিতে প্রতি রমজানে বসতেন আর বলতেন, আমি যেন শায়খুল ইসলাম মাদানীর দরসে বসি। মুনির উদ্দীন সাবের দরসে আমি মাদানীর দরস, তাদরিসের খুশবো পাই।

দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ দেশের প্রাচীনতম (১৯০৫) দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “জামেয়া কাসিমূল উলুম বাহুবলের” শায়খুল হাদীস। আমার আলিফ বা থেকে একটানা তাকমিল পর্যন্ত হুজুরের কাছে দশ/বারটি কিতাব পড়ার সুযোগ হয়েছে। আব্বার সরাসরি শায়েখ ও পীর হিসাবে আমাদের পরিবারের সাথে হুজুরের সুগভীর ইসলাহি সম্পর্ক।

আমাদের আকাবির আসলাফের জীবন্ত নমুনা তিনি। বয়েস ৮০ ছুয়ে ছুয়ে। কিন্তু এখনো তিনি ক্লান্তিহীন ক্বালা ক্বালা হাদ্দাসানা… বলে হাদীসের মসনদে তাকরির দেন ঘন্টার পর ঘন্টা। এলেমের এক বিশাল মহিরুহ তিনি। সারাক্ষন অযুবস্থায় থাকেন। পীর মুরিদীর কোন খানকা নেই। একাধিক বুর্যুগ হযরতকে তাসাউফের খেলাফতি দান করেছেন। কেউ জোড় করে ধরে আব্দার করলে কেবল বাইয়াত করান।

সাহাবা চরিত্রের এক প্রজ্জল মনীষা তিনি। ভেতরে বাহিরে এলেম আমল আর সাহসের এক অনন্য দৃষ্টান্তে। যেমন বিদগ্ধ হাদিস বিশারদ, তেমনি শক্তিমান তাফসিরবিদ। তেমনি দুনিয়াবিমূখ এক দরদী রাহবার। এক মহান নিভৃতচারী আল্লাহর ওলী।

আল্লাহ যেন আমাদের মাথার উপর হযরতের ছায়াকে দীর্ঘ করুন। আমিন।

Comment

Share.

Leave A Reply