খেলার মাঠে গোল বা সেঞ্চুরীর পর সেজদা দেয়া কি সঠিক?

0

আনাস বিন ইউসুফ ::
ইসলামি শরিয়ত বলে, যেকোনো ভাল কাজ শুরু করবে আল্লাহর নামে৷ যাতে এই কাজে বরকত আসে৷ এ বিষয়ে হাদীস শরীফে অনেক তারগিব তথা উৎসাহ দেয়া হয়েছে৷ তদ্রুপ যেকোনো কাজের প্রত্যাশিত ও সুন্দর সমাপ্তির পর একজন মু’মিন হিসেবে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবে৷ এই কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ মুখে “আলহামদু লিল্লাহ” বলেও হতে পারে৷ অন্তর থেকেও হতে পারে৷ আবার অর্জন যদি বড় কিছু হয় তখন কৃতজ্ঞতা স্বরূপ নফল নামাজও পড়া যেতে পারে৷ কিংবা আল্লাহর কুদরতী কদমে মস্তক অবনত করেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যেতে পারে৷

এই মূলনীতি অনুসারে বলা হয়-

কোনো না-জায়েয তথা হারাম কাজের শুরুতে “বিসমিল্লাহ” বলা যাবে না৷ যেমন- চোর চুরি করার আগে৷ ডাকাত ডাকাতি করার আগে৷ ইত্যাদি৷

হারাম বা নিষিদ্ধ কাজের ক্ষেত্রে “আল্লাহর নামে শুরু করলাম” বা “বিসমিল্লাহ” বলতে নিষেধ কারার কারণ হলো, এতে করে ধর্মকে অবজ্ঞা করা হয়৷ ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়৷ শরিয়তে ইসলামি’র হুকুম-আহকামকে হালকা জ্ঞান করা হয়৷ ইসলামি পরিভাষায় এটাকে বলে “ইস্তিখফাফ বিদ-দ্বীন” [ الإستخفاف بالدين]৷

তদ্রুপ কোনো হারাম বা নিষিদ্ধ কাজের (কর্তার নিকট) প্রত্যাশিত সমাপ্তি হলে সেক্ষেত্রেও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কিছু নেই৷ আল্লাহর অবাধ্য হয়ে এবং তার নাফরমানি করে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা : এটা এক প্রকার তামাশা৷ স্রস্টার সাথে বিদ্রুপ করার নামান্তর৷ যেমন- মদ্যপায়ি ব্যক্তি তৃপ্তিভরে মদ্যপান শেষ করে কিংবা কোনো যিনাকারি অপকর্মের শেষে বলল, “আলহামদু লিল্লাহ” (নাউজুবিল্লাহ)৷ অর্থাৎ, এক্ষেত্রেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কিছু নেই৷ কেননা, এর দ্বারাও ইস্তেখফাফ বিদ-দ্বীন বা দ্বিনের সাথে তামাশা করা হয়৷ বরং আল্লাহর একজন বান্দা হিসেবে তার দাসত্বকে মেনে নিয়ে হারাম কাজ করার কারণে তওবা করা উচিত৷ নিজের কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া উচিত৷

এবার আসি মূল কথায়-

শরীর চর্চার জন্য বিভিন্ন খেলা-ধুলাকে জায়েজ বলা হলেও প্রফেশনাল খেলা-ধুলাকে এখন পর্যন্ত উলামায়ে কেরাম জায়েজ বলেন নি৷ শরীরের ব্যায়ামের জন্য খেলা-ধুলা করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ধরা-বাধা আছে৷ সে ধরা-বাধা মেনে যদি কেউ খেলা-ধুলা করে তাহলে সেটা বৈধ৷ পক্ষান্তরে প্রফেশনাল বা পেশাগত খেলা-ধুলা জায়েজ নেই৷ এটা এক প্রকার জুয়া৷ অতএব, জুয়া খেলায় সফলতা অর্জন করে সেজদা দেয়া দ্বীন ইসলামিকে “অবজ্ঞা” করারই নামান্তর৷

এখন পল পগবা ও দজিব্রিল সিদেবে, আশরাফুল, মুহাম্মদুল্লাহ রিয়াদ সেঞ্চুরী করে অথবা ফুটবল মাঠে গোল করার পর সেজদা দিলে সেটাতে পুণ্যের কিছু নেই৷

হয়তো কেউ প্রশ্ন করতে পারেন-

তারা তো ধর্মীয় অনুভূতি এবং আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই সেজদা দিয়ে থাকে!

উত্তর সহজ- তারা অজ্ঞতা বশতঃ এমনটি করে থাকে৷ যেমন চোরা বেটাও চুরি শেষ করে বুকে হাত রেখে স্বস্থির সাথে বলে- “আল্লাহ! আলহামদু লিল্লাহ!”

বিনিত অনুরোধ-

ক্রিকেট-ফুটবলসহ যেকোনো বিনোদনকে আপন স্থানেই রাখুন৷ যুক্তি দিয়ে সেটাকে ধর্মের প্রলেপ দেয়া থেকে বিরত থাকুন৷ পল পগবা ও দজিব্রিল সিদেব, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কিংবা অন্যকোন খেলোয়ারড়ের গোল বা সেঞ্চুরীর পর মাঠে সেজদা করাকে প্রশংসা করার কিছু নেই৷

Comment

Share.

Leave A Reply