কেবলা ঠিক করতে জমিয়তে নয়, আ’লীগ-বিএনপি ছাড়তে হবে

0
মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ ::  আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী হাফিজাহুল্লাহ জমিয়তের কাউন্সিলে বলেছেন- ‘উলামায়ে কেরাম কেবলা হারিয়ে ফেলেছেন, কেবলা ঠিক করতে হলে জমিয়তে যেতে হবে’ এ কথা চরমোনাইর কেউ বললে ফেসবুক ওয়ালে ট্রলের বন্যায় নির্বাচনী প্রচারণাও ঢাকা পড়ে যেতো। মুহতারাম মামুনুল হক ভাইর দশ বারোজনের মিছিলকে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা যেভাবে পজিটিভলি প্রচার করেছে, মিছিলটি যদি ইসলামী আন্দোলনের কেউ করতো, তাহলে চিত্র থাকতো ভিন্ন। বোঝা গেলো, ট্রলবাজদের প্রধান টার্গেট চরমোনাই ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
‘রোহিঙ্গা শিবিরের অলিগলি’ বইতে আমি কাসেমী সাহেব হুজুরকে যেভাবে উপস্থাপন করেছি, আমার মনে হয় তাঁর সাগরেদরাও সেভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি। কিন্তু, চরমোনাই বা ইসলামী আন্দোলন নিয়ে তাদের তেমন কাউকে পজিটিভ বলতে বা লিখতে দেখলাম না। সিটি নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম নয়। শুনেছি সিলেটে জমিয়তের একগ্রুপ বিএনপি আরেকগ্রুপ জামাতকে সমর্থন দিয়েছে। বরিশালে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে।
অথচ উভয় সিটিতেই সরাসরি ইসলামের পক্ষের শক্তি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। ইসলামের দোহাই দিয়ে রাজনীতিতে নেমে যদি বারবার পুঁজিবাদী কুফরী গণতন্ত্রের কাঁধে সওয়ার হই, তো আমার থেকে বড় সুবিধাভোগী আর কে হতে পারে? প্রথমদিকে ‘আহওয়ানুল বালিয়াতাইন’ এর ফতোয়া জারি করে বিএনপিতে উঠেছি, কিন্তু এখন জবাব কী? বর্তমানে একদল আওয়ামী মদদে কলাগাছ হবার স্বপ্ন দেখছে, আরেকদল তো বিএনপিতে আছেই। যারা লীগে যেতে চাচ্ছে তাদের ‘আহওয়ানুল বালিয়াতাইন’ -এর অযুহাত দেবার সুযোগ নেই। তার মানে অতীতে তাদের সে অযুহাত ছিলো স্পষ্ট ধোঁকাবাজি।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকার পরও ‘আহওয়ানুল বালিয়াতাইন’ -এর অকার্যকর অযুহাতে যারা বিএনপিতে ফিরছে, তারাও ইসলামবিদ্বেষী শক্তির সহায়ক বৈ কিছু নয়। এতোদিনে প্রমাণ হলো- ‘আহওয়ানুল বালিয়াতাইন’ কিছু না, ওটা ছিলো চালের গুটি। মূলত এরা আওয়ামী বিএনপির পোষা হুজুর। অতএব, কেবলা ঠিক করতে জমিয়ত নয়, আগে বিএনপি আওয়ামীলীগ ছাড়ুন! তবেই কেবলা ঠিক হবে। কেবলা তাদেরই ঠিক নেই, যারা লেজুবৃত্তি করে। কেবলা ঠিক করার পাশাপাশি ইমাম নির্বাচনেও মাসআলার সঠিক প্রয়োগ অবশকরণীয়।

লেখক : মহাপরিচালক, মারকাযুত তাকওয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা।

Comment

Share.

Leave A Reply