গণতন্ত্র ও ইসলামপন্থার সংকট : পর্যালোচনা ও করণীয়

0

ত্বরিকুল ইসলাম ::

ইসলামপন্থা বা ইসলামী আন্দোলন যতটা ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়, তারচেয়েও বেশি প্রায়োগিক বিষয়। এই প্রায়োগিক জায়গাটাতেই আমাদের ইসলামপন্থীরা পিছিয়ে আছেন।

জনগণ দেখছে- রাজনীতিক আলেম-ওলামা ও ইসলামপন্থীরা একটা ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম অথবা খেলাফত ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু জনগণের বর্তমান জীবনমান ও দুঃখ-দুর্দশা, জনকল্যাণ, জনসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার ও দেশের করুণ পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কোনো জোরালো বক্তব্য, ভিশন বা রাজনৈতিক কর্মসূচী নেই!

তখন আসলে জনগণ তাদের ইসলামপন্থার প্রতি আস্থা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ধর্মীয়ভাবে জনগণের ইসলামী মনন ঠিকই আছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তারা ইসলামপন্থা বা ইসলামী আন্দোলনের প্রতি তখন আর আস্থা রাখতে পারে না। ফলে আওয়ামী লীগ বা বিএনপিকে ভোট না দিয়ে তাদের উপায় থাকে না।

এটা জনগণের দোষ নয়। বরং ইসলামপন্থীরা যে জনগণের রাজনৈতিক বোধ ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারেন না, এবং সেই না বুঝার দরুন জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা অনুসারে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারছেন না, সেটাই মূল সমস্যা।

ফলে জনগণের কাছে শুধুমাত্র পরকালকেন্দ্রিক একটা খণ্ডিত ইসলাম ফুটে ওঠে! তাই ধর্ম হিসেবে ইসলামের প্রতি আবেগ ও ভালোবাসা অটুট থাকলেও রাজনৈতিক ইসলামপন্থার প্রতি জনগণ আস্থা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। শেষপর্যন্ত তারা ভোট দিয়ে নিখাদ বস্তুবাদী দলগুলোকে ক্ষমতায় যেতে দেয়। কারণ বস্তুবাদী দলগুলো জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা অনুসারে তাদের রাজনৈতিক ইশতেহার জনগণের কাছে উপস্থাপন করে। এতে জনগণও আকৃষ্ট হয়। এই জায়গায় তাদের তুলনায় আমাদের রাজনীতিক আলেম-ওলামা বা ইসলামপন্থীরা রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ে যান।

অথচ আলেম-ওলামা ও ইসলামপন্থীরা বলেন, ইসলাম হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। কথা তো ঠিক। ইসলাম যেমন পরকালের নাজাতের দিশা দেয়, তেমনি ইহকালের মুক্তির দিশাও দেয়। সুতরাং, জনগণের আধ্যাত্মিক খোরাক আঞ্জাম দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও জনগণের ইহজাগতিক চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি শুধু যে ধর্মীয় ভাবাবেগ দিয়েই ক্ষমতায় এসেছে এমন নয়। একইসাথে মোদী নির্বাচনের আগেই ক্ষমতায় গিয়ে কী-কী অর্থনৈতিক সংস্কার করবেন- তা আগেই হোমওয়ার্ক করে রেখেছিলেন। অন্যান্য জনসংশ্লিষ্ট উন্নয়নবিষয়ক কর্মসূচী ও ভিশন মোদীর ছিল বলেই ভারতের জনগণ আকৃষ্ট হয়েছিল এবং ভোট দিয়ে মোদীকে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল।

এবার বলুন, ক্ষমতায় গিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিক আলেম-ওলামা বা ইসলামপন্থীরা প্রধানত জনগণের স্বার্থে কী-কী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং কী-কী অর্থনৈতিক সংস্কার কাজ করবেন— এসবের কোনো হোমওয়ার্ক কি তারা আদৌ করতে পেরেছেন? আর যদি করেও থাকেন, তাহলে মিডিয়া এবং জনগণের সামনে তারা সেসব বিষয়ে বিস্তারিত কোন রূপরেখা উপস্থাপন করতে পেরেছেন কি?

এছাড়া ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময়কালে দেওবন্দি ওলামায়ে কেরামই মূল রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রাম করেছিলেন। বড় বড় মুহাদ্দিস ও আলেমের নাম মহান মহান রাজনীতিবিদ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে খচিত। ইসলাম ও রাজনীতিকে তারা আলাদা করে দেখেননি। দ্বীনব্যবস্থা থেকে তারা গণমানুষের রাজনীতিকে বিচ্ছিন্ন করেননি। অথচ আজকে আধিপত্যবাদী শক্তির দাসানুদাস ফ্যাসিবাদী জালিমদের বিরুদ্ধে সেই ব্রিটিশবিরোধী দেওবন্দি ধারার এদেশীয় ওলামায়ে কেরামের এখনকার গণমুখী রাজনৈতিক ভূমিকা কতটা জোরালো- তা পর্যালোচনার দাবি রাখে।

তাছাড়া আমাদের দেশের ইসলামপন্থীদের মধ্যেও কঠিন বিভক্তি আছে। এই বিভক্তি তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে দিচ্ছে না। ফলে এই সুযোগে রাজনীতিতে খালি মাঠে গোল দিয়ে যাচ্ছে অসৎ, দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্ট গণশত্রুরা। একইসাথে ইসলামবিরোধী সেকুলার অপশক্তিও ডালপালা বিস্তার করার সুযোগ পাচ্ছে।

ইসলামপন্থীদের মধ্যে একদল চাচ্ছেন গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের পক্ষে এবং ইসলামের পক্ষে কাজ করবেন।

কিন্তু আরেক দল বলছেন, এটা ইসলামসম্মত নয়। ধরে নিলাম, সেটা ইসলামসম্মত নয়। কিন্তু এখানে একটা যৌক্তিক প্রশ্ন দাঁড়ায় যে, ইসলামসম্মত নয় মানেই কি ইসলামবিরোধী? যদিও ইসলামবিরোধী মাত্রই ইসলামসম্মত না।

যেমন, এরদোগান ইসলামবিরোধী সেকুলার অপশক্তির ষড়যন্ত্র ও প্রপাগান্ডা মোকাবেলা করে এবারও জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় বহাল আছেন। এখন কি এরদোগানের এই বিজয়কে আপনি ইসলামবিরোধী বলতে পারবেন?

এরদোগানের এই গণতান্ত্রিক ইসলামপন্থাকে আপনি হয়ত ইসলামসম্মত নয় বলতে পারেন; কিন্তু ‘ইসলামবিরোধী’ বলার সুযোগ দেখি না। কারণ সেকুলার অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে এরদোগান তুরস্কে ইসলামী মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একটু একটু করে কৌশলে তিনি এবং তার দল আগাচ্ছেন।

মানলাম, এভাবে হয়তো খেলাফত তিনি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম না-ও হতে পারেন। কিন্তু গত শতকের প্রারম্ভে খেলাফত বিলুপ্তির পর দশকের পর দশক ধরে ইসলাম এবং জনগণের ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে চলমান সেকুলার জুলুমের বিরুদ্ধে এরদোগান ক্ষমতায় থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছেন তো, নাকি?

তিনি তো অন্তত ইসলামবিরোধী সেকুলার অপশক্তিকে মোকাবেলা করে তুরস্কে ফের ইসলামী মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারছেন। জনগণের পক্ষে কাজ করতে পারছেন তো। হিজাবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সেকুলার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। বন্ধ করে দেওয়া মাদ্রাসা ও দ্বীন শিক্ষা পুনরায় চালু করেছেন। যেখানে একসময় মসজিদ ভেঙে দেওয়া হতো, সেখানে তিনি হাজার হাজার মসজিদ বানাচ্ছেন।

সর্বোপরি, জনগণের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও অধিকার তিনি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন। কিন্তু প্রথমদিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে জনগণের মৌলিক অধিকার, জনগণের সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচী গ্রহণ করে জনগণের স্বার্থবান্ধব নেতা হিসেবে তিনি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তারপর গিয়ে তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান রাষ্ট্রীয় সেকুলার জুলুমের খোলস পরিবর্তনে হাত দিয়েছেন। তাই, সেকুলার জুলুম ও সেকুলার জাহেলিয়াতের মোকাবেলায় এরদোগানের রাজনৈতিক কৌশল ইসলামপন্থীদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে বলে আমার ব্যক্তিগত অভিমত।

যাই হোক, দার্শনিক মূল্যবোধের জায়গায় গণতন্ত্রের মধ্যে কুফরি আছে। সেটার প্রধানতম সমস্যা হলো: জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস ও সার্বভৌমত্বের মালিক বলে ঘোষণা দেওয়া। এটা স্পষ্টতই আধুনিক সেকুলার জাহেলিয়াত। আধুনিক রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করার ঐতিহাসিক সেকুলার প্রক্রিয়ায় এই কুফরি চেতনার বিকাশ ঘটেছে।

কিন্তু গণতন্ত্রের এই কুফরি মূল্যবোধ ধারণ না করে শুধু ভোট এবং নির্বাচনের মাধ্যমে মডারেট ইসলামপন্থীরা জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারুক না-পারুক, অন্তত ইসলামের পক্ষে তো কাজ করতে পারবে। সেকুলার জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে ইসলামী মূল্যবোধের জাগরণ তো ঘটাতে পারবে। অন্ততপক্ষে তারা ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি রোধ করে জনগণের সেবা করার সুযোগ পাবে, তাই না?

তাছাড়া শুধু নির্বাচন মানেই তো গণতন্ত্র না। গণতন্ত্রের কুফরি সমস্যাটা মূলত দার্শনিক মূল্যবোধের জায়গায়। দার্শনিক জায়গায় কুফরি মূল্যবোধের পরিবর্তে ইসলামী মূল্যবোধকে গ্রহণ ও ধারণ করলেই হয়। তাহলে শুধুমাত্র ভোট আর নির্বাচন নিয়ে কুফরিগত সমস্যা থাকার কথা না। বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা বুঝে কৌশল নেওয়া জরুরি। তাছাড়া পরবর্তীতে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অনুকূল সময়ে আমাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্র ও শাসন কায়েমও করা যেতে পারে।

মনে রাখতে হবে— ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা গড়ে তুলতে হবে ব্যাপক গণসংযোগ, দাওয়াতি ও সংস্কার কাজের মাধ্যমেই। এখনো তাদের মধ্যে সেই আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিকভাবে পোক্ত নয়। তারা এখনো বিদ্যমান গণতন্ত্র এবং আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অভ্যস্ত। এর বিকল্পস্বরূপ এরচেয়েও উন্নত হিসেবে ইসলামী রাষ্ট্র ও ইসলামী শাসনব্যবস্থার ব্যাপারে তাদেরকে এডুকেইট করাতে হবে। রাজনীতিবিদদের সামনে জনগণ হচ্ছে শিষ্যের মতো। ঠিক এভাবেই ইসলামপন্থীদের কাজ করে যেতে হবে। জনগণের বিদ্যমান রাজনৈতিক শিক্ষা-দীক্ষা, অভিজ্ঞতা এবং তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস-ঐতিহ্য পর্যবেক্ষণ করেই ইসলামপন্থীদেরকে এখনকার রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। সেকুলার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মোকাবেলায় ইসলামী রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার ব্যাপারে মূলধারার জনগণকে দীক্ষিত করতে হবে।

যাই হোক, মডারেট ইসলামপন্থী দলগুলো, যেমন— মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড, আলজেরিয়ার দ্যা স্যালভেশন ফ্রন্ট, ফিলিস্তিনের হামাস, তিউনিশিয়ার আন নাহদা প্রত্যেকটি দলই গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়েছিল। কিন্তু তারা কি নিজেদের অযোগ্যতার কারণেই ক্ষমতায় থাকতে ব্যর্থ হয়েছে? নাহ, আমি তেমনটা মনে করি না। বরং পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীরাই কখনো ক্যু ঘটিয়ে ষড়যন্ত্র করে, আবার কখনো অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে তাদেরকে ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত কিংবা উৎখাত করেছে।

এখন হয়ত কেউ যুক্তি দিবেন যে, পাশ্চাত্যের গণতন্ত্রকে অবলম্বন করেছিল বলেই তারা সফল হয়নি। মজার ব্যাপার হলো— আপনার এই যুক্তির বিপরীতে পাল্টা যুক্তি আসতে পারে যে, তাহলে আফগানিস্তানে ৫ বছরেরও বেশি সময় তালেবান সরকার শরিয়াভিত্তিক শাসন কায়েম করার পরও কেন শেষপর্যন্ত টিকে থাকতে পারলো না? আসলে, সেটাও তাদের শাসনব্যবস্থার অযোগ্যতার কারণে নয়। বরং সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকাই লাদেনকে ধরতে আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে তালেবান সরকারকে উৎখাত করেছিল। তালেবানরা মাদরাসাপড়ুয়া ছিল, মডারেট ছিল না। এখন নিশ্চয়ই শরিয়া শাসনকে আপনি অভিসম্পাত দিবেন না।

সুতরাং, আমার মতে সমাধান হলো, মডারেট ইসলামপন্থীরা তাদের মতো করে এগিয়ে যাক। ইসলামী রাষ্ট্র তারা কায়েম করতে পারুক না-পারুক, অন্তত সেকুলার জাহেলিয়াত ও সেকুলার জুলুমের মোকাবেলা করে ইসলামী মূল্যবোধের পক্ষে এবং জনগণের পক্ষে তারা কাজ করুক। সেই সুযোগ ও সমর্থন তাদের দেওয়া উচিত।

আর যারা গণতন্ত্র পছন্দ করেন না কিংবা গণতন্ত্রবিরোধী। খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চান। যদি সেই হিম্মত তাদের থেকে থাকে, তাহলে তাদের প্রথম কাজ হলো, ঔপনিবেশিক সূত্রে প্রাপ্ত বিদ্যমান আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামোর মূলোৎপাটন ঘটানো। কারণ, যতদিন পাশ্চাত্যের এই ঔপনিবেশিক আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামোর অধীনে তারা থাকবেন, ততদিন গণতন্ত্রের বাইরে গিয়ে খেলাফততন্ত্র বাস্তবায়ন করার সুযোগ তাদের ঘটবে না। পাশ্চাত্যের আধুনিক রাষ্ট্র যতদিন টিকে থাকবে, গণতন্ত্রও ততদিন টিকে থাকবে। সেজন্য গণতন্ত্রের বিকল্পস্বরূপ বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মপন্থা গ্রহণ করে জনসম্পৃক্ততাসহ খেলাফতপন্থীদের এগিয়ে যেতে হবে।

একপক্ষ বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইসলামী মূল্যবোধের পক্ষে এবং জনগণের পক্ষে কাজ করে যাক। অন্যপক্ষ তাদের খেলাফত প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করতে থাকুক। কেউ কারো প্রতি বিদ্বেষ স্থাপন না করে বরং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহযোগিতামূলক আচরণ করুক। একপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানের হিসাবে, আর অপর পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যতের হিসাবে। উভয়ের সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের মধ্যেই আমি কল্যাণ দেখি।

তবে সবসময় উভয়পক্ষের অভিন্ন কাজ হলো: ব্যাপকভিত্তিক দাওয়াতি ও সংস্কার কাজ অব্যাহত রেখে সমাজ থেকে সেকুলার জুলুম ও সেকুলার জাহেলিয়াত দূরীভূত করা। এক্ষেত্রে উভয়ই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মতবিনিময়সহ কাজ করলে উভয়েরই সুবিধা।

ত্বরিকুল ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Comment

Share.

Leave A Reply