চামড়া শিল্প নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত

0

সৈয়দ শামছূূল হুদা ::

কোরবানীর চামড়ার মূল্য নিয়ে যা করা হচ্ছে এটা শুধু কওমী মাদ্রাসাসমূহে ক্ষতিগ্রস্থ করাই নয়, এটা একটি রাষ্ট্র বিরোধী চক্রান্তও। একটি বিশেষ গোষ্ঠীর চক্রান্তে আজ চামড়া শিল্পকে অবহেলার চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কওমী মাদ্রাসাসমূহ শুধু চামড়ার মূল্য দিয়ে চলে না। এর পেছনে মহান আল্লাহর বিশেষ করুণাও আছে। সুতরাং যারা চক্রান্ত করে এ শিল্পকে অন্যদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য কাজ করছে তারা রাষ্ট্র বিরোধী কাজ করছে এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। এসব অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের এমন কোন পণ্য নাই যার দাম বিগত বছরসমূহে বাড়ে নাই। একমাত্র চামড়াটাই ব্যতিক্রম। এটা যে উদ্দেশ্যেমূলক তা পরিস্কার।

এর জন্য উলামাদের উদ্যোগে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা কাম্য। চামড়াজাত কোন পণ্যের দাম কমে নাই। শুধু কোরবানীর সময়ে যাতে মাদ্রাসাগুলো নগদ কিছু অর্থ না পায় তা বন্ধ করার জন্যই দামের এই বিশাল ডিসকাউন্ট। মাদ্রাসাসমূহের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহন সময়ের দাবী। ঈদের দিন ব্যাপক আকারে চামড়া সংগ্রহ করে এগুলো কিছুদিন সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। নিজস্ব চামড়ার আড়ৎ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই ওদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র কমে আসবে।

চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়ে ভারতীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দেওয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত চলছে। কোরবানীর পর ব্যাপক আকারে চামড়া পাচার হয়। কারণ ওখানে চামড়ার দাম বেশি।এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী দেশের কওমী মাদ্রাসার চামড়াসমূহ কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা ওরা পকেটস্থ করছে।

কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রিক কিছু ব্যবসায়ী দাঁড়াতে হবে। কওমী মাদ্রাসার সাথে সম্পর্ক রাখেন এমন চামড়া ব্যবসায়ী আছে। তাদের সাথে উলামাদের একটি যোগসূত্র গড়ে তুলতে হবে। কোরবানীর সময়ে নিজস্ব উদ্যোগে চামড়া সংগ্রহের জন্য ফান্ড গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে চামড়া শিল্পের সাথে কাজও করা যেতে পারে। নিজেরাই চামড়া সংগ্রহ করে, নিজস্ব আড়তে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে নিজস্ব শিল্পাঞ্চলে পাঠাতে হবে। একটু উদ্যোগ নিলে চামড়া নিয়ে আওয়ামী কামড়াকামড়ি বন্ধ করা সম্ভব।

চামড়ার দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে নিম্নগামী হওয়ায় একদিকে গরীব মানুষগুলো ক্ষত্রিগ্রস্থ হচ্ছে, অপরদিকে রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ ব্যাপারে সকল কওমী মাদ্রাসা মিলে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিন। অতঃপর নিজস্ব চ্যানেল তৈরী করে বিক্রী অথবা এটাকে বাজারজাত করার ব্যবস্থা করুন। এ রকম পানির দরে চামড়া ব্যবসায়ীদের হাতে চামড়া তুলে দেওয়ার কোনই প্রয়োজন নেই। ২/৩বছর কষ্ট করলে নিজস্ব ব্যবসাও দাঁড়িয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

সৈয়দ শামছুল হুদা, সম্পাদক- নুরবিডি ডটকম

Comment

Share.

Leave A Reply