অংবিশেষ খুলে পড়লেও ঝুঁকিমুক্ত আকাশবীণা

0

আকাশবীণার যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে র‌্যাফটের ওই অংশ রিপ্লেসের আগ পর্যন্ত ৫২ যাত্রী কম পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন বিমানের চিফ অব ফ্লাইট সেফটি শোয়েব চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজে লাগানো অবস্থায় অতিরিক্ত তাপের কারণে র‌্যাফটের অংশবিশেষ খুলে যায়। দরজা ভেঙে যাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।‘

বুধবার দুপুরে সিঙ্গাপুরে ড্রিমলাইনারের ট্রেনিং সেন্টার থেকে তিনি বলেন, ‘ফ্লাইট সেফটির প্রধান হিসেবে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ জাতীয় টুকটাক ঘটনা যে কোনো নতুন এয়ারক্রাফট পরিচালনার প্রথম দিকে ঘটে। র‌্যাফট খুলে যায় টেম্পারেচারের (তাপমাত্রা) কারণে। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি খুলে যায়, তখন জরুরি নির্গমন গেটও খুলে যায়।’

এরপরও নতুন উড়োজাহাজ অপারেশনের আগে সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি সজাগ থাকা জরুরি বলে মনে করেন সিনিয়র এই পাইলট।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে কুয়ালালামপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফেরে ড্রিমলাইনার আকাশবীণা। যাত্রী নেমে যাওয়ার পর নিয়মিত গ্রাউন্ড চেকের অংশ হিসেবে বিমানের প্রকৌশল বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয় বিমানটি। পরবর্তী ফ্লাইটের প্রস্তুতির জন্য কেবিন ক্লিনিংসহ চেকআপ করা হয় আকাশবীণার।

পরবর্তী ফ্লাইটের যাত্রীদের খাবার উড়োজাহাজে ওঠানোর সময় র‌্যাফটের অংশ বিশেষ খুলে যায়। পরবর্তীতে এটি বিমানের প্রকৌশল বিভাগে পরীক্ষার জন্য নেয়া হয়। ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের বিজি-০৮৪ ফ্লাইটটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় ৮টা ২৫ মিনিটে থাকলেও এটি এক ঘণ্টা পরে উড্ডয়ন করে।

বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিমানের প্রকৌশল শাখার পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘তদন্তে যাদের নাম আসবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে’। ওই ঘটনায় বিমানের প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে বিমানের চিফ অব ফ্লাইট সেফটি শোয়েব চৌধুরী বলেন, এর চেয়ে ছোট ঘটনা হলেও সাময়িকভাবে বরখাস্তের বিধান আছে।

র‌্যাফটের খুলে যাওয়া অংশ সংযোজনের বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, অংশটি আগামী শুক্রবার বিজি০০২ ফ্লাইটে লন্ডন থেকে ঢাকায় আনা হবে। এরপর সেটি সংযোজন করা হবে।

র‌্যাফটের অংশ খুলে পড়লেও উড়োজাহাজটির ফ্লাইট পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে না বলে জানান বিমানের জেনারেল ম্যানেজার শাকিল মেরাজ। তিনি বিমানের পূর্বনির্ধারিত সব ফ্লাইট বহাল থাকবে বলেও সবাইকে আশ্বস্ত করেন।

বিমানের চিফ অব ফ্লাইট সেফটি শোয়েব চৌধুরী আরও জানান, জরুরি অবস্থায় যাত্রীদের বিমান থেকে বের হওয়ার জন্য দরজার সঙ্গে থাকে এই র‌্যাফট। এটার মাধ্যমে যাত্রীরা বিমান থেকে দ্রুত বের হয়ে যেতে পারেন। আকাশবীণার একটি দরজা দিয়ে ৫২ জন যাত্রী বের হতে পারেন। চারটি ইমার্জেন্সি এক্সিট ডোরের একটির র‌্যাফট না থাকায় ৫২ জন যাত্রী কম নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে বিমানকে। এটি সংযুক্তির পর সক্ষমতার ২৭১ যাত্রী নিয়েই উড্ডয়ন করতে পারবে আকাশবীণা।

বর্তমানে বিমানের বহরে অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ছাড়াও রয়েছে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। ভাড়ায় নেয়া দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, একটি এয়ারবাস এ-৩৩০, দুটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ। ১৩টি উড়োজাহাজ দিয়ে ১৫টি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সাতটি আকাশপথে চলাচল করছে বিমান।

Comment

Share.

Leave A Reply