কাকরাইল মারকাজ দখলের অপচেষ্টা এবং…

0

সৈয়দ শামছুল হুদা ::

দাওয়াত ও তাবলীগের মধ্যে একদল নফস মোটা মানুষ তৈরী হয়েছে। এরা অনেকটাই আলেম-উলামা বিদ্বেষী। দীর্ঘদিন আলেমগণ এ মেহনতের হাল ধরা থেকে দূরে থাকায় এরা তাবলীগের মধ্যে এমনভাবে বেড়ে উঠেছে যাদের সামনে আলেম-উলামাদের কোন সামান্যতম কদরও নেই। জেনারেল ধারার কিছু শিক্ষিত ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, সাধারণ দ্বীদনার এমনভাবে তাবলীগের মুরুব্বি সেজে গেছে, এখন ওরা মনে করছে এতদিন তাবলীগের নামে যেভাবে নির্ঝঞ্জাট তাবলীগ করছে, এখন আর মনে হয় চলবে না। তাবলীগের ব্যানারে ওরা ওদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও চালিয়েছে। মোদ্দাকথা, কিছু গোয়ার, কিছু উগ্র তাবলীগীর জন্ম হয়েছে। এরাই অন্ধ ওয়াসিফপন্থী। সাদপন্থী। এদের কাছে আলেম-উলামাদের সান্নিধ্য কোন বড় কিছু নয়।

আলেম-উলামাদের সান্নিধ্য, তাদের সহানুভূতি, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া যে তাবলীগ চলবে, সেটা যে একটি ফেতনা হবে তা তারা কল্পনাও করতে পারছে না। তারা আর কোন মসজিদেই উঠতে পারবে না। বাংলাদেশের সকল মসজিদে একমাত্র আলেমদের সহানুভূতির কারণেই তাদেরকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এদেশে বিশাল একটি গোষ্ঠী আছে যারা তাবলীগকে মোটেও সহ্য করতে পারে না। কিন্তু মসজিদের খতীব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এর বিশেষ সহানুভুতিতে ওরা এতদিন প্রতিটি মসজিদে দাপটের সাথে তাবলীগের কাজ চালিয়েছে। এখন যদি ইমাম ও খতীবগণ তার বিরোধিতা করেন, তার সাথে সাধারণ মুসুল্লি যারা আগে থেকেই তাবলীগ দেখতে পারে না, তারা যোগ দেন, তাহলে তাবলীগ তার আপন জৌলুস হারাবে। আর এ জন্য গোয়ার কিছু তাবলীগিকর্মী দায়ী থাকবে।

গতকাল রাতে যে সকল গোয়ার তাবলীগি সাথী কাকরাইল দখল করতে গিয়েছিল, তাদের পিছনে বড় কোন শয়তানী শক্তির ইন্ধন আছে বলেই মনে করি। তাবলীগের সাথে আলেম-উলামাদের দূরত্ব স্থায়ীভাবে গড়ে তোলার জন্য কিছু গোয়ার তাবলীগি সাথীকে ব্যবহার করছে। ওরা হকপন্থী আলেমদের পাকিস্তানপন্থী বলে গালি দিচ্ছে। তাহলে এটা পরিস্কার যে যারা গালি দিচ্ছে, তারা ভারতপন্থী। ভারতপন্থী, দিল্লীপন্থী, সাদ পন্থী কোন মেহনতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহনের কোনই প্রয়োজন নেই।

আলেম-উলামাগণ চান হকপন্থী তাবলীগ। নির্ভেজাল তাবলীগ। কোন ব্যক্তির পুঁজা, স্থানের পুঁজা করতে উলামায়ে কেরাম নিষেধ করছেন। আহলে হক উলামা হযরত তাবলীগকে এই ধরণের স্থান ও ব্যক্তি পুঁজা থেকে ফিরিয়ে এনে হকের রাস্তায় তুলে দিতে চান। কিন্তু কিছু গোয়ার সুন্নতি লেবাস ধারণ করে তাবলীগকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে উঠে পরে লেগেছে। এরা এখনো বুঝতে পারছে না এর পরিণতি কী হতে পারে? আগামী দিনে মসজিদে মসজিদে মাস্তানী করে আর তাবলীগ করা যাবে না। অনেক মসজিদ থেকেই ঠ্যাংগানি খেতে হবে।

০৯.০৯.২০১৮

Comment

Share.

Leave A Reply