প্রসঙ্গ স্বীকৃতি : অর্জন আর বিসর্জনের আনন্দ-বেদনা

0

ইমদাদুল হক নোমানী ::

বাগানের চা শ্রমিকরা নাগরিক হিসেবে বঞ্চিত ছিলো দীর্ঘদিন। স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু তাদেরকে নাগরিত্ব দিয়ে দেশের মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তাইতো আপনি সারারাত তাদের প্রিয় পানীয় মধ্যপান করালেও, সকালবেলা ঠিকই তারা বাবার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে।

নির্লজ্জ এক জাতি খুনছা মুশকিল (হিজড়া)। সমাজের অবহেলিত আবার দাম্ভিক এই মানুষগুলোকেও দুইবছর আগে বঙ্গমাতা নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেন। তাইতো তারা আজ বুক ফুলিয়ে মানবতাবাদী মায়ের গুণ গায়।

যুগযুগ ধরে রাষ্ট্রীয় হিসেবের বাহিরে থাকা বঞ্চিত শিক্ষাধারা কওমি মাদ্রাসা। দীর্ঘ আন্দোনের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদীয়ভাবে স্বীকৃতি দিলেন কওমি মাদ্রাসাকে। সেই সাথে দাওরায়ে হাদীসের মান দিলেন মাস্টার্সের মর্যাদায়। আমরা আন্তরিক মুবারকবাদ জানালাম স্বীকৃতি প্রাপ্তির খুশিতে।

বাগানের কুলি আর হিজড়ারা তাদের অধিকার এবং স্বীকৃতি পেয়ে বাবা-মাকে ভুলে নি। কওমিয়ানরা কি সেই তালিকার নাগরিক? তাদের মতো এরাও কি অন্ধভক্ত!

আলেমদের সম্মান ও আল্লাহকে খুশি করেতই আমি এ স্বীকৃতি দিচ্ছি; ভোটের জন্য নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুওয়ালে মুকাদ্দরের জওয়াবগুলো আগেই দিয়ে রেখেছেন। কেননা তিনি জানেন, কওমির আলেমরা বয়োবৃদ্ধ শায়খুল হাদীস রাহ., মুফতি আমিনি রাহ. ও শাপলাচত্বরকে এখনো ভুলেনি।

সুতরাং এ স্বীকৃতি নিয়ে অতি উৎসাহ এবং আশংকা কোনটাই কারো জন্য মঙ্গল মনে করি না। কওমি আলেমরা বিক্রি হয়ে গেলো, স্বকীয়তা হারিয়ে নির্যাতনের সকল ইতিহাস ভুলে গেলো এটাও ঠিক না। আদর্শ জলাঞ্জলি দিলো স্বার্থের বিনিময়ে…এমন বক্তব্য যারা দেয়, বুঝতে হবে তারা সব সময়ই ছিলো কওমি বিরোধী, ঘরের পালিত শক্তি। মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাওয়া স্বার্থবুদ্ধিসম্পন্ন কিছু পটু ব্যক্তি ও মহল।

অতএব সব হারিয়ে ফেলেছি, অনেক কিছু পেয়ে গেছি এ আহ্লাদ ও হতাশায় কামড়াকামড়ি না করে সহনশীল হওয়া উচিৎ। সুন্দর আগামী, স্বীকৃতির সুফল ও শুভ কামনায় এগিয়ে যাওয়া দরকার স্বকীয়তার মানদন্ডে। বুদ্ধিমত্তার সাথে এড়িয়ে যাওয়া চাই সকল অযাচিত বিতর্ক ও অযৌক্তিক সমালোচনা। আল্লাহ হেফাজত করুন সবাইকে।

Comment

Share.

Leave A Reply