প্রিয় প্রিন্সিপাল! টুকরো কথাগুলো আজ কলিজায় বিধছে খুব

0

রশীদ জামীল ::

মিছিলটি তখন তালতলা বাংলাদেশ ব্যাংক অতিক্রম করছে। সামনে পুলিশের ব্যারিক্যাড। হ্যান্ড মাইকে সিলেটের এসপি বলছেন, ‘প্লিজ আর সামনে বাড়বেন না। উপর থেকে গুলির নির্দেশ আছে। আমাদেরকে গুলি করতে বাধ্য করবেন না। প্লিজ, পেছনে ফিরে যান, প্লিজ…’

সামনে থাকা ছাত্রদের পেছনে ঠেলে দিয়ে সামনে গেলেন আপনি। হেঁচকা টানে পাঞ্জাবির বোতাম খুলে বুকটা বের করে হুংকার দিয়ে বললেন, ‘করেন গুলি। আগে আমার বুকে গুলি করেন। হবিবুর রহমানকে গুলির ভয় দেখাইয়া লাভ নাই। মিছিল যাবেই…।

উনিশশ’ তিরানব্বই। জামেয়া মাদানিয়ায় ছাত্র হিশেবে আমার প্রথম দিন ছিল। জুহরের নামাজের পরে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে দেয়া প্রথম দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের এক পর্যায়ে আপনি বললেন:

… যখন বাইরে যাবে; খবরদার! কারো সাথে ঝগড়াঝাটি বা মারামারি করবে না। আর যদি, কেউ যদি তোমাদের সাথে অন্যায় করে, তাহলে মাইর খেয়ে আমার মাদরাসার গেইটের ভেতরে ফিরে এসো না। পারলে মাইর দিয়ে এসে আমাকে বলো। পরেরটা আমি দেখব…।

উনিশশ’ আটাশি থেকে উনিশশ’ নব্বই, সিলেটের জেলা প্রশাসক ছিলেন জনাব হাবিবুর রহমান। আপনার নামেই নাম ছিল। একদিন এক ঘরোয়া আড্ডায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বাংলাদেশের অনেক জেলায় ডিসি হিশেবে কাজ করে এসেছি। কখনও কোনো হুজুরের কারণে ভীত-সন্ত্রস্থ হয়ে থাকতে হয়নি আমাকে। কিন্তু সিলেটে এসে আমাকে একজন হুজুরের কারণে সবসময় কান খাড়া করে থাকতে হচ্ছে। লোকটা কখন কী ঘেরাও করে বসে, কখন মিছিল নিয়ে বেরিয়ে যায়…

প্রিয় প্রিন্সিপাল!
ছোটছোট টুকরো কথাগুলো কলিজায় বিধছে খুব। আচ্ছা, জীবন্ত হাবীবুর রহমান থেকে মৃত হাবীবুর রহমান যে আরো বেশি শক্তিশালী; ব্যাপারটি কি আপনি জানেন?

Comment

Share.

Leave A Reply