তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে : চরমোনাই পীর

0

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের পর থেকে সেনা মোতায়েন এবং নির্বাচনের দিন তাদের হাতে বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এই সমাবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়েছিল। যা রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছিল।

সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন, প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী, প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল কাদির, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ ফজলে বারী মাসউদ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনায় ছিলেন আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা নেছার উদ্দিন, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী। সমাবেশে শ্রমিক আন্দোলন, যুব আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন, ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, শিক্ষক ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ ও আইনজীবী পরিষদের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

চরমোনাই পীর বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। প্রধান দু’টি রাজনৈতিক জোট নির্বাচনকে সামনে রেখে মুখোমুখি অবস্থানে থেকে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। দেশের প্রায় সব রাজনৈতিকদল এবং নাগরিকসমাজের প্রতিনিধিরা সরকারী দলের প্রতি সংকট সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বললেও সরকার কোন উদ্যোগ নেয়নি। গত ১০ বছরে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি।

নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন কেউই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। কিন্তু আগামীতে মানুষ তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন মানবে না। এই অবৈধ সংসদ বহাল রেখে কোন নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না। সংসদ ভেঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে একটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীণে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন চায় দেশবাসি।

পীর সাহেব রেডিও, টিভিসহ সকল সরকারী বেসরকারী গণমাধ্যমে সবাইকে সমান সুযোগ দেয়ার দাবিসহ রাজনৈতিক নেতা কর্মীদেরকে হয়রানী বন্ধ এবং কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে গ্রেপ্তারকৃত সকল ছাত্রদের মুক্তি ও সকল মামলা প্রত্যাহার দাবি করেন।

তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। তিনি জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান। পীর সাহেব বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি নিয়মতান্ত্রিক গণমূখী রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী হলে ইসলামী আন্দোলন ৩০০ আসনেই হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী দিবে।

চরমোনাই পীর উল্লেখিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে তিনদফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি হচ্ছে : ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ অক্টোবর প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ এবং ১৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ।

Comment

Share.

Leave A Reply