প্রাচ্যবিদ, সালাফি এবং আমরা

0

মুফতি রেজাউল কারীম আবরার ::

প্রাচ্যবিদদের টার্গেট ছিল সাহাবারা৷ বিশেষত সে সকল সাহাবায়ে কেরাম যাদের থেকে অধিক সংখ্যক হাদিস বর্ণিত হয়েছে৷ এজন্য তারা খুবই সুক্ষ্মভাবে সাহাবাদের সমালোচনা করেছে৷ প্রাচ্যবিদরা সবচেয়ে বেশি টার্গেট করেছে আবু হুরায়রা রা. কে৷ বিভিন্ন প্রশ্নবাণে তাকে জর্জরিত করার চেষ্টা করেছে৷ কারণ আবু হুরায়রা রা. সম্পর্কে সাধারণের অন্তরে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারলে এমনিতেই তার বর্ণিত সকল হাদিসের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হয়ে যাবে৷ এজন্য গোল্ড জেহিররা মরণকাপড় দিয়ে প্রমাণিত করার চেষ্টা করেছে যে, আবু হুরায়রা হলেন মুনাফিক! হাদিস জালিয়াতিকারী! বনু উমাইয়্যাদের টাকা খেয়ে তিনি তাদের মর্যাদা সংক্রান্ত হাদিস বানিয়ে বানিয়ে বলতেন৷

উম্মাহর উলামাদের একটি দল প্রাচ্যবিদদের মাড়িভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন৷ আবু হুরায়রা সহ অন্যান্য সকল সাহাবিদের উপর তাদের আরোপিত সকল আপত্তির খণ্ডন করেছেন৷ কুরআন, হাদিসের আলোকে সাহাবিদের মর্যাদা জাতির কাছে তুলে ধরেছেন৷ প্রাচ্যবিদদের একটি দলতো সরাসরি হাদিসের প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করত৷ এ ফিতনা যদিও নতুন না, কিন্তু প্রাচ্যবিদরা নতুন করে রঙ লাগিয়ে জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে৷ ইমাম আবু বকর জাসসাস আজ থেকে এগারশত ছর পূর্বে এ ফিতনার জবাবে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করে গেছেন৷ অতি সাধু সেজে যারা হাদিসের প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করেছে, তাদের দাবী এবং দলিলের অসারতা তুলে ধরেছেন৷

বর্তমানের নামধারী সালাফিরা টার্গেট করেছে খাইরুল কুরুনের মুজতাহিদ ইমামদের ব্যাপারে মানুষদের অন্তরে খারাপ ধারণা তৈরী করাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য৷ ভাবসাব এমন যে, ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ি, মালেক আহমদরা হাদিস বুঝেননি৷ সহিহ এবং জয়িফের পার্থক্য করতে পারেননি! পেরেছে শুধু মতিউর রহমান মাদানির মত গলাবাজ, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের মত বাজারি মুহাক্কিক এবং মুজাফফার বিন মুহসিনের মত জালিয়াতিকারীরা! তাদের ফাঁদে পড়ে একজন প্লাস্টিক কারখানার কর্মচারি ও খাইরুল কুরুনের অনুসৃত মুজতাহিদ ইমামের সমালাচনা করতে, তাদের ব্যাপারে খারাপ কথা বলতে পরোয়া করে না৷

বর্তমানে আমাদের মাঝে মানসিক বিকারগ্রস্ত কিছু ভাই আছেন৷ তাদের টার্গেট হল বাংলাদেশের জীবিত আকাবিরদের জনসাধারণের কাছে বিতর্কিত করে তুলা৷ টর্চ লাইট মেরে তারা সুযোগ খুঁজতে থাকেন যে, কখন সুযোগ পাওয়া যায়! একজনের হাজারো ভাল কাজের মাঝে এক দুটো বিচ্যূতি বা ভুল থাকতে পারে! বিচ্যূতির কারণে যদি জনসাধারণ বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে অবশ্যই সে সম্পর্কে উম্মাহকে সতর্ক করা জরুরী৷ তবে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আদাবুল ইখতেলাফের প্রতি দৃষ্টি করা জরুরী৷ কিন্তু সামান্য একটি বিষয়কে নিয়ে বড়দের নাম বিকৃতি, গালিগালাজের ঝড় বইয়ে দেই, তা বাস্তবেই আমাদের জন্য অশনি সঙ্কেত৷ আমাদের অভ্যন্তরীণ কামড়াকামড়ি আগে আমাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকত৷ কিন্তু ফেইসবুকের কল্যাণে আজ জনসাধারণ সেগুলো দেখতে পারছে৷ আমাদের তরুণ প্রজন্ম যদি বড়দের অবস্থানকে জনসাধারণের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলি, তাহলে আমাদের মত ইতর এবং নিকৃষ্ট আর কেউ জমিনে নেই৷

Comment

Share.

Leave A Reply