সৌদির প্রতি ট্রাম্পের উপহাস ও যুবরাজ সালমানের মোসাহেবির রহস্য

0

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান বলেছেন, জ্বালানি তেলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিগুলো সৌদি সরকার পূরণ করেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সহযোগিতা দিতে তিনি ব্যাকুল হয়ে আছেন।

ট্রাম্প সৌদি সরকারকে জ্বালানি তেলের উৎপাদন আরও বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছেন যাতে তেলের অন্যতম প্রধান উৎস ইরান তেল রপ্তানি কমিয়ে দিলেও বিশ্ব-বাজারে তেলের যোগান কমে না যায় এবং সস্তায় তেল কেনা যায়! ট্রাম্পের সেই দাবি পূরণ করা হয়েছে বলে বিন সালমান এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করলেন।

বিন সালমানের সাক্ষাৎকারের একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকার সেনা-সমর্থন ছাড়া রাজা সালমান দুই সপ্তা’ও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। তিনি বলেন, মার্কিন সরকারই সৌদি আরবকে রক্ষা করছে। তাই মার্কিন বাহিনীর জন্য সৌদিকে অর্থ দিতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও কয়েকবার এ জাতীয় কথা বলেছেন। তিনি একবার সৌদি সরকারকে দুধের গাভীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এই গাভী যতদিন দুধ দেবে ততদিন তাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।

জনগণের শক্তির পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোর মত সৌদি সরকারও নিরাপত্তাসহ নানা ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের ওপর প্রায় শতভাগ নির্ভরশীল হওয়ায় এইসব সরকার হোয়াইট হাউজের কাছে সম্মানজনক মিত্রের মর্যাদা পায় না, বরং  সেবাদাস হিসেবেই স্বীকৃত।

আর এইসব সরকারের পরাধীনতার শেকল এতই মজবুত যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবমাননা নিরবে হজম করতে বাধ্য। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবমাননাকর বক্তব্য প্রসঙ্গে সৌদি যুবরাজ বিন সালমান বলেছেন, যে কোনো বন্ধু আপনার সম্পর্কে ভালো ও মন্দ কথা বলতেই পারে। আমি তো ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতার প্রবল অনুরাগী।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, এই অবমাননা নিজ দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে অর্পণ করার পুরস্কার। তিনি এ ধরনের অবমাননার হাত থেকে রক্ষা পেতে একটি শক্তিশালী মধ্যপ্রাচ্য গঠনের জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি  আহ্বান জানিয়েছেন।

সৌদি সরকার মাঝে মধ্যেই এটা দেখাতে চায় যে তার সব শত্রুতা বা প্রতিযোগিতা কেবল ইসলামী ইরানের সঙ্গেই। তাই মার্কিন সরকারসহ অন্য কোনো মিত্র সরকারের অপমানজনক কথা সহ্য করা বা তাদেরকে চাঁদা দিয়ে চলাটা সৌদি সরকারের জন্য স্বাভাবিক বিষয়!

আসলে জনগণের শক্তি ও নৈতিক শক্তি না থাকার কারণেই দুর্বল সরকারগুলো পরাশক্তিগুলোর আচল ধরে বা তাদের লেজুড়বৃত্তি করে টিকে থাকতে চায়। অন্যদিকে পরাশক্তিগুলোও তা বুঝতে পেরে এসব লেজুড় সরকারের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক ফায়দা তুলতে থাকে।

সৌদি সরকারের যদি বিন্দুমাত্র আত্মসম্মানবোধ ও জনগণের শক্তির নিয়ে মাথা উঁচু করার ইচ্ছা থেকে থাকে তাহলে তার উচিত ইরানসহ গণতান্ত্রিক প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং পরাশক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের সুযোগ বন্ধ করতে সন্ত্রাসী ও বিভেদকামী নীতি পরিত্যাগ করা। #পার্সটুডে

Comment

Share.

Leave A Reply