মসজিদের ইমাম থেকে জনতার প্রিন্সিপাল

0

শহরের উত্তপ্ত পীচঢালা কালো রাজপথ থেকে গ্রামের মেঠোপথ পর্যন্ত; সিলেটের মত একটি মফস্বল শহর থেকে ছাপ্পানো হাজার বর্গমাইলের এ বাংলাদেশ। তারপর মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকায় যিনি তার বিচরণকে করেছেন সাবলীল, দুরন্ত, দুর্বার এবং দীর্ঘদিন যাবৎ চৈতন্যে মরিচাধরা এ অঞ্চলের মুসলিম উম্মাহর চেতনাকে তৈরী করেছেন আপোষহীন, সাহসী ও বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে, তিনি প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান।
দৃঢ়তা, সাহসিকতা, বাগ্মীতা, লেখনী এবং জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়ার মত একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সর্বোপরি সকল ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বরের কারলে উম্মাহর একজন মেধাবী সন্তান ও অকুতোভয় সৈনিক হিসাবে ইতিমধ্যে তিনি তার স্বকীয় বলয় তৈরী করে নিয়েছেন-একথা বলাই বাহুল্য। আপন বলয়ে সংকুচিত হতে থাকা আলেম সমাজকে তিনি টেনে এনেছেন রাজপথের উন্মাতলে আন্দোলনে। দ্বীনের একজন দ্বায়ী’ হিসাবে শহরের গণ্ডী পেরিয়ে ছুটে চলে যান গ্রামের নিভৃত অঞ্চলে। দুঃস্থ মানবতার সেবায় যিনি পেরেশান। এমন একজন মানুষ নিঃসন্দেহে আমাদের গৌরবের বিষয়। মর্দে মুমিন শাহজালালের রূহানী ফয়েজে প্লাবিত এ সাহসী সিপাহসালারের বহুমুখী কর্মকাণ্ডের মত কিঞ্চিত পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হবে ইনশাআল্লাহ।

মসজিদের ইমাম থেকে জননেতা
প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান ১৯৭৩ইংরেজীতে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ঢাকা বোর্ডের চুড়ান্ত পরীক্ষায় অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে ঢাকা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তিনজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সর্বাধিক নম্বর পেয়ে প্রথম বিভাগে কামিল (মোহাদ্দিস) ডিগ্রি লাখ করেন। তিনি কামিল পরীক্ষাকালীন সময় থেকে সিলেট শহরস্থ কাজির বাজার জামে মসজিদ কমিটির অনুরোধে ও মরহুম হযরত মাওলানা হাফিজ আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়ার নির্দেশে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৫ মার্চ ৭৩ ইংরেজী তারিখে। এ সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
প্রিন্সিপাল হাবীবের আজকের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষে অবস্থানের নেপথ্য কাহিনী অনুধাবন করতে, ইসলামের মসজিদ কেন্দ্রীক সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত হলে মানতে কারো আপত্তি থাকবেনা। প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান ছাত্রবস্থায় সিলেটের গৌরব শায়খে কৌড়িয়ার নির্দেশে মসজিদের ইমামতীর (বাংলাদেশের তৎকালীন বাস্তবতায় অতি নগন্য কাজ) দায়িত্ব আজ তাকে সিলেটের অবিসংবাদিত নেতা বা ইমামে পরিণত করেছে।
নেতা বা ইমামের কাজ হল সর্বাগ্রে সমাজের, সময়ের চাহিদা অনুধাবন ও তদনুযায়ী কাজ করা। প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমানের মধ্যে এ সকল গুণের সমাহার বিদ্যমান। এর প্রমাণ জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার প্রতিষ্ঠা থেকে নিয়ে নাস্তিক মুরতাদ বিরোধী আন্দোলন, বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়ন ও বিভাগ আন্দোলন, ধর্ম ও দেশ বিরোধী এনজিওদের অপতৎপরতার মোকাবেলা, সমাজ সেবামূলক ভূমিকা থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর বিতর্কিত নামকরণ প্রত্যাহারের দাবীতে আন্দোলনের প্রতিটি পদে প্রতিটি বাঁকে তার সরব উপস্থিতি ও নেতৃত্ব প্রদান। যা এখন ইতিহাস হলেও বিস্মৃত নয়।

উপমহাদেশ বৃটিশের গোলামী জিঞ্জিরে আবদ্ধ ছিল দীর্ঘদিন। বৃটিশদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে আলেমদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং বলিষ্ঠ। আর ঠিক এ কারণেই বৃটিশসৃষ্ট প্রভাবিত হয়ে এ উপমহাদেশে আলেমদের উপর অকথ্য নির্যাতন হয়েছে নানা আঙ্গিকে। এর মধ্যে ছিল উল্লেখ্যযোগ্য আলেমদেরকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন বা ছোট করে দেখা।
সময়ের ব্যবধানে সাম্রাজ্যের পতনের পর এই পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমায় অনেক পানি গড়িয়ে গেলেও আলেমদের খাটো করে দেখার মানসিকতা কিন্তু ১৯৭৪ পরিয়ে ১৯৭০ এ একেবারে মুছে যায়নি। তাছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী কটি বছর এদেশের আলমে সমাজের অবস্থা অত্যন্ত করুণ ছিল। কারণ তখন ধর্মীয় তৎপরতা নিষিদ্ধ ছিল। ইতিহাস সাক্ষী স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের নামে ইসলাম মুছে ফেলার এক সুগভীর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল।
তাদের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য কুদরতে খোদা শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে “রাব্বি জিদনী” তুলে দেয়াসহ নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজের নাম থেকে ইসলাম শব্দ তুলে ফেলা ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে আমরা যদি পরবর্তী আলোচনায় যাই,
তাহলে দেখবো মসজিদের ইমাম থেকে প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান জননেতায় উত্তরণ এটা অবাস্তব নয় সামাজিক প্রয়োজন এবং চাহিদার আলোকেই তা সম্ভব হয়েছে। 

জামেয়া প্রতিষ্ঠা
কাজির বাজার জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালনকালে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সুব্যবহার, সুন্দর চরিত্র ও প্রতিভা বিকাশের মাধ্যেমে তিনি এলাকার জনসাধারণরে প্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। তিনি সমজিদ সংলগ্ন স্থানে একটা মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কথা বললে সকলেই তা সানন্দে গ্রহণ করেন। সুরমা নদীর তীরবর্তী সিলেট শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র কাজির বাজার। কাজির বাজার মসজিদের পার্শ্বে ডালিম গাছের নীচে মাত্র ৫/৭ জন ছাত্র নিয়ে তিনি একটি মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। সেই মক্তবটি দ্রুত উন্নতি লাভ করতে থাকে। ছাত্র সংখ্যাও বছরের পর বছর বাড়তে থাকে। স্বল্প পরিসরে স্থানে সংকুলান না হওয়ায় জামেয়ার জন্য এক খন্ড জমি খুঁজতে থাকেন। এ উদ্দেশ্যে জামেয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মহোদয় স্থানীয় গণ্যমান্য মুরব্বীয়ানদের নিয়ে বাংলাদেশের শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ৫ ডিসেম্বর ১৯৭৯ইং তারিখে সিলেট সার্কিট হাউজে সাক্ষাৎ করেন। কঠোর পরিশ্রমের পর শহরের মধ্যে একখন্ড জমি মাদরাসার জন্য বরাদ্দ করা হয়। আল্লাহর অসীম কুদরতে সেই নদীর তীরবর্তী মক্তবটি আজ অতি মূল্যবান ভূমিকার স্থানান্তরিত হয়ে দেশের অন্যতম খ্যাতনামা ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানরূপে সুপরিচিত। বর্তমানে জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী শিক্ষাগার রূপে স্বীকৃত।
মাওলানা হাবীবুর রহমান সাহেবের একনিষ্ঠ আত্মত্যাগে এবং কঠোর পরিশ্রমের ফল মহান আল্লাহর ফজলে জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া বিন্দু থেকে সিন্ধুতে পরিণত হয়েছে। হযরত শাহজালাল রা. পূণ্য স্মৃতি বিজড়িত সিলেট শহরে জামেয়ার অস্তিত্ব আল্লাহর অনুগ্রহ স্বরূপ।

উল্লেখ করার দাবী রাখে যে, প্রচলিত অর্থে কওমী মাদরাসা বলতে সাধারন মানুষ যেটাকে বুঝেন, তা থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এ জামেয়া মাদানিয়াঅ এখানে সুদক্ষ শিক্ষক মন্ডলীর তত্ত্বাবধানে বাংলা, ইংরেজী, অংক, বিজ্ঞানসহ আরবী, তাফসির, হাদিস ইত্যাদি বিষয়াবলীতে সমৃদ্ধ দাওরাতুল হাদিস (টাইটেল ক্লাস) পর্যন্ত চালু আছে। মেধাবী গরীব এতিম ছাত্রদের জন্য দর্জি বিজ্ঞান ও বিদ্যুতিক প্রশিক্ষণ এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ও সুব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ সর্বপ্রকার কর্মসংস্থান ইসলাম বিরোধী ও অসামাজিক কাজের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ এই জামেয়াকে বাংলাদেশের অন্যান্য সকল দ্বীনি প্রতিষ্ঠান থেকে পৃথক করেছে যে বিষয়টি তা হচ্ছে তার কর্মসূচী, তথা দ্বীনি শিক্ষা, দাওয়াত ও তাবলীগ এবং জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর কথা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাবে জামেয়ার নীতি মালায় উল্লেখ রয়েছে। এখানে একজন যোগ্য আলেম হিসাবে প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান ঈমানী দৃঢ়তার প্রমাণ মিলে পাশাপাশি একে দেওবন্দ আন্দোলনের মুল চেতনার বাস্তবিক যথাযথ বাস্তবায়ন অনুসরণ ও ভাবা যায়।

অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে বজ্রকঠোর

হযরত শাহজালাল র. এর পূণ্য স্মৃতি বিজরিত সিলেট। সিলেটকে সিলেট শরীফ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়, বলা হয় আধ্যাত্মিক রাজধানী। সিলেটের ধর্মীয় ঐতিহ্য, মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাই যে এর নেপথ্য কারণ তা বলা বাহুল্য। কিন্তু সুন্দর সমাজ ঐতিহ্য সুরক্ষিত না হলে অসুন্দর আঘাত হানবেই। যেথাবে আঘাত হেনেছিল আমাদের সিলেট শরীফে ১৯৭৭ সানে প্রায় ৪০ দিন ব্যাপী হউজি জুয়া ইত্যাদির আয়োজনের মাধ্যমে। সিলেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত উপরোক্ত অসামাজিক কার্যকলাপ তৎকালীন সময়ে অন্যান্য সকল সমাজ সচেতন, দ্বীন দরদী আলেম-উলামাদের মত তরুণ আলেম মাওলানা হাবিবুর রহমানকে ও বিচলিত করে এবং তাঁর উদ্বেগ ও বিচলতার মাত্র আরো বৃদ্দি পায় শরীয়ত বিরোধী প্রদর্শনী বদ্ধের দাবী জানিয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে গেলে, জেলা প্রশাসক সাক্ষাত প্রদান না করে উপরক্ত প্রদর্শনী বন্ধ না করার দাম্ভিক উক্তির কথা যখন শুনতে পান, প্রিন্সিপাল হাবিব একে আলেম সমাজের অবমাননা এবং শাহজালাল র. এর মর্যাদাহানীকর বলে মনে করেন। যে কোন কিছুর বিনিময়ে হলেও এ অশ্লীল প্রদর্শনী বন্ধ করার দৃর প্রত্যয় ব্যক্ত করে ময়দানে অবতরণ করেন। তখন ছিল কড়া সামরিক শাসননামল। তিনি একটি প্রচার পত্র মারফত এই প্রদর্শনী বন্ধের দাবীতে ২২ ফ্রেরুয়ারী ৭৭ইং শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজনের কথা ঘোষণা দেন। এদিকে শহরে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়। বাদ জুম্মা প্রতিটি মসজিদ থেকে হাজার জনতার বিক্ষোভ মিছিল বের হতে থাকে। জনতা রেজিষ্ট্রারী মাঠে সমবেত হতে থাকেন। সরকারের মূল টার্গেট ছিলেন মাওলানা হাবিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে কাজির বাজার জামে মসজিদ থেকে মুসল্লিদের এক বিরাট মিছিল শহরের তেলিহাওর তালতলা হয়ে রেজিষ্ট্রারী মাঠের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। মিছিলটি বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট আসা মাত্র প্রায় দু’শ রাইফেল মাওলানাকে লক্ষ্য করে উচিয়ে ধরা হয়। তদানিন্তন এসডিও আজিুর রহমান মাওলানাকে গুলি করার নির্দেশ দেন। মাওলানার হাতে ছিল সুন্নাতের লাঠি। তিনি এসডিকে লক্ষ্য করে লাঠি তুলে সিংহের স্বরে গর্জে উঠে বললেন সাবধান হয়ে যাও। কোথায় গুলি ছুড়বে। এটা কি ভারতের বর্ডার? শাহজালালের মাটিতে ইসলাম বিরোধী কfর্যকলাপ চলতে দেয়া হবে না।

আমরা শাহাদত বরণ করে জীবন দিয়ে তা প্রতিহত করব ইনশাআল্লাহ। কথাগুলি শুনা মাত্র রাইফেলের মুখ নীচু হয়ে যায়। এসডিও বিচলিত এবং ভীত হয়ে পড়েন। তখন মাওলানাকে গ্রেফতার করে গাড়ীতে উঠার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি গ্রেফতারী পরোয়ানা পেয়ে অবিচল চিত্তে তা গ্রহণ করেন। উত্তেজিত জনতা গাড়িটির গতিরোধ করে ফেলে এবং তাঁর গ্রেফতারীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বহু কষ্টে ব্যাপক পুলিশ প্রহরায় তাঁকে কতোয়ালী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর সংগে একজন ব্যবসায়ী এবং অপর একজন ছাত্রকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে রাখা হয়। মাওলানাকে থানায় নিয়ে যাওযার পর সম্মানজনক ভাবে একটি কামরায় রাখা হয়। অতঃপর ওলামায়ে কেরাম রেজিষ্ট্রারী মাঠে প্রতিবাদ সভা চালিয়ে যেতে থাকেন। অজস্র জনতা মাওলানার মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ নিয়ে কতোয়ালী থানায় অজস্র লোক প্রতিবাদ জানাতে ভীড় করে। ফলে প্রদর্শনী বাতিল করে রাত্রি ১২ টার সময় মাওলানা সাহেবকে মুক্তি দিতে প্রশাসন বাধ্য হয়। সেই ১৯৭৭ থেকে আজ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন আর সিলেটে প্রদর্শনী করার দুঃসাহস দেখাতে পারেনি।

এভাবেই প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান দেশ, সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্ম প্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে তাঁর নেতৃত্বের দৃঢ়তা, বলিষ্ঠতা দ্বারা সমাজকে অশ্লীলতামুক্ত, অশ্লীল পোষ্টার প্রদর্শনের বিরুদ্ধে যত্রতত্র পতিতাদের বিচরণ ইত্যাদি থেকে পূত পবিত্র হিসাবে সিলেটকে গড়ে তুলতে সচেষ্ট থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বজ্র কঠোর নেতা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন।

নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আন্দোলনের রূপকার
(সরদার আলাউদ্দিন বিরোধী আন্দোলন)
নব্বই শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ। কোন অপশক্তিকেতোয়াক্কা, প্রভু না মেনে মুসলিম স্বাতন্ত্র্য বোধ চেতনাই এদেশের স্বাধনিতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার একমাত্র উপায় আধুনিক বিশ্বের এখন কোন আগ্রাসী দেশ সরাসরি অন্য কোন দেশ দখল করতে না গিয়ে সেই দেশের মানুষের চিন্তা চেতনা, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য অবস্থানে প্রভাব বিস্তার করে তাদের কার্যোদ্ধার করে। আর এই কার্যোদ্ধারে তাদের ক্রীড়নক দালাল হিসাবে বেছে নেয় কিছু সংখ্যক ব্যক্তিদের যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, কোরআন, আল্লাহ-রাসুল সা. ইত্যাদি নিয় অযাচিত অনাকাংখিত মন্তব্য করে পত্র পত্রিকায় লেখালেখি, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প কবিতা ইত্যাদি রচনা দ্বারা সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টির প্রয়াস পায়। তাদের উদ্দেশ্যই থাকে মুসলিম সমাজে বিভ্রন্তি সৃষ্টি করা। এসকল অপতৎপরতা সমূহ মোকাবেলায় প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ১৯৮১ সনে এম.সি কলেজের জৈনক অধ্যাপক সরদার আলাউদ্দিন এক প্রবন্ধে উল্লেখ করে যে পবিত্র কোরআন আল্লাহর কালাম নয়, বরং এটা মানব রটিত পুস্তক। তাঁর ভাষায় মুহাম্মদ সা. অসাধরণ বুদ্ধি বলে একটি অদ্ভুদ পুস্তক রচনা করেছিলেন (নাউজুবিল্লাহ)। এ ধরণের কটুক্তির বিরুদ্ধে সিলেটবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সিলেটের সকল ইসলামী দল ও সংগঠন এবং আলেম সমাজ তিন দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেন এবং সর্ব সম্মতিক্রমে প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেবকে উক্ত কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত করা হয়। ৩ দফার আন্দোলনে গোটা দেশবাসী একাত্মতা ঘোষণা করেন। সেদিন প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোকের এক নজীর বিহীন বিক্ষোভ মিছিল প্রিন্সিপাল সাহেবের নেতৃত্বে সিলেটের রাস্তায় নেমে পড়ে। স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী মুসলিম জনতার এ মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। ফলে চারজন লোক শাহাদত বরণ করেন। প্রিন্সিপল সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তিনি আদালতে ঈমানদীপ্ত বক্তব্য রখেন। মাননীয় আদালত তাকেঁ নির্দোষ ঘোষণা করেন এবং জনতার চাপের মুখে সরকার উক্ত তিন দফা দাবী মেনে নিতে বাধ্য হয়।

তাসলিমা নাসরিন বিরোধী আন্দোলন

নব্বই দশকে তাসলিমা নাসরিন নামক আরেক পুরুষ বিদ্ধেষী এবং প্রকৃতি বিদ্ধেষী লেখিকা যখন কোরআন, সুন্নাহ, শরীয়ত ও প্রাণাধিক প্রিয় মহানবী সা. কে নিয়ে কটাক্ষের পর কাটাক্ষ শুরু করলো তখন প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান মহানবীর ইজ্জত রক্ষায় যে সংগ্রামের সূচনা করেছিলেন সিলেট থেকে পরবর্তীতে সেই আন্দোলনের ধাক্কা সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের সবর্ত্র বিস্তার লাভ করে। সংগ্রামের এক স্বার্থক রূপ সিলেট থেকে বিস্তার লাভ করে। (সেই নাজুক মুহুর্তে সর্ব প্রথম মুর্তাদ তসলিমার গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শান্তি তার সকল লেখা বাজেয়াপ্ত এবং মুর্তাদদের জন্য মৃত্যুদন্ডের আইন প্রণয়নের দাবী জানিয়ে তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা করলেন।) ১৯৯৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সিলেট রেজিষ্ট্রারী মাঠে অর্ধ লক্ষাধিক জনতার বিশাল সমাবেশে তিনি ঘোষণা করেন, তসলিমা নিছক একটি মহিলা কিংবা লেখিকা মাত্র। এদেশ থেকে ইসলাম এবং মুসলানদের খতম করার জন্য তাকে নিয়োগ করা হয়েছে। সে শতকরা নব্বই জন মুসলমানদের এ শান্তিপূর্ণ আবাস ভূমিতে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাংগার দিকে ঠেলে দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে আর এক ভুটান, সিকিম, কাশ্মির কিংবা বসনিয়া বানাতে সচেষ্ট। সে ধর্মপ্রাণ মুসলিম মহিলাদের অবাধ যৌনতার দিকে বলিষ্ট ভাষায় উদাত্ত আহবান জানাচ্ছে। সে পবিত্র কোরআনের আয়াত ও হাদিসকে বৈষম্য মূলক এবং বর্বরতা বলার দৃষ্টতা প্রদর্শন করছে। সে শরিয়তকে অচল, ক্রুটিপূর্ণ, শোষণ ও বৈষম্য মুলক এবং বর্বরতা বলার দৃষ্টতা প্রতর্শন করছে। সে শরীয়তী প্রথার বিবাহ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে একাই দশটা পুরুষের সঙ্গে যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার প্রতি উৎসাহ যোগাচ্ছে। তার অশ্লীল দর্শন দেশ-বিদেশের তথাকথিত সংবাদ পত্রে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আল্লাহর পবিত্র ঘর বাবরী মসজিদ ধ্বংসে তার আনন্দের সীমা নেই। তাই আনন্দ বাজার গোষ্ঠীকে তোষামোদ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সব মন্দির ধ্বংস এবং হিন্দু মেয়েদের মুসলমানগণ ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিনব আবিস্কার করেছে বলে ভারতে উগ্র হিন্দু গোষ্ঠীকে মজলুম মুসলমানের মেয়ে এবং মা বোনদের অত্যাচার করতে উদ্ধৃদ্ধ করেছে। তাকে একটি সাধারণ মহিলা বলে হালকা করে দেখার কোন উপায় নেই। তিনি হাজার হাজার জনতার পিনপতন নিরবতার মধ্যে বলেন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে ঈমানী চেতনা, দ্বীনি মূল্যবোধ এবং সুস্থ বিবেক ও অনুভূতি। 

এ সম্পদ বিলুপ্ত হলে কেউ নিজেকে কখনও সত্যিকার মুসলমান বলে দাবী করতে পারেনা। পরে প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান হাজার হাজার কন্ঠের গগণবিদারি তকবীর ধ্বনির মধ্যে ঘোষণা করেন আমার জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও নাস্তিক মুর্তাদদের বাংলার মাটিতে বরদাশত করবনা। সমাবেশ শেষে প্রিন্সিপাল সাহেবের নেতৃত্বে এক বিশাল মিছিল শহর প্রদক্ষীণ করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী এবং তথ্য মন্ত্রীর নিকট স্মারক লিপি দেয়া হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সরকার উক্ত রাষ্ট্রদ্রোহী ও ধর্মবিদ্বেষী মহিলার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং আশ্রয় প্রদান করে। তাই বাধ্য হয়ে প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেব ৯ অক্টোবর ১৯৯৩ইং সিলেট শহরে অর্ধ দিবস হরতাল আহবান করেন। শহরে নজীর বিহীন শান্তিপুর্ণ ও স্বতঃষ্ফুর্ত হরতাল পালিত হয়। হরতাল চলাকালীন এক বিরাট সমাবেশে তিনি ঘোষণা করেন আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসুচী রাজধানী ঢাকা থেকে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা দেয়া হবে। এসব সংবাদ বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হওয়ায় আন্দোলনরে রূপকার হিসাবে প্রিন্সিপাল সাহেব জনতার কিংবদন্তীতে রূপান্তরীত হন।
১৯৯৩ ইংরেজীর ১৯ অক্টোবর সন্ধায় প্রিন্সিপাল সাহেবের অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর জামেয়া রাহমানিয়া মোহাম্মদপুরে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক সাহেবের আহবানে ঢাকার আলেম সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রিন্সিপাল সাহেবের বাস্তবধর্মী আবেগময় বক্তব্য শুনে সকলেই আন্দোলনের ব্যাপারে ঐক্যমতপোষণ করেন। এ সভায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করার জন্য সাংবাদিক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে মতে ঢাকার স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক জনাকির্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক সাহেব উদ্ধোধনী বক্তব্য রাখেন। অতঃপর লিখিত বক্তব্য পেশ করেন আন্দোলনের পুরোধা প্রিন্সিপাল হাবিব। কর্মসূচীর আলোকে ১৮ই নভেম্বর ৯৩ইং ঢাকা বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইটে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশাল এক জনসভায় বক্তারা প্রিন্সিপাল সাহেবকে মুর্তাদ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা করায় মোবারকবাদ জানান।

প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেব কর্তৃক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষিত তসলিমা নাসরিনের দেশদ্রোহী ও ইসলাম বিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নেতৃত্বগুণে সূচিত আন্দোলনের ধাক্কা সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলে। তখন বিশ্বের স্বঘোষিত মোড়ল, লম্পট, চরম ইসলাম বিদ্ধেষী বিল ক্লিনটন ও তসলিমার স্বপক্ষে অবস্থান নেয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ আন্দোলন নিয়ে আলোচনার পর মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভারতের কলিকাতায় উগ্র বর্ণবাদী পৌত্তলিক গোষ্ঠি মনের জ্বালায় রাস্তায় নেমে আসে। তারা প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেবের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। যা টেলিভিশনে দেখানো হয়েছে। তাছাড়া গোটা ভারতে এ আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ভারত থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তসলিমাকে তার শয়তানী কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার এবং এ ব্যাপারে তাদের যাবতীয় সজযোগিতার আশ্বাস জানিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। যেমন দৈনিক প্রতিবেদন ২ নভেম্বর ১৯৯৩ সংখ্যায় একটি লিখায় শিরোণাম ছিল তসলিমা আপনি থামবেন না, আমরা আপনার পাশে আছি। স্টেইট রিপোর্টিং পত্রিকায় ১৫ অক্টোবর ১৯৯৩ সংখ্যায় সম্পাদকীয় কলামে লিখা হয়েছে… সাহাবা সৈনিক পরিষদ সিলেট ও শ্রীহট্র ১২ ঘন্টা বন্ধ ডেকেছে… বাঁচাও সাংবাদিক বাঁচাও কমিটি হরিদাসপুর হয়ে ঢাকা অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, আগে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টায় (১৯ অক্টোবর) তিনি ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। ১৯৪৯ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জে তাঁর জন্ম।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে ডায়াবেটিস ও হাই প্রেশারসহ শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ৭ অক্টোবর তিনি চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে অনেকটা সুস্থ হয়ে তিনি গত মঙ্গলবার দেশে ফেরেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার তিনি মাদরাসায়ও যান। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত নগরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।

১৯৯৪ সালে দেশের নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে সারাদেশে আলোচিত হন প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান। তার সংগঠন সাহাবা সৈনিক পরিষদের ব্যানারে সিলেটে অসংখ্য সভা-সমাবেশ করেন। তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। এছাড়াও দেশের নাস্তিক-মুরতাদবিরোধী আন্দোলনের কারণেও তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি পান।

১৯৭৪ সালের জুনে দেশের শীর্ষ আলেমদের তত্ত্বাবধানে সিলেটের কাজিরবাজার এলাকায় সুরমা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদরাসা। দারুল উলুম দেওবন্দের নীতিতে পরিচালিত এই মাদরাসা শুরু থেকেই সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজিসহ জাগতিক বিষয় যুক্ত করে নতুন ধারার সূচনা করেন।

অবিভক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ খেলাফত মসজিলের আমির নির্বাচিত হন প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান। ২০১২ সালে ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশে খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক মৃত্যুবরণ বরণ করার পরে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে দলের আমির নিযুক্ত হন মাওলানা হাবিবুর রহমান।

১৯৪৯ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ঘনশ্যাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন প্রিন্সপাল  হাবীবুর রহমান। কওমি মাদরাসার প্রধানের পরিচয় মুহতামিম হলেও তিনি খ্যাতি পেয়েছিলেন প্রিন্সিপাল হিসেবে। তিনি কওমি মাদরাসায় পড়ালেখার পাশাপাশি দেশের প্রাচীনতম আলিয়া গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি মাদরাসায় ফাজিল পর্যন্ত পড়েন। পরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাস করেন।

Comment

Share.

Leave A Reply