হাদিয়া গ্রহণে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে : আল্লামা বাবুনগরী

0

জুনাইদ আহমদ : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহকারি পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি খুবই নাজুক৷ সবকিছুতেই আজ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে হারামের সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হচ্ছে৷ হালাল গ্রহণ করে হারামের সংমিশ্রন থেকে আমাদের বাঁচতে হবে৷

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে হাদিয়া; হাদিয়া নয়। অনেক হাদিয়াও এখন ঘুষে পরিণত হয়ে গেছে। হাদিয়ার নামে ঘুষের আদানপ্রদান হয়৷ তাই এখন হাদিয়া গ্রহণেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে!

গতকাল ২৮ ই অক্টোবর রবিবার বাদ মাগরিব দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় দারুল হাদিস মিলনায়তনে হাদিসের সর্বোচ্চ কিতাব ‘বোখারী শরীফে’র পাঠদানকালে ৫১৬৪ নং হাদীসে ব্যাখ্যায় “হালাল গ্রহণ” সংক্রান্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি৷

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, বর্তমানে অনেকেই হালাল-হারামের কোন তোয়াক্কা করে না৷ অথচ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা হালাল গ্রহণ এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন৷ তাই মুসলমান হিসেবে সর্বক্ষেত্রে আমাদের হালাল হারামের বাছ-বিচার করে চলতে হবে৷ হালাল-হারাম সু-স্পষ্ট৷ আর দু’য়ের মধ্যবর্তি হলো মুশতাবাহা বা “সন্দেহ”৷ তাই হালাল গ্রহণ করে হারাম এবং সন্দেহযুক্ত জিনিস বর্জন করতে হবে৷

পাঠদানকালে তিনি আরো বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, তোমরা হালাল ভক্ষণ করো এবং নেক আ’মাল করো৷ বর্তমানে আমাদের খাদ্যে বেজাল৷ আমাদের খাবারে আজ হারামের সংমিশ্রণ, তাই আমরা নেক আ’মাল করতে পারি না৷ আমালে ছালেহা বা নেক আমালের পূর্বশর্ত হলো হালাল ভক্ষণ করা এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকা৷

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে৷ হাদিস শরীফে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হারাম ভক্ষণকারির শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না৷ তাই খুব যাচাই বাচাই করে খাদ্য ভক্ষণ করতে হবে এবং সর্বক্ষেত্রে বাছ-বিচার করে চলতে হবে৷

হাদিয়া দেয়া-নেয়া সুন্নাত৷ হাদিয়া আদান প্রদানে মুহাব্বাত বাড়ে৷ তবে বর্তমানে অনেক হাদিয়া ঘুষে প্ররিণত হয়ে গেছে৷ বর্তমানে স্বার্থ হাসিলের জন্য হাদিয়া প্রদান করা হয়৷ হাদিয়ার মাধ্যমে বসে আনার অপচেষ্টা করা হয়৷
তাই আমাদেরকে হালাল-হারামের ব্যপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বণ করতে হবে।

Comment

Share.

Leave A Reply