জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট : কিছু শঙ্কার কথা

0
সৈয়দ শামছুল হুদা ::

দেশে খুব তাড়াতাড়িই রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এর কিছুটা সূচনা হয়ে গেছে বলেও আমার কাছে মনে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে : এই যে আগামী দিনের রাজনীতির নতুন মেরুকরণ, এর সাথে এদেশের ইসলামী দলগুলোর ভুমিকা কী হবে? এই সরকারের আমলে ইসলামী শক্তির মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা তৈরীতে সক্ষম হয়েছে। একটি শক্তিকে কাছে টানার জন্য হেফাজতের মাধ্যমে শাপলায় কিছুটা রক্তক্ষয় করতে হয়েছে। অপর শক্তিটাকে নির্মূলের জন্য যা যা করা দরকার তার সবকিছুই করা হয়েছে। চারদলীয় জোট সরকারের সবগুলো দলকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সকল পথকে স্তব্দ করে দেওয়া হয়েছে।
চারদলীয় জোট আন্দোলনের শেষ দিকে এরশাদ জোট থেকে বের হয়ে যায়। জোট গঠন করে সরকার গঠনের পর ইসলামী ঐক্যজোট ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। আর বিগত ১০টি বছরে বিএনপি ও জামায়াতকে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার সকল কৌশল অবলম্বন করা হয়। অপরদিকে ইসলামী ঐক্যজোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০দলীয় জোট থেকে বের হয়ে কেউ লীগের সাথে, কেউ জাতীয় পার্টির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এহেন অবস্থায় বিএনপির সামনে শক্তির বিকল্প ভাবার পথকে গ্রহন করতে বাধ্য করে বিদেশি শক্তিগুলো এবং মাঠের বাস্তবতা। এসব কারণেই বিএনপি থেকে ইসলামী দলগুলো কিছুটা মুখ ফিরিয়ে নেয়। বিএনপিও এক্ষেত্রে নিরব ভুমিকা পালন করে। আগ্রহভরে কাউকে ধরে রাখার ব্যাপারে জোরালো ভুমিকা নিতে গড়িমসি করে।

এমনি একটি পরিস্থিতিতে যে ঐক্যফ্রন্ট এ বিএনপি যোগ দিয়েছে, যেখানে ২০দলের কাউকেই রাখা হচ্ছে না, বরং সেই সকল দলকে সামনে রাখা হচ্ছে, যারা ভোটের রাজনীতিতে দুর্বল। একদিকে ঐক্যফ্রন্ট গঠনে বিএনপির বিশাল ছাড় দেওয়ার ঘটনায় অবাক হওয়ার মতো কিছু ঘটলেও ২০দলে ভাঙ্গন ধরেনি। অপরদিকে ২০দলেও দেখা যায়নি কোন প্রকার বিরুপ মন্তব্য বা প্রকাশ্য কোন বিরোধ। এসব কারণে মনে করছি, রাজনীতিতে পরিবর্তন আসন্ন। বিদেশি শক্তিগুলোকে আশ্বস্ত করতে এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া বিশেষ তাৎপর্যবহ।

কিন্তু যে জিনিসটি আমার কাছে শঙ্কার মনে হচ্ছে, সেটা হল : এই ফ্রন্ট গঠন হয়তো ক্ষমতা পরিবর্তনের সিড়ি তৈরী করবে। কিন্তু ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য আগামী সরকার হবে আরো বেশি নিষ্ঠুর। তারা বাংলাদেশে ইসলামী আদর্শ ও শিক্ষার বিরোধী ভুমিকা রাখবে কঠিনভাবে বলেই মনে হচ্ছে।

Comment

Share.

Leave A Reply