ভারতীয় রুপির মান কমে টাকার সমান হতে যাচ্ছে

0

ভারতীয় রুপির বিপরীতে ডলারের পাশাপাশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশি টাকা। গেল সপ্তাহে নিম্নমুখী ধারায় রুপির রেকর্ড মূল্যপতন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার একটা পর্যায়ে ১০০ রুপির দাম নেমে দাঁড়িয়েছিল ১১৩ টাকা। অতীতে কোনো সময় এতো কম দামে রুপি পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা শক্তিশালী হলে পণ্য আমদানি-রফতানিতে তেমন বড় প্রভাব পড়বে না। তবে ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতে যাবেন তারা লাভবান হবেন। কারণ রুপি কিনতে এখন আগের চেয়ে টাকা কম লাগবে। রুপির এ মান ধারাবাহিক কমতে থাকলে এক সময় টাকা আর রুপি সমান হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইন্টারনেট মানি এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) এক মার্কিন ডলারে বিনিময়ে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৬৬ রুপি। চলতি বছরের শুরুতে (১ জানুয়ারি) যা ছিল ৬৩ দশমিক ৮৮ রুপি। এ হিসেবে ১০ মাসের ব্যবধানে রুপির মান কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এখন এক ডলারে পাওয়া যাবে ৭৩ দশমিক ৬৬ রুপি। যা রুপির ইতিহাসে সর্বনিম্ন দর।

ডলারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রাও শক্তিশালী হচ্ছে। ৪ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি রুপিতে মান দাঁড়ায় এক টাকা ১৩ পয়সা। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ১১৩ টাকায় ১০০ রুপি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ১০০ রুপিতে মিলেছে ৮৯ টাকা। টাকার বিপরীতে রুপির এ দর এযাবৎকালের সর্বনিম্ন।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে। ফলে ডলাদের বিপরীতে রুপির মান কমেছে। তবে রুপির যে হারে অবমূল্যায়ন হয়েছে সেই হারে টাকার অবমূল্যায়ন হয়নি। যার কারণে রুপির মান টাকা কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে কিছুটা সুবিধা হলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রফতানিতে। অর্থাৎ দেশ থেকে যারা ভারতে পণ্য রফতানি করে তারা কিছুটা প্রতিযোগিতায় পড়বে। কারণ রফতানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, ফলে চাহিদা কমবে।

তিনি বলেন, রুপির দরপতনের কারণে সবচেয়ে লাভবান হবেন ভ্রমণকারীরা। তারা এক ডলারে আগের তুলনায় বেশি রুপি পাবেন। এতে পণ্য কেনাকাটায় খরচ কম লাগবে।

আমদানি-রফতানিকারকদের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে পণ্য বেশিরভাগ কেনাবেচা হয় ডলারে। ফলে টাকা শক্তিশালী হলে বা রুপির মান কমলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে খুব একটা প্রভাব পড়ে না। তবে যারা ভারত ভ্রমণ করবেন কিংবা কাঁচা টাকা ভাঙান তারা লাভবান হবেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী এনএস ভেঙ্কটেশ বলেন, তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ভারতীয় মুদ্রা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে মুদ্রাটি। তবে ভারতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী উল্লেখ করে তিনি রুপির মান ৬৯-এর কাছাকাছি স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ভেঙ্কটেশ বলেন, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) রুপির উত্থান-পতনের বিষয়টি দেখছে। ফলে মুদ্রা বিনিময় বাজারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

এদিকে রুপির এ দরপতন ঠেকাতে ইতিমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক-আরবিআই।

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ধারাবাহিক বৃদ্ধি ও মার্কিন ডলারের বাড়তি চাহিদার কারণে রুপির এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল সংস্থাগুলোকে বাজার থেকে দশ বিলয়ন মার্কিন ডলার তোলার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে মুদ্রা আহরণকারী সংস্থাগুলোকেও বিশেষ ছাড় দিয়েছে। শিগগিরই ঋণ নীতিতেও পরিবর্তন আনছে আরবিআই। গত চার বছরের মধ্যে বর্তমানে তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে রুপির মান কমায় বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য সুখবর বলছেন দেশের পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা জানায়, ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমায় এখন ওই দেশে ভ্রমণের খরচ কমেছে। প্রতিবছরই রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক বাংলাদেশ থেকে ভারত ঘুরতে যায়। এখন চলছে ভারত ভ্রমণের সুবর্ণ সময়। এ সুযোগ অনেকে গ্রহণ করছেন। এখন ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করেছে। ডালের মানও রুপির তুলনায় বেড়েছে। সব মিলিয়ে ভারতে ভ্রমণ আরও বাড়বে।

ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ বৈচিত্র্যময় দেশ ভারত। যার আয়তন প্রায় ৩৩ লাখ বর্গ কিলোমিটার, যেখানে বসবাস করেন ১৩২ কোটিরও বেশি মানুষ। মরুভূমি থেকে বরফ সবই আছে ভারতে। আয়তন ও বৈচিত্র্যের কারণে নিয়মিত প্রচুর পর্যটক যায় ভারতে। প্রতি বছরই এ সংখ্যা বাড়ছে।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মোট ২০ লাখ বাংলাদেশি ভারত সফর করেছে। তার মানে দেশটির বিদেশি পর্যটকদের এক-পঞ্চমাংশ বাংলাদেশি। ২০১৩ সালে যেখানে সোয়া পাঁচ লাখ বাংলাদেশি ভারত সফর করেছিল, সেখানে ২০১৭ সালে তা দাাঁড়ায় ২০ লাখে।#জাগোনিউজ

Comment

Share.

Leave A Reply