‘মুফতি ইজহার হেফাজতের কেউ নন’

0

কওমিকণ্ঠ :  আধ্যাত্মিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে আজ ৭ অক্টোবর ১৮ দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত “আল্লামা শফীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও হেফাজতের শুদ্ধি প্রক্রিয়া” শীর্ষক প্রতিবেদনে মুফতি ইজহারুল ইসলামের বিবৃতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আজ বাদে আছর সংগঠনের হাটহাজারীস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরী সভা আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়

এতে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা হাফেয তাজুল ইসলাম, যুগ্নমহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ সলিমুল্লাহ, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা মুফতি জসীমুদ্দিন, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা ইসহাক মেহেরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানী ও মাওলানা মুফতি রহিমুল্লাহপ্রমূখ।

হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বলা হয়, মুফতি ইজহারুল ইসলাম হেফাজতের কেউ নন। আগেও ছিলো না এখনও নেই। যিনি হেফাজতের দায়িত্বশীলই নন, তিনি আবার হেফাজত আমীরকে বহিষ্কার করবেন! এটা পাগলের প্রলাপ।

তারা বলেন, হেফাজতে ইসলাম দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে দেশের উলামায়ে কেরাম হেফাজতের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ ছিলো, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ।

মুফতি ইজহার দাবী করেছেন, তিনি হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা নায়েবে আমীর। প্রতিষ্ঠাতা তো অনেক দূরের বিষয়, তিনি হেফাজতেরও কেউ নন। হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা একমাত্র শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তার দাবী, আমি হেফাজত ছাড়ছি না। হেফাজতে থাকলেই তো ছাড়ার প্রশ্ন থাকবে। যেখানে হেফাজতেই নেই, সেখানে আমি ছাড়ছি না- কথাটির কী অর্থ হতে পারে বোদ্ধামহল বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারবেন।

আবার বলেছেন, হেফাজতের নায়েবে আমীরের পদে থেকেই আমীরের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে তাকে ভবিষ্যতে বহিষ্কার করা হবে। তার এসব দাবী পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে। পরন্তু তার দাবী ও স্বঘোষিত নায়েবে আমির এবং মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ. এর আজীবন মুখপাত্রের মিথ্যা দাবী কেবল উদ্ভট উ™£ান্ততা। মাসিক মদীনা সম্পাদক মরহুম মাওলানা মুহি উদ্দিন খান রহ. এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সে একজন মানসিক রোগী। তাছাড়াও তিনি একজন জনবিচ্ছিন্ন আলেম।

হেফাজত নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিগত ১লা অক্টোবর হাটহাজারী মাদরাসায় চট্টগ্রাম জেলা বেফাক কর্তৃক আয়োজিত পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফী স্পষ্ট বলেছেন, আমি আওয়ামীলীগ হয়ে যায়নি। যারা তাকে আওয়ামীলীগ বলেছেন তারা মিথ্যাবাদি। মিথ্যাচার কখনো স্থায়ী হয় না। তিনি তার আদর্শে অবিচল রয়েছেন এবং হেফাজতের সমস্ত দাবী দাওয়ার বিষয়ে অটল রয়েছেন। তিনি আদর্শচ্যুত হয়ে যাননি। প্রকৃত ঘটনা না জেনে না বুঝে কারো বিরুদ্ধে মন্তব্য করা সুস্থ মস্তিষ্কের পরিচায়ক নয়।

আমরা স্পষ্ট উল্লেখ করতে চাই যে, কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি আদায়ের বিষয়টি দেশের প্রসিদ্ধ ৬ টি বোর্ডের নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান সরকারের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকার প্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এম, এ, এর সমমান ঘোষণা করেছেন; যা সকল কওমী উলামাদের দীর্ঘদিনের দাবী। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে এই দাবী সফলভাবে আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি আর হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবী এক নয়।

তারা আরো বলেন, সনদের স্বীকৃতি এটা আমাদের অধিকার। নাগরিক হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রে আমাদের অবদানও কম নয়। সনদের স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়ায় বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানো মানে সরকারের কাছে কওমী উলামায়ে কেরামদেরকে বিক্রি করে দেয়া নয়।

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃতে কওমী উলামায়ে কেরামের বিজয় নিশ্চিত হওয়াতে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তা মেনে নিতে পারছে না। তারা ইনিয়ে বিনিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে শাপলার ট্রাজেডির সাথে বিমুখতা প্রদর্শন বলে ব্যর্থ প্রমাণ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরিষ্কার বলা হয়, আল্লামা শাহ আহমদ শফী কোন প্রলোভনে উদ্ধুদ্ধ হননি এবং কারো কাছ থেকে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন করেননি। তিনি হেফাজতের আদর্শ থেকেও চুল পরিমাণ বিচ্যুত হননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে কিংবা টাকা নেয়ার যেসব অনৈতিক উদ্ভট গল্প উপস্থাপন করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট এবং হুযুরের সম্মান ও মর্যাদা বিনষ্ট করার জঘন্য ষড়যন্ত্র। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সকল মহলকে এসব অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্যে আহ্বান জানাচ্ছি।

Comment

Share.

Leave A Reply