ভোলার ওজাহাতি জোড়ে ৪ সিদ্ধান্ত : মাওলানা সা’দের মূলনীতি অনুযায়ী তাবলিগ চলবে না

0

বিশ্বব্যাপী দাওয়াতে দ্বীনের কাজে তাবলিগ জামাতের ভূমিকা অনেক বড়। দীর্ঘদিন ধরে তাবলিগ জামাতে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। তাবলিগের কাজকে সুন্দর ও গতিশীল করতে বিতর্কিত ও ভ্রান্ত মূলনীতি থেকে বিরত থাকতে দেশব্যাপী চলছে ওয়াজাহাতি জোড়।

আলেম-ওলামাদের পরামর্শের আলোকে ‘তাবলিগ যে মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে চালু হয়েছিল সে মতাদর্শের উপরেই চলবে। মাওলানা সাদ কান্ধলভির বিতর্কিত ও ভ্রান্ত মূলনীতি অনুযায়ী তাবলিগ জামাত পরিচালিত হবে না।

ভোলার ওয়াজাহাতি জোড়ে ৪ সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয় এবং জমহুর (সংখাগরিষ্ঠ) আলেমগণ তিনটি মৌলিক কারণে একমত হয়েছেন-
(ক) (মাওলানা সাদের) কোরআন হাদিসের মনগড়া ব্যাখ্যা।

(খ) তাবলিগের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে (মাওলানা সাদ) তাবলিগ ব্যতিত দ্বীনের অন্যান্য মেহনতকে (দ্বীন শিক্ষা ও তাসাউফ) হেয় পতিপন্ন করা

(গ) পূর্ববর্তী ৩ হজরতের তরতীব থেকে সরে যাওয়ার কারনে মাওলানা সাদকে অনুসরণ বর্জনীয় এবং নিষিদ্ধ।

মাওলানা সাদ পূর্বের আমির মরহুম মাওলানা এনামুল হাসানের রহ. রেখে যাওয়া শুরায়ী নেজামকে উপেক্ষা করে নিজেই নিজেকে আমির বলে দাবি করেছে, যা শরীয়ত বিরোধী। তাই তার কোনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা যাবে না।

পূর্ববর্তী তিন হজরতের বাতানো পদ্ধতিতে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ সারা পৃথিবীতে সমাদৃত ও গৃহীত হয়েছে। তাই বাংলাদেশের তাবলীগের কাজও তাদের দেখানো পদ্ধতিতে ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হবে। নতুন কোন পদ্ধতি চালু করা যাবে না। জেলা মারকাজসহ সব মারকাজ এই পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে ।

সরকারের সাথে পরামর্শক্রমে ২০১৮ সালের ৫দিনের জোর ৭,৮,৯,১০,১১ ডিসেম্বর এবং ২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্ব ১৮, ১৯, ২০ জানুয়ারী এবং ২য় পর্ব ২৫, ২৬, ২৭ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে ।

তাবলিগের চলমান সংকট নিরসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পর এবার ভোলায় অনুষ্ঠিত হলো ওয়াজাহাতি জোড়। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে জোহর পর্যন্ত ভোলা শহরের বাংলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ জোড়।

ভোলার এ ওয়াজাহাতি জোড়ে জেলার বিভিন্ন থানা-উপজেলা থেকে সকাল থেকেই উপস্থিত হতে থাকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। উদ্দেশ্য একটাই সঠিক দিক-নির্দেশনা পাওয়া।

তাবলিগ জামাতের মোবারক মেহনতকে কার্যকরি করতে এবং বর্তমান সংকটে দাওয়াতি কাজকে জোরদার করতে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয় এ জোড়ে।

ভোলার ওয়াজাহাতি জোড়ে অংশগ্রহণ ও বয়ান পেশ করেন কাকরাইল মারকাজের মুরব্বি হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমদ, মাওলানা ওমর ফারুক, মুফতি আমানুল হক, ভোলা জেলা ঈমান-আক্বিদা সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মাওলানা বশির আহমদ, মাও জালাল আহমদ প্রমুখ।

ওলামায়ে কেরাম তাদের বক্তব্যে এ কথা সুস্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন যে, ‘ভুল থেকে সরে এলে আমরা পুনরায় মাওলানা সাদকে মানতে রাজি’। তবে তার বিতর্কিত মন্তব্য ও মূলনীতি অনুযায়ী তাবলিগ পরিচালিত হবে না।

হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমদ বয়ানে উল্লেখ করেন, ‘তাবলিগ জামাত প্রতিষ্ঠায় আলেম ওলামাদের ভূমিকাই প্রধান ছিল। পবিত্র হাদিস শরিফ অনুযায়ী আলেম, ইলমে দ্বীনের ছাত্র, ইলম শ্রবণকারী এবং ইলমের সর্মথনকারী এই ৪ শ্রেণীর লোকের অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।

এ ৪ শ্রেণীর লোকের বাইরে ৫ম নম্বরে কোনো ব্যক্তির মতাদর্শে তাবলিগ পরিচালিত হবে না। আর তা হাদিসেও বলা নেই। তাবলিগ জামাত প্রতিষ্ঠার উদ্দ্যেশ্য হল পথহারা মানুষকে আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনা, দ্বীনের পথে পরিচালিত হতে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে দেয়া।

আলেম-ওলামাদের বিরোধিতা করার জন্য মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাবলিগ প্রতিষ্ঠা করেননি। জনসাধারণকে আলেম-ওলামাদের থেকে দূরে সরানো তাবলিগের মেহনত নয়। মানুষকে আলেম-ওলামা থেকে দূরে সরানো বা গোমরাহ বানানো শয়তানের মেহনত।

তাবলিগ প্রতিষ্ঠা লগ্নে যেমন আলেম-ওলামাদের পরামর্শ মোতাবেক পরিচালিত হয়েছে আগামী দিনগুলোতেও আলেম-ওলামাদের পরামর্শে চলবে তাবগিল।

ভোলার ওয়াজাহাতি জোড়ে আলেম-ওলামাগণ আরো বলেন, ‘মাওলানা ইলিয়াস রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাবলিগ জামাত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পথহারা মুসলমানকে পুনরায় দ্বীনের পথে ফেরানের জন্য।

আমরা কাউকে মহব্বত করেবো, আনুগত্য করবো একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, দুনিয়াবী স্বার্থে নয় । কাউকে মহব্বত করতে গিয়ে কিংবা আনুগত্য করতে গিয়ে আমাদের ঈমান শেষ করতে পারি না।

বয়ানে আরো বলা হয়, মাওলানা সাদ তার ভুল থেকে সরে এসে দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে আপস করে নিজের ভুল শুধরে নেয়া এবং নিজামউদ্দিন মারকাজ থেকে চলে যাওয়া প্রবীন আলেম, মাওলানা সাদ ও তার পিতার শিক্ষক মাওলানা ইয়াকুব, মাওলানা আহমদ লাটসহ যারা বিভিন্ন কারণে নিজামুদ্দিন ছেড়ে চলে গেছেন তাদের ফিরিয়ে আনলে আমরা পুনরায় তার আনুগত্য করতে রাজি আছি।

আমরা কারো ব্যাপারে গিবত করতে তাবলিগে আসিনি। আমাদের ঈমানি দায়িত্বের কারণে আমরা তাবলিগ করেছি, আবার সেই ঈমানি দায়িত্ব থাকার কারণেই আমরা আজ মাওলানা সাদের ব্যাপারে কথা বলছি।

মনে রাখতে হবে, তাবলিগের তিন প্রাণ পুরুষ মাওলানা ইলিয়াস, মাওলানা ইউসুফ, মাওলানা এনামুল হাসান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাবলিগ পরিচালনায় আলম-ওলামাদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করতেন। সে সময়ে তাবলিগ নিয়ে তেমন কোন বির্তক হয় নি। এখনও সেভাবেই তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আমাদের বিশ্বাস মাওলানা সাদ তার বিতর্কিত বক্তব্য ও মূলনীতি থেকে সরে আসবেন। আমরাও তার আনুগত্য করব।

অতঃপর ঘোষণা করা হয় যে, ভোলাতে কোনো আঞ্চলিক ইজতেমা হবে না। তবে ভোলা জেলা টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপে অংশগ্রহণ করবে।

Comment

Share.

Leave A Reply