জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে ইসির মতবিরোধ?

0

আগামী ডিসেম্বরে শেষ দিকে বা জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংসদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরেশোরে। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন আয়োজনকারী এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সহকর্মীরা বাক স্বাধীনতা ‘কেড়ে নেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন খোদ কমিশনের এক নির্বাচন কমিশনার। এতে আগামী সংসদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কমিশনের এ রকম মতবিরোধে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংকট সৃষ্টি হবে না বলেও জানান প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

ইসি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট কমিশনের ৩৫তম সভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়ে সভা বর্জন করেন পাঁচ কমিশনারের একজন মাহবুব তালুকদার। এরপরই কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। ৩৫তম সভার প্রায় দেড় মাস পর ৩৬তম সভা গতকাল সোমবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভাতেও নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে তা বর্জন করেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। সহকর্মীরা বাক স্বাধীনতা ‘কেড়ে নেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন খোদ কমিশনের এই নির্বাচন কমিশনার।

পরে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সভায় আমার বক্তব্য উপস্থাপন করতে না দেওয়ায় তাদের অভিন্ন অবস্থান আমাকে বিস্মিত ও মর্মাহত করেছে।’

এই দুই সভাতেই এক পক্ষে ছিলেন সিইসি কেএম নুরুল হুদা ও তিন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। আর অপর পক্ষে ছিলেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার একাই।

৩৬তম সভায় মাহবুব তালুকদারের তুলে ধরতে চাওয়া বিষয়গুলো হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সরকারের সঙ্গে সংলাপ।

অন্য কমিশনারা তার বাক স্বাধীনতা ‘কেড়ে নেওয়ার’ অভিযোগ করে গতকাল সোমবার কমিশন সভা বর্জন করার একদিন পরই আজ মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) আরেকটি বৈঠকে যোগ দিনে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এদিন সিইসিসহ অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে এক সারিতে বসেন তিনি। তবে তার মুখ ছিল ‘ভার’।

এর আগে অভিযোগ উঠেছিল, ইসি সচিবালয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিষয়ে সিইসি ও ইসি সচিব ছাড়া অন্য নির্বাচন কমিশনারকে জানানো হয় না। পরে কিছু কিছু কার্যক্রমে ‘বিধি-বিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে’উল্লেখ চার নির্বাচন কমিশনার ‘আন-অফিসিয়াল (ইউও) নোট’ও দেন।

এর পরিপ্রেক্ষাপটে ২ অক্টোবর ইসি সচিবালয় থেকে এক অফিস আদেশ জারি করা হয়, ইসি সচিবালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনায় আইন ও বিধিমালা অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়। অর্থ্যাৎ সিইসির পাশাপাশি অন্য নির্বাচন কমিশনারদের কাছেও সব বিষয়ে নথি উপস্থাপন করতে বলা হয় ইসি সচিবালয়কে।

এ রকম বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব কি না।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও অন্য কমিশনারদের প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিলেও এ নিয়ে কিছু বলতে রাজি নন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। এমনকি এ বিষয়ে কথা না বলার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধও করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে না বলে জানান সিইসি।

ইসির মতরিরোধ একাদশ জাতীয় নির্বাচন করা কঠিন হবে কি না জানতে চাইলে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, ‘কঠিন হবে না, কঠিন হবে না। থ্যাঙ্ক ইউ (ধন্যবাদ)।’

মঙ্গবলার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি উপলক্ষে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বৈঠক হয়। এতে নির্বাচন কমিশনার, মো. রফিকুল ইসলাম, মাহবুব তালুকদার, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ইসি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাংবাদিকরা জানতে চান- আজকে তো সবার কথা শুনলেন। গতকালকের বৈঠকে এক কমিশনারের কথা আপনারা শুনেননি। উনি বলেছেন বাক স্বাধীনতায় আপনারা হস্তক্ষেপ করেছেন।

এর জবাবে সিইসি বলেন, বলেন, আমাকে আর ইনসিস্ট (জোরাজোরি) করবেন না। আমি ওটা নিয়ে কথা বলবো না। আজকের কথা বলেন।

Comment

Share.

Leave A Reply