প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমানের জানাযা সম্পন্ন; লাখো মুসল্লির ঢল

0

ইলিয়াস মশহুদ : সিলেটের সিংহপুরুষ, ইসলামি আন্দোলনের কিংবদন্তি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির, জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমানের জানাযার নামাজ আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়।

জানাজার নামাজের ইমামতি করেন মরহুমের দ্বিতীয় ছেলে মাওলানা ইউসুফ।
প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমানকে তার প্রিয় কর্মস্থল কাজির বাজার মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমানের জানাজা উপলক্ষে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠ জনতার ঢল নামে। আলিয়া মাদরাসা মাঠের চার পাশ থেকে হাজার হাজার সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। নামাজের পূর্বে মরহুমের জীবনী নিয়ে দেশ বরেণ্যে রাজনীতিবিদ, আলেম-উলামারা বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে তারা বলেন, প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান ছিলেন একজন সংগ্রামী আলেমে দ্বীন ও বহুগুণে গুণান্বিত শ্রদ্ধাভাজন মানুষ। দ্বীনি শিক্ষার প্রচার-প্রসার ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে ইসলামি রাজনৈতিক অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

বক্তারা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টায় (১৯ অক্টোবর) তিনি ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। ১৯৪৯ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জে তাঁর জন্ম।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে ডায়াবেটিস ও হাই প্রেশারসহ শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ৭ অক্টোবর তিনি চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে অনেকটা সুস্থ হয়ে তিনি গত মঙ্গলবার দেশে ফেরেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার তিনি মাদরাসায়ও যান। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত নগরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।

১৯৯৪ সালে দেশের নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে সারাদেশে আলোচিত হন প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান। তার সংগঠন সাহাবা সৈনিক পরিষদের ব্যানারে সিলেটে অসংখ্য সভা-সমাবেশ করেন। তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। এছাড়াও দেশের নাস্তিক-মুরতাদবিরোধী আন্দোলনের কারণেও তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি পান।

১৯৭৪ সালের জুনে দেশের শীর্ষ আলেমদের তত্ত্বাবধানে সিলেটের কাজিরবাজার এলাকায় সুরমা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদরাসা। দারুল উলুম দেওবন্দের নীতিতে পরিচালিত এই মাদরাসা শুরু থেকেই সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজিসহ জাগতিক বিষয় যুক্ত করে নতুন ধারার সূচনা করেন।

অবিভক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ খেলাফত মসজিলের আমির নির্বাচিত হন প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান। ২০১২ সালে ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশে খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক মৃত্যুবরণ বরণ করার পরে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে দলের আমির নিযুক্ত হন মাওলানা হাবিবুর রহমান।

১৯৪৯ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ঘনশ্যাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন প্রিন্সপাল  হাবীবুর রহমান। কওমি মাদরাসার প্রধানের পরিচয় মুহতামিম হলেও তিনি খ্যাতি পেয়েছিলেন প্রিন্সিপাল হিসেবে। তিনি কওমি মাদরাসায় পড়ালেখার পাশাপাশি দেশের প্রাচীনতম আলিয়া গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি মাদরাসায় ফাজিল পর্যন্ত পড়েন। পরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাস করেন।

Comment

Share.

Leave A Reply