যে ৪০টি শরীরের জন্য খুবই উপকারী

0

এমন কিছু খাবার রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু আমরা প্রায় সময়েই তা ভুলে যাই। আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখতে হলে ফুসফুসকে সুস্থ রাখা জরুরি। আর সঠিক খাবার বাছাইয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের ফুসফুসের সু-স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারি।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে,যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ মিলিয়ন মানুষ ফুসফুসের বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হাঁপানি ও ব্রংকাইটিস ইত্যাদি রোগ।

আমাদের জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাস আমাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদী রোগে ভোগাতে পারে। তবে আশার বিষয় হচ্ছে- এমন কিছু খাবার রয়েছে যা যেকোনো বয়সের,যে কোনো লিঙ্গের এবং যে কোনো আয়ের মানুষের নাগালে রয়েছে।

নিচে আরটিএনএনের স্বাস্থ্য সচেতন পাঠকদের জন্য এমন ৪০ টি খাবারের বর্ণনা দেয়া হয়েছে যা আমাদের ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত কার্যকর:

১। আপেল: আপনি যদি দিনে একটি আপেল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেন তবে আপনাকে আর সবসময় ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে না, বিশেষত যদি আপনি ফুসফুসের সমস্যায় ভুগে থাকেন। আপেলে থাকা কুয়েরেচেটিন (quercetin),অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি মানুষের শ্বাস কষ্ট জনিত রোগের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

২। শিমের বিচি: আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকায় কিছু পরিমাণ শিমের বিচি রাখুন। এটি একই সাথে আপনার পেট ভরিয়ে দিবে এবং আপনার ফুসফুসের ক্ষতিকর উপাদান সমূহ পরিষ্কার করতে ভূমিকা রাখবে। শিমের বিচিও কুয়েরেচিটিন(quercetin) এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের অন্যতম উৎস। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যান্সার সোসাইটি ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত শিমের বিচি খেতে উপদেশ দেয়।

৩। ওরেগানো সবজি (Oregano):প্রতিদিনের খাদ্যে কিছু পরিমাণ ওরেগানো যুক্ত করলে এটি আমাদের ফুসফুসকে সুস্থ রাখবে। ওরেগানোতে প্রচুর পরিমাণে রোসমারিনিক(rosmarinic) এসিড বিদ্যমান যা আমাদের ফুসফুস থেকে দূষিত বায়ু অপসারিত করতে কাজ করে থাকে।

৪। ব্রোকলি(ফুলকপি বিশেষ): রাতের খাবারে কিছু পরিমাণ ব্রোকলি খাওয়া মানে আপনি পরদিন আপনার ফুসফুস একটি সুস্থ এবং সুন্দর সকাল পাবে। ব্রোকলিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফুসফুসের প্রদাহকে দূর করে একে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে। ব্রোকলি এমনকি ভিটামিন ‘সি’ এর অন্যতম উৎস যা শিশুদের কাশি দূর করতে কার্যকরী।

৫। ক্রানবেরি (বেরি জাতীয় ফল): যদি আপনার শ্বাস কষ্ট থেকে থাকে তবে আর দেরি না করে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কয়েকটা ক্রানবেরি রাখুন। ক্রানবেরিতে ভিটামিন ‘সি’ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে কুয়েরেচিটিন নামক উপাদান রয়েছে যা শুধু আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখবে না বরং আপনাকে মুটিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে।

চুং শান মেডিকেল হাসপাতাল কর্তৃক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ক্রানবেরি ফুসফুস ক্যান্সারের কোষকে ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকরি।

৬। টার্কি মুরগির মাংস: যে কেউই এই পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু মাংস পছন্দ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের করা এক গবেষণাতে দেখা যায় যে, টার্কি মুরগির মাংসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ বিদ্যমান যা ধূমপায়ীদের ফুসফুস ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দিতে সক্ষম।

৭। আখরোট ফল: প্রতিদিন আপনি কর্মক্ষেত্রে কিছু আখরোট ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেন। এটি আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখবে। এমনকি এটি আপনাকে স্লিম রাখতেও ভূমিকা রাখবে। আখরোটে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন,বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বিদ্যমান।

৮। কেইপার (বাদাম জাতীয় ফল): কেইপার এমন একটি খাদ্য যা খেতে অনেকটা নোনতা লাগে। তবে এটি শুধুমাত্র আপনার জিবে জল নিয়ে আসবে না বরং এতে থাকা কুয়েরেচিটিন এবং ওমেগা-৩ এসিড আপনাকে শ্বাস-কষ্ট জনিত রোগ থেকেও দূরে রাখবে।

৯। কোকোয়া (কোকা গাছের বীজ থেকে প্রস্তুত এক ধরণের চূর্ণ): কোকোয়া চূর্ণ তাদের জন্য খুবই উপকারী যারা নিজেকে হালকা-পাতলা রাখতে চান। কেননা এটি আপনাকে পেটে বেড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। এতে থাকা কুয়েরেচিটিন এবং ক্যাফেইন নামক উপাদান আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১০। মাশরুম: আপনি ডিম ভাজিতে বা সালাদে যেভাবেই মাশরুম খান না কেন, এটি আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখবেই। যুক্তরাষ্ট্রের শ্বাস-প্রদাহ বিষয়ক একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায় যে- শিশুদের শ্বাস-প্রদাহ জনিত রোগের বিরুদ্ধে ভিটামিন ‘ডি’ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। সুতরাং প্রতিদিন আপনি এবং আপনার সন্তানদের কে মাশরুম খেতে দিন কেননা এটি ভিটামিন ‘ডি’ এর অন্যতম উৎস।

১১। পালং শাক: আপনার প্রিয় যেকোনো খাদ্যের সাথে একটু পালং শাক যোগ করা মানে আপনি ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত থাকবেন। পালং শাকে শুধুমাত্র ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে তা নয় বরং এতে প্রচুর পরিমাণে কুয়েরেচিটিন বিদ্যমান।

১২। আকাই বেরি (বেরি জাতীয় ফল): শ্বাস-প্রদাহ জনিত রোগ থেকে মুক্তি চান এমন সকল ব্যক্তির জন্য আকাই বেরি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অবশ্য কর্তব্য। এতে থাকা উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ‘সি’ শুধু মাত্র আপনাকে শ্বাস-কষ্ট থেকেই রক্ষা করবে না বরং এটি ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দিবে।

১৩। লাল বেল মরিচ (মরিচের মত দেখতে এক ধরণের সবজি): আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কিছু লাল বেল মরিচ যুক্ত করুন কারণ এটি ত্বরিত গতিতে ফুসফুসের সমস্যাকে সারিয়ে তুলতে সক্ষম। লাল বেল মরিচে একটি কমলা লেবুর চাইতেও বেশী পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এক গবেষণায় দেখতে পায় যে- লাল বেল মরিচে থাকা ক্রিপ্টোজেনথিন (cryptoxanthin) নামক উপাদান ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

১৪। রসুন: রসুন শুধুমাত্র খাদ্যের স্বাদই বাড়ায় না বরং এটি ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। রসুনে অতি উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান যা আমাদের শরীরকে বিভিন্ন প্রদাহ মূলক রোগ থেকে রক্ষা করে এবং ফুসফুসকে সুস্থ রাখে।

১৫। থাইম (সুগন্ধ যুক্ত একধরনের পাতা বিশেষ): থাইম নামকে সুগন্ধ যুক্ত মসলা রোজমেরিনিক এসিডে পরিপূর্ণ এবং এটি আমাদের ফুসফুসকে প্রদাহ জনিত রোগ থেকে কার্যকরী।

১৬। অ্যাভোকাডো: যুক্তরাষ্ট্রের ভানডেরবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় এক গবেষণায় দেখতে পায় যে- অ্যাভোকাডো তে থাকা ভিটামিন ‘সি’ এবং গ্লুটাথিওন(glutathione) নামক উপাদান ফুসফুসের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে এবং ফুসফুসকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।

১৭। সার্ডিন মাছ (এক প্রকার সামুদ্রিক মাছ): প্রতিদিন যদি আপনি তৈলাক্ত এই মাছ খান তবে আপনার ফুসফুসের স্বাস্থ্য অন্য যে কারো চাইতে খুবই ভালো থাকবে। সার্ডিন মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি’ এবং ওমেগা-৩ এসিড বিদ্যমান যা ফুসফুসের প্রদাহ জনিত রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরী।

১৮। কিউই ফল: একটি পরিষ্কার, স্বাস্থ্যবান ফুসফুস পেতে হলে আপনাকে প্রতিদিন কিউই ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কিউই ফল ভিটামিন ‘সি’ তে ঠাঁসা এবং এটি আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি আপনার রসনা বিলাস ও মিটাবে।

১৯। কফি: আপনি হয়ত কফির বিভিন্ন অপকারিতার কথা শুনে প্রতিদিন সকালে কফি পান করা থেকে বিরত রয়েছেন। তবে আশার কথা হচ্ছে এটি আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখার জন্য খুবই দরকারি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, কফিতে থাকা ক্যাফেইন শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য উপকারী।

২০। মুরগীর মাংস: মুরগীর মাংস শুধু মাত্র প্রোটিনের অন্যতম উৎসই নয় এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ফুসফুস সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের সানি বাফালো নামক একটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়- ভিটামিন ‘এ’ ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে সহায়তা করে।

২১। মাল্টা বা জাম্বুরা: প্রতিদিন এক গ্লাস মাল্টার রস বা একটি মাল্টা খেলে আপনি একটি সুস্থ ফুসফুসের অধিকারী হতে পারবেন। এছাড়াও আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে জাম্বুরা পাওয়া যায় যা ভিটামিন ‘সি’ এর একটি সহজলভ্য উৎস। এটি ফুসফুসের প্রদাহ থেকে আপনাকে রক্ষা করবে।

২২। লাল পেঁয়াজ: লাল পেঁয়াজে থাকা কুয়েরেচিটিন নামক উপাদান আমাদের শরীরে অ্যান্টি-হিস্টামিন হিসেবে কাজ করে যা ফুসফুসের সাথে জড়িত এলার্জি জনিত রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে।

২৩। ক্যাভিয়ার (সামুদ্রিক মাছের ডিম): ক্যাভিয়ার? সত্যি! হ্যাঁ, ক্যাভিয়ার বা সামুদ্রিক মাছের ডিম ভিটামিন ‘ডি’ এবং ওমেগা-৩ তে পরিপূর্ণ যা শ্বাস-কষ্টে ভুগছেন এমন কারো জন্য ঔষধের মত কাজ করবে।

২৪। আদা: ফুসফুসের স্বাস্থ্যের কথা বলবো আর আদার কথা বলবো না তা কি হয়। সর্দি জনিত রোগের বিরুদ্ধে আদার উপকারিতার কথা সবাই জানে তবে অনেকেই হয়ত জানেনা যে, আদা আমাদের ফুসফুসের জন্যেও সমান উপকারী। আদা তে থাকে উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শ্বাস-প্রদাহ জনিত রোগের বিরুদ্ধেই শুধু কাজ করে না বরং এটি ফুসফুস ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

২৫। ডিম: প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় ডিম খাওয়া মানে আপনি ভবিষ্যতে একটি সুস্থ ফুসফুসের অধিকারী হতে যাচ্ছেন। তবে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে আপনি একটি ডিমের পুরোটা খান। ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ‘ডি’ এবং প্রোটিন শ্বাস-কষ্ট জনিত রোগ থেকে মুক্ত রাখে।

২৬। চেরি ফল(জাম জাতীয় ফল): প্রতিদিন চেরি ফল খান মানে আপনি বছরে ডাক্তারের কাছে একবার কিংবা দুইবারের বেশী যান না। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে- চেরি ফলে রেসভারেটরোল(resveratrol) নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফুসফুসের প্রদাহ জনিত রোগের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকরী।

২৭। পাতা কপি: পাতা কপির মত সবজি ফুসফুসের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। পাতা কপিতে থাকা ভিটামিন ‘সি’ আমাদের শরীরের অক্সিজেন সরবরাহের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যার মানে এটি আপনাকে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা করবে।

২৮। গাজর: আমরা যা মনে করি তার চাইতেও গাজর আমাদের শরীরের জন্য বেশী উপকারী। গাজরে থাকা বেটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন ‘সি’ আমাদের শরীরের সকল প্রকার প্রদাহ জনিত রোগের বিরুদ্ধে একটি শক্তির ঘর হিসেবে কাজ করে।

২৯। সর্ষপ বা সরিষা গাছের পাতা: আপনার খাবারের প্লেটে সর্ষপ রয়েছে মানে আপনি ফুসফুসের প্রদাহে একেবারেই ভুগেন না। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ এবং খাদ্য আঁশ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনাকে সক্রিয় করে তোলে।

৩০। তিসি (তিসি তেল বীজ): ভেজিটেরিয়ানদের জন্য সুখবর। আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় তিসির বীজ রাখুন কেননা আপনিও এখন সহজেই ওমেগা-৩ পেতে পারেন। তিসি বীজে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ এবং খাদ্য আঁশ বিদ্যমান যা একই সাথে আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৩১। খরমুজ: আপনি যদি ফুসফুসের জ্বলা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে নিয়মিত খরমুজ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সৌদি আরবের কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক গবেষণাতে দেখা যায় যে- খরমুজে থাকা ভিটামিন ‘সি’ এবং বিটা-ক্যারোটিন ফুসফুসকে প্রদাহ জনিত রোগ থেকে রক্ষা করে এবং একই সাথে শ্বাস-কষ্ট কমাতে ভূমিকা রাখে।

৩২। ব্লু-বেরি: ব্লু-বেরিতে ভিটামিন ‘সি’ এবং রেসভারাট্রোল (resveratrol) নামক উপাদান বিদ্যমান। শ্বাস-কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে চান এমন যে কারো জন্য ব্লু-বেরি খুবই উপকারী।

৩৩। টুনা মাছ: আপনি সালাদের সাথে বা স্যান্ডউইচের সাথে যেভাবেই টুনা মাছ খান না কেন এটি কোন প্রকার দ্বিধা ছাড়াই আপনার ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখবে। টুনা মাছে থাকা ওমেগা-৩ এবং ভিটামিন ‘ডি’ প্রদাহ জনিত রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

৩৪। এন্ডাইভ (এক প্রকার সবজি): হালকা-পাতলা থাকতে চান? তবে বেশী করে এন্ডাইভ খান। এখন থেকে বার্গার বা স্যান্ডউইচের সাথে এন্ডাইভ যুক্ত করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কেননা এতে ভিটামিন ‘সি’ এবং ফুসফুস ভালো রাখার মত উপাদান পটাশিয়াম রয়েছে। যা একই সাথে আপনার ফুসফুসকে ভালো রাখবে আর আপনাকে হালকা-পাতলা থাকতে সাহায্য করবে।

৩৫। মিষ্টি আলু: আপনি আর কখনো ক্ষুধায় কাতর থাকবেন না। আপনার খাদ্য তালিকায় কিছু পরিমাণ মিষ্টি আলু যোগ করুন। এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন ‘সি’ আপনার ফুসফুসের স্বাস্থ্যকে যথাযথ ভাবেই ভালো রাখবে।

৩৬। লাল মরিচ: লাল মরিচ শুধু আপনার খাবারের স্বাদ কেই বাড়াবে না বরং এটি আপনার ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্যেও উপকারী। স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল ‘Pharmacopuncture’ এর তথ্য অনুযায়ী লাল মরিচের গুঁড়া ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকরী।

৩৭। খুবানি(আপেলের মত দেখতে একধরনের ফল): শুকনো অথবা তাজা যেকোনো ধরণের খুবানি ফল আপনার ফুসফুসের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখবে। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ এবং বিটা-ক্যারোটিন আমাদের শরীরে প্রদাহবিরোধী যন্ত্রের মত কাজ করে।

৩৮। আঙ্গুর ফল: আপনার খাদ্য তালিকায় লাল আঙ্গুর ফল রাখুন কারণ এটি আপনাকে একটি সুস্থ ফুসফুস উপহার দিবে। আঙ্গুর ফল কুয়েরেচিটিন এবং রেসভেরাট্রোল নামক উপাদানে ভরপুর যা আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস কে সহজ করবে একই সাথে আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখবে।

৩৯। স্যালমন মাছ: যারা দীর্ঘদিন ফুসফুসের বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তাদের জন্য স্যালমন মাছ হতে পারে একটি উপকারী খাবার। এতে থাকা ওমেগা-৩ এবং ভিটামিন ‘ডি’ আপনাকে প্রদাহ জনিত রোগ থেকে মুক্ত রাখবে এবং শ্বাস-কষ্ট দূর করবে।

৪০। রোজমেরি (সুগন্ধি গুল্ম জাতীয় মশলা): রোজমেরি শুধুমাত্র খাদ্যের স্বাদ এবং সুগন্ধই বাড়াবে না বরং এটি ফুসফুস কেও সুস্থ রাখবে। রোজমেরিতে থাকা রোমেরিনিক এসিড আপনাকে প্রদাহ জনিত রোগ থেকে রক্ষা করবে।

সূত্রঃ এমএসএন ডট কম।

Comment

Share.

Leave A Reply