সাধারণ জনতার অন্তরে কেমন ছিলেন প্রিন্সিপাল

0

সাইফ রাহমান :

প্রিন্সিপাল সাহেবের মৃত্যুর খবর শুনে হতভম্ব হয়ে পড়ি। মুহতারাম উস্তাদ শাহ মমশাদ আহমদ সাহেবের ফোন। কাঁদোকাঁদো কণ্ঠে বলছেন, হুজুর তো নেই। আমি বিশ্বাস করিনি। ফোন কেটে আবার ফোন দিলাম। সেইম ঘটনা। তারপরেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো। ঘটনাটি আসলেই কী সত্যি! দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে রিক্সা করে সিলেটের ইবনে সিনা হসপিটালে যাই। গিয়ে দেখি উস্তাদে মুহতারাম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি’কে বাসায় নেওয়া হয়ে গেছে। সত্যি সত্যিই তিনি মাওলার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন। ইন্নালিল্লাহ…

কী করি কী না! এই রিক্সা করেই রওয়ানা দিলাম হযরতের ঝেরঝেরিপাড়াস্থ বাসভবনের দিকে। এমতাবস্থায় আমার পুরনো এক ক্লাসমেটের ফোন। প্রিন্সিপাল সাহেব রহ. প্রতিষ্ঠিত জামেয়া মাদানিয়ার সাবেক ছাত্র। দোস্ত, ঘটনাটি কী সত্য? বললাম হ্যাঁ সত্য। তাইলে তুমি দাঁড়াও। আমি বাইক নিয়ে আসছি।

রিক্সাকে বিদায় দিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পরেই সে চলে আসলো। বাইকে তেল নেই। আগে তেল ভরতে হবে। তারপর হুজুরের বাসায় যাবো। কী আর করা! সাড়া শহর প্রদক্ষিণ করেও কোথাও মোটরবাইকের তেল পেলাম না। পাম্পগুলো নাকি রাত ১২টার আগেই বন্ধ করে দেয়। এখন কী করি! রাস্তায় পেয়ে এক ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই সিলেট শহরে কী কোথাও পাম্প খোলা আছে? বেচারা বললেন উপশহর যাওয়ার আগে যে পাম্প আছে, ঐখানে পাবেন। গেলাম, গিয়ে দেখি সিএনজিতে গ্যাস দিচ্ছে, কিন্তু অকটেন-পেট্রোল দেওয়া বন্ধ৷

সাথেসাথে পাম্পের ম্যানেজারকে কাকুতি মিনতি করে বললাম ভাই! আমাদের তেলের খুব প্রয়োজন। ইমার্জেন্সি। একজায়গায় যেতে হবে। আমাদের একজন মানুষ মারা গেছেন। না, হবেই না। আপনাকে দিলে সবাইকে দিতে হবে। কিন্তু যখনই বললাম দেখেন ভাই! আমাদের একজন হুজুর মারা গেছেন। প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান সাহেব। তখনই ম্যানেজার চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠলেন, কী বলেন ভাই! কাজিরবাজারের প্রিন্সিপাল সাহেব? জ্বী ভাই। আমাদের হুজুর। তেল তো দিলেন দিলেন, আবার ক্ষমাও চাইলেন।

ইনিই ছিলেন প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান। বাংলার সিংহপুরুষ। নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আন্দোলনের বীর সিপাহসালার। আমজনতার দরদী অভিবাবক। হৃদয়ের মনিকোঠায় সবসময় যার নাম বহমান।

আল্লাহ তা’য়ালা যেন হযরতকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করেন। জান্নাতের অমীয় সুধা পান করান। কায়মনোবাক্যে দোয়া করি। আল্লাহুম্মা আমীন

Comment

Share.

Leave A Reply