শুকরানা মাহফিল কি শরীয়ত বিরোধী?

0

শুকরানা মাহফিলের আয়োজন কি শরীয়ত বিরোধী? এমন প্রশ্ন তোলে দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা (Uloom Hathazari @darululoomhathazaribd) নামে একটি ফেসবুক পেজে এমন প্রশ্ন ও এর উত্তর প্রদান করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষত তরুণরা যেসব সংশয়মূলক পোস্ট দিচ্ছেন সেসবের জবাব রয়েছে এতে।
দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার প্রচারিত এই পরিপত্রে বলা হয়েছে,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য শুকরানা মাহফিলের আয়োজন কি শরীয়ত বিরোধী?

সংশয়: ধর্মনিরপেক্ষবাদী ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক কওমী সনদের স্বীকৃতি প্রদানের কৃতজ্ঞতা হিসেবে আলহাইআতুল উলয়ার আয়োজনে শুকরানা মাহফিলের আয়োজন কি শরীয়তসম্মত?

সংশয় নিরসন : দেশ জাতি ও ধর্মের কল্যাণে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা ও কওমি আলেমদের ঐতিহাসিক অবদান এবং তাদের মনের ভাষা-আবেগ ও সঠিক চিন্তা চেতনাকে অনুধাবন করে দেশি-বিদেশি শত বাধা উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ও অভিনব পন্থায় জাতীয় সংসদে কওমি সনদের স্বীকৃতির বিল পাস করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে কওমি আলেম সমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও দাবি পূরণের মাধ্যমে আলেম সমাজের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন।
আর অনুগ্রহকারী প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা একটি ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : “সৎকর্মের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ছাড়া কী হতে পারে!” (সূরা আর রহমান আয়াত ৬০)

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কওমি সনদের স্বীকৃতির ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে একটি মহৎ কাজ হিসেবে দেখে শুকরানা মাহফিলের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশকে তার উত্তম প্রতিদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের শুকরিয়া আদায় করে না সে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করে না।
(আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৪৮১১)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, কাউকে কিছু দান করা হলে সে যেন সামর্থ থাকলে তার প্রতিদান দেয়। যদি সে সামর্থ না থাকে তবে সে যেন তার প্রশংসা করে। যে প্রশংসা করলো সে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি তা গোপন করলো সে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো।
(আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৪৮১৩)

এছাড়াও ইসলামের সোনালী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দ্বীনের স্বার্থে অমুসলিমকেও সম্মান প্রদর্শন করার বৈধতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর খিলাফতকালে রোম সম্রাটের বিরুদ্ধে একটি মুজাহিদ বাহিনী পাঠালেন। এ বাহিনীর একজন সৈনিক ছিলেন আব্দুল্লাহ বিন হুজাইফা রদিয়াল্লাহু আনহু । বহু প্রলোভন ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের প্রস্তাবে বারবার ব্যর্থ হয়ে সম্রাট বললেন, হে হুজাফা, তুমি আমার ললাটে চুমু খেলে তোমাকে মুক্তি দিব। তখন আব্দুল্লাহ বিন হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, চুমু খাব তবে আমার সাথে আমার সকল মুসলমান বন্দীদেরও মুক্তি দিতে হবে। সম্রাট রাজি হলেন। তখন আব্দুল্লাহ বিন হুজাফা সামনে অগ্রসর হয়ে রোম সম্রাটের ললাটে চুমু খেলেন। তারপর সম্রাট আব্দুল্লাহ বিন হুযাফা ও তার সঙ্গীদের মুক্তি দিয়ে দিলেন।

সফর থেকে ফিরে এ ঘটনা তিনি হযরত উমর রা. কে শুনালে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। হযরত উমর বললেন, সকলের উচিত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফার কপালে চুমু খাওয়া। এরপর হযরত উমর রা. দাঁড়ালেন এবং আব্দুল্লাহ বিন হুজাফার কপালে চুমু খেলেন। [আরব জাতির প্রথা অনুযায়ী ললাটে চুমু খাওয়া বিশেষ সম্মানের নিদর্শন।] (সংক্ষেপিত)

এসব ঘটনা পর্যালোচনা করলে একথা প্রতীয়মান হয়, ইসলামের স্বার্থে একজন অমুসলিমকেও সম্মান প্রদর্শন করা বৈধ। আর ইসলামের স্বার্থে একজন মুসলিম শাসককে সম্মান প্রদর্শন যদি সাহাবাদের আমল দ্বারা প্রতীয়মান হয় তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তার শুকরিয়া জ্ঞাপন কেন শরীয়ত বিরোধি হবে!#শীলনবাংলা

Comment

Share.

Leave A Reply