‘৫ মে সম্পর্কে অনেক মিথ্যাচার করা হয়েছে, এখনো হচ্ছে’

0

কওমি মাদরাসার আলেমরা সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন।

তিনি বলেন, ৫ মে সম্পর্কে অনেক মিথ্যাচার করা হয়েছে, বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।

রোববার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে আইন পাস হওয়ায় শোকরানা মাহফিলের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সামান্য সমন্বয়ক হিসেবে এ মাহফিলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আয়োজকদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, যারা কষ্ট করে এখানে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। ১৪ হাজার ৩৮ মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ১৩ লাখ ৪২২। এখান থেকে পাস করে লাখ লাখ আলেম দ্বীনের খেদমত করছেন।’

‘তবে দুর্ভাগ্যজনক, দুঃখজনক ১৯৭৭ সালে অন্যায়ভাবে এ কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি বাতিল করা হয়। ফলে আলেম-ওলামারা নানা সমস্যায় পড়েন। সনদের স্বীকৃতি না থাকায় চাকরিসহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, এটা কওমি শিক্ষার প্রতি দ্বীনি ইলমের অবমাননার শামিল।’

প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আলেম-ওলামাদের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল ও আন্তরিক। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, একটা প্লাটফর্মে আসতে হবে। তারা আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে একত্রিত হয়েছেন। একটা অভিন্ন প্লাটফর্মে সমবেত হয়েছেন। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী এটার স্বীকৃতি দেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এটা প্রজ্ঞাপন জারি করেন। প্রধানমন্ত্রী শুধু প্রজ্ঞাপন জারি করেই থেমে থাকেননি এটাকে স্থায়ী রূপ দিতে মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন এবং জাতীয় সংসদে আইন হিসেবে পাস করেন। কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে এ আইন পাস করা হয়। এ সনদের স্বীকৃতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া অভূতপূর্ব, অকল্পনীয়।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘৫ মে সম্পর্কে অনেক মিথ্যাচার করা হয়েছে, বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল আলেম-ওলামা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই নির্দেশনা মাথায় রেখে ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। কেউ আজ পর্যন্ত হতাহতের সঠিক তালিকা দিতে পারেনি। যাদের নাম বলা হয়েছিল আমরা তদন্ত করে দেখেছি তারা বেঁচে আছেন। সব অপপ্রচার ভুল ও মিথ্যা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আপনারা এ মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হবেন না। যারা এ মিথ্যাচার ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যে সব মামলা হয়েছে তাতে নির্দোষ আলেম-ওলামারা যাতে হয়রানির শিকার না হয় এ জন্য কঠোর নির্দেশ দেয়া আছে। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন, তিনি বেঁচে থাকতে কোনো আলেম-ওলামার সামান্যতম ক্ষতি হবে না।’

এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুকরানা মাহফিলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তাকে অভিবাদন জানান কওমি মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। পরে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর পাশে মঞ্চে বসেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান।

সকাল ৯টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে মাহফিল শুরু হয়।

Comment

Share.

Leave A Reply