শাপলা চত্বরের ইতিহাস এদেশের মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে : আল্লামা বাবুনগরী

0

ইন’আমুল হাসান ফারুকী : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহ-পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, ঈমানের মূল বিষয় হলো তাওহীদ বা আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া৷ নবী-রাসুলগণ নিজ নিজ উম্মতদেরকে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন৷
তাওহীদে খালেছ ব্যতীত ঈমানদার হওয়া যায় না৷ বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ৷ ততাই সংবিধানে মহান আল্লাহর উপর আস্থা বিশ্বাস পূণঃস্থাপন করতে হবে৷

৮ নভেম্বর বৃৃৃৃহস্পতিবার আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে আল-আমিন ফাউন্ডেশন আয়োজিত দুইদিন ব্যপী ঐতিহাসিক তাফসীরুল কুরআনে মাহফিলের প্রথম দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি৷

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, তাওহীদের দাওয়াত দিতে গিয়ে নবী রাসুলগণ অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন৷ হযরত ইব্রাহীম আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগুনের রিমান্ডে গিয়েছেন এরপরও তাওহীদের ব্যপারে কোন আপোষ করেননি৷ নবী রাসুলগণের উত্তরসূরী উলামায়ে কেরামও তাওহীদের ব্যপারে কোন আপোষ করতে পারে না৷

তিনি আরো বলেন, সংবিধান হলো একটা রাষ্ট্রের মূল৷ ৯০% মোসলমানের দেশের লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতার প্রাণের দাবী সংবিধানে মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে৷ মুসলমানদের জন্য সংবিধান হলো মহাগ্রন্থ আল-কুরআন৷ কুরআনকে সংবিধান মেনে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে দেশ শান্তির রাজ্যে পরিণত হবে৷

শাপলা চত্বরের ইতিহাস এদেশের মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে উল্লেখ করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, শাপলার ইতিহাস রক্তঝরা এক ইতিহাস। সেই ট্রাজেডি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।
শাপলার ইতিহাস রক্তমাখা ইতিহাস৷ সেদিন জিকিররত, তাহাজ্জুদরত নবীপ্রেমিকদের নির্বিচারে হামলা করা হয়েছিল৷ শাপলা চত্বরে সেদিন আমি স্ব-চক্ষে শহীদের রক্তমাখা লাশ দেখেছি৷ এই শান্তিপ্রিয় হাটহাজারীতেও ছয়জন নবীপ্রেমিক শহীদ হয়েছিল৷

বিখ্যাত টিভি চ্যানেল আল-জাজিরাসহ দেশী-বিদেশী অন্যান্য ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সেই রাতের ভয়াভহ দৃশ্য বিশ্ববাসী দেখেছে৷ নবীপ্রেমিকদের উপর ইতিহাসের জঘন্যতম সেই হত্যাযজ্ঞের ভিডিও ফুটেজ আজো ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে আছে এবং ইতিহাসের পাতায় শাপলার শহীদদের নাম স্বর্ণাক্ষরে চিরকাল লিখা থাকবে৷

তিনি আরো বলেন, শাহবাগে নাস্তিক-মুরতাদরা যখন বিশ্বনবীর শানে কটুক্তি করেছিল তখন কেবলমাত্র নবী সা.এর ইজ্জত রক্ষার জন্য আমরা লাখো মুমিন শাপলা চত্বরে উপস্থিত হয়েছিলাম৷ ক্ষমতা দখল কিংবা দুনিয়ার কোন স্বার্থ হাসিলের জন্য আমরা সেদিন শাপলা চত্বরে যাইনি৷বিশ্বনবীর শানে কটুক্তি মুমিন মুসলমানরা মেনে নেবে না৷ বিশ্বনবীর ইজ্জত রক্ষায় নাস্তিক মুরতাদদের বিরোদ্ধে হেফাজতে ইসলামের ঈমানী আন্দোলন ছিল, আছে, থাকবে ইনশাআল্লাহ৷

ইসলামের শি’আর তথা নিদর্শনকে অবমাননা ও রাসুল সা.এর শানে কটুক্তিকারী নাস্তিক মুরতাদদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে অবিলম্বে আইন পাশের আহব্বান জানান আল্লামা বাবুনগরী৷

অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, মুফতী ওলী উল্লাহ, মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন,মাওলানা গাজী ইয়াকুব ওসমানী, মুফতী সিরাজুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল করীম, মুফতী আবু সাঈদ প্রমূখ৷

Comment

Share.

Leave A Reply