রশিদ রেখে মনোনয়ন দৌড়ে…

0

সাইফ রাহমান ::

একদিন সিলেট স্পেশাল টি’র কাজে অফিস থেকে বের হয়েছি। হঠাৎ দেখি একজন মধ্যবয়সি হুজুর মাদরাসার জন্য চাঁদা তুলছেন। সাথে দুইটা ছাত্র। যার হাতে চাঁদার রশিদ বই, তাকে আমি যেখানে যাই সেখানেই দেখি। কত জায়গায় যে এই রশিদ হাতে তাকে দেখেছি, হিসেব নেই।

দোকানের পাশে আমার উপস্থিতি টের পেয়ে সরে যেতে চাইলেন। এমতাবস্থায় আমি ডাক দিলাম, হুজুর! দাঁড়ান। এখানে কী? কোন মাদরাসা থেকে আপনি আসছেন? এখন দেখি অবস্থা খারাপ। কিছুতেই মুখ থেকে কথা বের হচ্ছেনা। আবার বললাম, দেখি হাতের রশিদ! আমি হুজুর বলে তিনি তাও দেখাচ্ছেন না। পরে দেখি দেখি বলে জোর করে দেখলাম। অমুক এলাকার অমুক মাদরাসা।

পরে খোঁজ নিয়ে দেখলাম এই নামে কোনো মাদরাসায়ই নেই। অপেক্ষা করলাম৷ দেখি বেচারাকে আর কোনোদিন পাই কী না! যদি পাই, তখন ধরবো। কিছু কথা বলবো। আমাদের নিয়ে এই খেলানেলার মানেটা কী, জিজ্ঞেস করবো।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! হুজুর এখন সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন কিনতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। সেদিন বেচারার ছবি দেখে আমি হতবাক! এই কাকে দেখছি, সত্যিই কী উনি! পরে আরো কয়েকটা ছবি দেখে শিওর হলাম ভাওতাবাজ ঐ চাঁদা কালেকশনকারী আলেম।

আমার আশা নিরাশায় পরিণত হলো! এখন কিছু বললে আমি জেলেও যেতে পারি। কারণ তিনি এখন মনোনয়ন নিচ্ছেন! কার জানেন? থাক। বলার দরকার নেই। শত্রু বাড়িয়ে কী লাভ! তবে যদি কখনো সত্যি সত্যিই উনাকে কাছে পাই, তখন কানেকানে জিজ্ঞেস করবো। হযরত! মনে আছে সেদিনের কথা?

এরপর থেকে আমি আপনাকে অনেক খুঁজেছি। অনেক। কিন্তু আজ পেলাম। আর এখন আপনি এমপি (প্রার্থী হয়েছিলেন)। যদিও পাশ করেননি (পাশ করার কথা না)। বড় কষ্ট লাগে আপনাদের মত ভাওতাবাজ, চিটিংবাজ আলেম দেখে। জাতি কখনোই আপনাদের ক্ষমা করবেনা। কখনোই না।
কথাগুলো বলার প্রতিক্ষায় থাকলাম। দিন আসবেই। ইনশাআল্লাহ।

Comment

Share.

Leave A Reply