আগামী নির্বাচন : ইসলামী আন্দোলনের প্রতি পরামর্শ

0

সৈয়দ শামছুল হুদা ::

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে সে লক্ষণ ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। ইসলামী দলগুলো নানামুখি জোটের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের নানা বিতর্কে জড়িয়ে ফেলেছে। একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত কোন জোটের সাথে সরাসরি বা আড়ালে গাঁটছড়া বাধেনি। আর সেহেতু তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে – সারাদেশে নির্বাচন না করে বাছাই করা ৫০টি আসনে নির্বাচন করুন। কমপক্ষে ৫টি আসনে বিজয় লাভের টার্গেট করুন। তাহলে অর্থব্যয় যেমন নিয়ন্ত্রিত হবে। জনবলকে ঠিকমতো কাজে লাগানো যাবে। ৯৬সালে জামায়াত সারাদেশে নির্বাচন করে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল তা থেকেও আপনারা শিক্ষা নিতে পারেন।

যেহেতু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে আপনারা ইসলামী আদর্শ বিজয়ের মাধ্যম হিসেবে ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছেন, সুতরাং গণতান্ত্রিক রাজনীতির মারপ্যাচগুলোও ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে। বিশেষ করে আগামী সংসদ নির্বাচনে যদি দুয়েকটি আসন ইআবা না পায়, তাহলে ইমেজ সংকট তৈরী হবে।

প্রথম টার্গেট করুন, এই সংসদেই আপনারা সংসদে ঢুকতে চান।
দ্বিতীয় টার্গেট করুন, এমন ৫/৭জনকে প্রার্থী করুন যারা শুধু দলীয় ভোটই নয়, জনসাধারণের ভোটও তারা টানতে পারবে।
তৃতীয় টার্গেট করুন; ৫/৭টি আসনে অবশ্যই বিজয় লাভ করতে হবে। তাহলে আশাকরি আপনাদের দলীয় ইমেজ বৃদ্ধি পাবে।

আরো একটি পরামর্শ হলো- আপনারা দলীয়ভাবে রাজনীতির মাঠে মেয়েদেরকে কাজে লাগানোর চিন্তা করুন। খুব ভালো করবেন।নারী সমাজকে যত দূরে রাখবেন, দলগতভাবে ততই পিছিয়ে থাকবেন। আপনাদের মতো করে, আপনারা নারী কর্মীদের কাজে লাগান। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের কাজে লাগান। এরদোয়ানের উত্থান কাহিনী পড়ে জেনেছি, সে রক্ষণশীলদের সকল মতামতকে উপেক্ষা করে নারী কর্মীদের এমনভাবে ব্যবহার করেছে যে কারণে খুব দ্রুতই তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে নারী জাগরণে যে ধরণের রাষ্ট্রীয় উত্থান ঘটে গেছে এটাকে কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারবেন না । এখন সব জায়গাতেই নারী কর্মকর্তা নিয়োগপ্রাপ্ত। নারীর হাতেই আপনার নমিনেশন দিতে হবে। নারীর অধিনেই আপনাকে সংসদে যেতে হবে। সুতরাং অহেতুক বিতর্ক বাড়িয়ে লাভ নেই। এখন যে কোন ইসলামী দলকে সফল হতে হলে নারীদেরকে পাশে টানতেই হবে। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে আশা করি বিবেচনা করবেন।

Comment

Share.

Leave A Reply