রাত পোহালেই প্রধানমন্ত্রী হতে চাই আমরা

0

সৈয়দ শামছুল হুদা ::

তুরস্কের রাজনীতি আর বাংলাদেশের রাজনীতির তফাৎটা হলো, ওরা রাত পোহালেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে না। আমরা রাত পোহাবার আগেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি। বাংলাদেশের অধিকাংশ ইসলামী রাজনৈতিক দল নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে কতটুকু বাস্তব ধারণা রাখে সে সম্পর্কে আমি সন্দিহান।

তুরস্কের রাজনীতি, কৌশল, আইন, বিচার ব্যবস্থা আর আমাদের এসবের সাথে রাতদিন তফাৎ। তারা কামাল আতাতুর্ক নামক এমন এক জালেমের কারাগার থেকে ধীরে ধীরে মুক্তির আলো দেখছে, যে অন্ধকার প্রায় শতাব্দীকাল ধরে তুরস্ককে নিয়ন্ত্রন করে আসছে। সেই রাষ্ট্রে এরদোয়ানরা যখন পর্যায়ক্রমে পরিবর্তনের চেষ্টা করছে, তখন আমরা অনেকেই তুরস্কের রাজনীতি সম্পর্কে কোনরূপ ধারণা না রেখে যে কোন ঘটনায় তাদেরকে আসামীর কাঠগড়ায় ফেলে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব।

তুরস্কে এরদোয়ানদের উত্থানপর্ব সম্পর্কে যতটুকু সামান্য জেনেছি, তাতে অনুভব করছি যে, আমরা এদেশে বসে যা খুব সহজেই ভাবতে পারি, তা তুরস্কে বসে ভাবতে পারা সম্ভব ছিল না। মুসলমানরাই ইসলামের কতটুকু ক্ষতি করতে পারে তার উজ্জ্বল নিদর্শন তুরস্ক। সেই তুরস্কে এরদোয়ানরা কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়ে এই পর্যন্ত এসেছেন সে সম্পর্কে আমাদের দেশের অধিকাংশেরই ধারণা নেই। আমরা বাংলাদেশে বসে আফগান স্টাইলে কখনো চিন্তা করি। ভাবি যে, ক্ষমতায় বসেই সবকিছু উড়িয়ে দেওয়ার নামই হলো ইসলাম।

আমরা বাংলার মাটিতে বসে এরদোয়ানকে পারলে একেবারে জাহান্নামের অতল দেশে পাঠিয়ে দিই। আবার কেউ আছে এরদোয়ানকে একেবারে আকাশে তুলে ধরে। এর কোনটাই উচিত নয়। বিগত ৪০/৫০বছর ধরে এরদোয়ানরা খুব কৌশলের সাথে কামাল আদর্শের মোকাবেলা করে আসছে। এরদোয়ান চাচ্ছে বিদ্যমান আইনী কাঠামো ভাঙ্গতে যে সময় লাগবে, যে ঝুকি নিতে হবে, তারচেয়ে বরং অনেক ভালো হয় একটা ভালো প্রজন্ম তৈরী করে নেওয়া, এমনিতেই ওরা এসব কামাল আদর্শকে ছুড়ে মারবে। এই ঘটনায় সেটাই হয়েছে।

ছবির যে নারীকে নিয়ে আমরা এরদোয়ান সরকারকে নাস্তানাবুদ করছি, তিনিও যে, এরদোয়ানের ‍সুচিন্তিত রাজনৈতিক সফলতার ফসল সেটা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। তুরস্কের মতো জায়গায় এই বোনটি যে, আপাতমস্তক বোরকা পরার সুযোগ পেয়েছে তার জন্য এরদোয়ানদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। এরদোয়ান প্রধানমনন্ত্রী হয়েও স্ত্রীর মাথায় স্কার্ফ
থাকায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেনি। এরদোয়ানরা বিদ্যমান আইনী কাঠামোকে একেবারেই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন না। তারা চাচ্ছেন ধীরে ধীরে সামগ্রীক পরিবর্তন আসুক।

এরদোয়ান ফেরেশতা না, এরদোয়ান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র সুলতানও না। এরদোয়ানরা যতটা ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে এই পর্যন্ত এসেছে আমরা তার ছিটে ফোটাও ভোগ করিনি। ৫মে’ শাপলায় যে ঘ ‘ টা খেয়েছি তা এখন আমরা সইতে পারছি না। অনেকেই মুনাফিকির খাতায় নাম লিখিয়েছি। আলেম-উলামাদের ইজ্জত- আব্রুকে ধুলায় মিশিয়ে হলেও নিজের স্বার্থকে চরিতার্থ করেছি।

আমরা বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা রাজনীতির কর্মীরা অস্থির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। রাত পোহারার কত দেরি? পাঞ্জেরী! কবিতা পড়তে পড়তে আমাদের মধ্যে এই চেতনা জাগরুক হয়ে গেছে যে, কোন কিছুতেই আর দেরি করা যাবে না। যে কোন ভাবেই হোক একটা কিছু বলে ফেলতে হবে।একটা কিছু করে ফেলতে হবে। এর ফল কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে ভাববার সময় আমার কৈ?

সুতরাং এই বোনটির গ্রেফতারে আমি অবাক হইনি। তার গ্রেফতারে এরদোয়ানকে একেবারে বাক্যবানে মাটিতে ফেলে দিতে হবে এমনটাও মনে করি না।

Comment

Share.

Leave A Reply