অর্থ ও ক্ষমতার মোহ মানুষকে খুব দ্রুত নিচে নামিয়য়ে ফেলে

0
আবুল কাসেম আদিল ::

হেফাজতের আন্দোলনের শুরুর দিকে হাটহাজারী মাদরাসায় দেশের শীর্ষ আলেমদের একটা মিটিং ছিল। সেই মিটিংয়ে মুফতী আমিনীও উপস্থিত ছিলেন। মিটিংয়ে আচানক আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ উপস্থিত হন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই মর্মে আশ্বাস দিতে যান যে, হেফাজতের দাবি মানা হবে, আলেমরা যেন পরবর্তী কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। প্রথমে আল্লামা আহমদ শফী শেখ আবদুল্লাহকে মিটিংয়ে গিয়ে কথা বলার সুযোগই দেন নি। তাকে মেহমানখানায় অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখেন। পরে তাঁকে কথা বলতে দেন বটে, তবে শর্ত আরোপ করেন, হেফাজতের দাবির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী লিখিত দিলেই কেবল কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে। প্রধানমন্ত্রী লিখিতও দেন নি, কর্মসূচিও প্রত্যহৃতও হয় নি। আল্লামা আহমদ শফীর ভূমিকা শুরু থেকেই অরাজনৈতিক। তিনি চেয়েছেন, শেখ আবদুল্লাহ তার কথা বলুন। মান্য করার মতো হলেই কেবল মানা হবে। মান্য করার মতো না হলে মানা হবে না। কিন্তু মুফতী আমিনী বেঁকে বসলেন। শেখ আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বের হয়ে যান এবং বলেন, ‘আমি মুহতারাম আহমদ শফী সাহেবকে শ্রদ্ধা ও মান্য করি, তা ঠিক আছে। কিন্তু যেখানে আওয়ামী লীগের নেতা থাকে, সেখানে আমি থাকতে পারি না।’ এই বলে তিনি গাড়িতে উঠে ঢাকার পথে রওনা হন।

এই ছিলেন মুফতী ফজলুল হক আমিনী। তিনি আওয়ামী লীগের ছায়াও এড়িয়ে চলতেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপস ও তাদের প্রতি নমনীয় হতে রাজি হন নি। আওয়ামী লীগের খড়গ মাথায় নিয়ে গৃহবন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি যৌক্তিক-অযৌক্তিক সকল ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতেন। এরকম অন্ধ বিরোধিতা আমি অপছন্দ করতাম, এখনও করি। সেই মুফতী আমিনীর মৃত্যুর কিছুকাল পরেই তাঁর রাজনৈতিক সহচরেরা একদম বদলে গেলেন। তাঁরা প্রথমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বের হয়ে গেলেন। এর মাসখানেক পরে সাবেক জোটনেত্রীর বিরুদ্ধে ইঙ্গিতমূলকভাবে ‘এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারীর’ শাস্তি দাবি করেন। কিছুদিন পরে খুল্লামখোলা আওয়ামী লীগের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করতে শুরু করেন। এখন তো তারা আওয়ামী লীগের ঘরের লোক বনে গেছেন। যে হেফাজতের একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের তৃতীয় সারির একজন নেতা উপস্থিত হওয়ায় মুফতী আমিনী সেই অনুষ্ঠানটাই বর্জন করেন, সেই হেফাজতকেই তার সহকর্মীরা আওয়ামী হাওয়ায় প্রবাহিত করতে সচেষ্ট হন। যে আমিনী নিজেদের মজলিসে একজন নিম্ন সারির লীগারকে বরদাশত করতে রাজি ছিলেন না, সেই আমিনীর সহচরেরা পুরো দলবল নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করতে প্রথমে যেচে চিঠি দেন, পরে দলবল নিয়ে হাজির হন। মুফতী আমিনীকে যে সরকার এত নির্যাতন করল, আমৃত্যু গৃহবন্দি রাখল—স্বয়ং তার সন্তান সেই সরকারের প্রশংসায় এখন পঞ্চমুখ। অর্থ ও ক্ষমতার মোহ মানুষকে কত নিচে নামাতে পারে, ভেবে অবাক হই।

Comment

Share.

Leave A Reply