কুইন্সল্যান্ডের মুসলিম নারীদের হিজাব বিনিময় উৎসব

0

হিজাব সম্পর্কে বিতর্ক থাকার পরেও অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের মুসলিম নারীরা হিজাব সম্পর্কে কমিউনিটির সদস্যদের ভুল ধারণা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

কুইন্সল্যান্ডের রোকাম্পটন শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদে স্থানীয় জনগণের নিকট হিজাবকে পরিচিত করার জন্য একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তিন সন্তানের জননী ৩৪ বছর বয়সী নুসরা নুর-উদ্দিন এবং তার অন্যান্য বন্ধুরা মিলে শহরটির অমুসলিম নারীদেরকে কিভাবে হিজাব পরিধান করতে হয় তা শেখানোর জন্য এই উদ্যোগ নেন।

নুসরা নুর-উদ্দিন বলেন, ‘যদি আপনার কাছে হিজাব, নিকাব অথবা বোরকা থাকে তবে কিছু মানুষ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং তারা মনে করে এগুলো নারী অধিকার বিরোধী।’

‘যখন আপনিও এসব নেতিবাচক ধারণা পোষণ করবেন এবং এর পরে যখন আপনি হিজাব পরিধান করে দেখবেন যে, এটি আসলে খারাপ কোনো বিষয় নয়, তখন আপনি বুঝতে পারবেন, হিজাব পরিধান করলে আপনাকে কতটা সুন্দর দেখায়। এমনকি হিজাব পরিধান করলে আপনি পূর্বের চাইতেও বেশী সুন্দরী হয়ে উঠতে পারেন।’

নুসরা নুর-উদ্দিনের মতে অন্যদের সাথে নিজস্ব সংস্কৃতির ভাগাভাগি করাটা একটি জনসেবামূলক কাজের মতই মনে হয়।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আপনি যখন তাদেরকে হিজাব সম্পর্কে বলবেন বা তাদেরকে হিজাব পরিধান করে দেখতে বলবেন তখন তারা হিজাব পরিধান করে কী অনুভব করে তা বলার সুযোগ পাবে।’

দুবাইতে জন্ম নেয়া নুসরা নুর-উদ্দিন আট বছর পূর্বে বসবাস করার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। হিজাব পরিধান করা নিয়ে এখানে তিনি কখনো সমস্যার মুখোমুখি হন নি বলেও জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন এখানে প্রথম এসেছিলাম, আমি এই ভয়ে ছিলাম যে, লোকজন হয়ত আমার হিজাব নিয়ে আমাকে খারাপভাবে বিচার করতে পারে। কিন্তু আমি এখানে সত্যিই অনেক সুন্দর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি।’

কিন্তু কুইন্সল্যান্ডে বসন্তকালে হিজাব পরিধান করাটা কি রকম হতে পারে?

নুসরা নুর-উদ্দিন বলেন, ‘আপনাকে শুধুমাত্র সঠিক উপাদান দিয়ে তৈরি হিজাব পরিধান করতে হবে।’

‘আমি এসময় যে হিজাব পরিধান করি তা কটন দিয়ে তৈরি এবং এটি খুব আরাম দায়ক।’

‘অবশ্য আমরা ধর্মীয় কারণেই হিজাব পরিধান করে থাকি এবং আপনাকে এ জন্য কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হবেই।’

সংযোগ রক্ষা করার একটি সুযোগ

অমুসলিম নারী সু ফিনিগান, নুসরা নুর-উদ্দিনদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রথম বারের মত হিজাব পরিধান করে দেখেছেন। যদিও তিনি বলেন রোকাম্পটনের তাপমাত্রার কারণে এটি পরিধান করতে খুব গরম লাগছে কিন্তু আয়োজকদের সাথে আলোচনা করে তার খুবই ভালো লেগেছে।

সু ফিনিগান বলেন, ‘আমি তাদেরকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখা পছন্দ করি না, এটি তাদের সংস্কৃতির অংশ।’

‘হিজাব পরিধান করা একটি সুখকর অভিজ্ঞতা। আমি মনে করি তাদের সবকিছু যেমন, হিজাব, খাদ্যাভ্যাস…ইত্যাদি খুবই দারুণ, আসলেই এগুলো বিস্ময়কর বিষয়।’

শিক্ষার জন্য উন্মুক্ত

নুসরা নুর-উদ্দিন এবং তার বন্ধুরা ‘Lebanese Muslim Association’s National Mosque Open Day’ এর আওতায় এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

কুইন্সল্যান্ডের ইসলামিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট বিনিল কাতিপারাম্বিল বলেন, মসজিদের সদর দরজা দিয়ে আগত ২০০ জন অতিথিকে আমি স্বাগত জানাই যাতে করে আপনারা আমাদের কমিউনিটি সম্পর্কে জানতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আয়োজনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের মধ্য থেকে ভেদাভেদ ভেঙে দেয়া এবং মুসলিম ও ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণাসমূহ দূর করে দেয়া।’

‘যখন অন্য ধর্ম বিশ্বাসের নারীগণ এখানে এসে হিজাব পরিধান করতে চেষ্টা করেন তখন মুসলিম নারীগণ নিজেদের ক্ষমতা অনুভব করেন।’

তিনি বলেন, হিজাবী নারীদেরকে কুইন্সল্যান্ডের বাসিন্দারা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দেখেন।

‘বড় শহরগুলোতে অনেক কিছুই ঘটে চলছে। কিন্তু রোকাম্পটনের জনগণ আসলেই খুবই সুন্দর মনের অধিকারী এবং তারা স্বাগত জানাতে ভালোবাসে একই সাথে তারা একটি সুন্দর জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত।’

‘আমরা মাঝেমধ্যে দেখতে পাই যে, তারা হয়তো ভিন্ন সংস্কৃতি সমূহকে বুঝে উঠতে পারে না, কারণ এ ব্যাপারে তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু তারা সত্যিই এ বিষয়ে জানতে আগ্রহী।’- বিনিল কাতিপারাম্বিল শেষে এমনটি বলেন।

সূত্রঃ এবিসি অস্ট্রেলিয়া।

Comment

Share.

Leave A Reply