১৯৫৩-২০১৮ : যুক্তফ্রন্ট থেকে ঐক্যফ্রন্ট

0

ইমদাদুল হক নোমানী ::

ড. কামাল হোসেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেন ১৯৫৩ সালের যুক্তফ্রন্টের ছায়াপথ, ফটোকপি। ৫৪’র নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লব ঘটাতে ১৯৫৩ সালে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত হয় ‘যুক্তফ্রন্ট’। আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, গণতন্ত্রী দল ও খেলাফত পার্টির সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্টের নেতা ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।

ওই সময় এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগের চেয়ে অনেক দুর্বল। কিন্তু আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে না এসে কৌশলে ছোট দলের বড় নেতা ফজলুল হককে যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে রাখেন। ১৯৫৪ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে (২৩৭ আসন) ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটিয়ে যুক্তফ্রন্ট পায় ২১৫ আসন। অন্যদিকে প্রশাসনকে ব্যবহার করেও ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯ আসন।

ঘটনার ৬৫ বছর পর এবার ডান-বাম মিলে গঠিত হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতোই ফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেই। এ কে ফজলুল হকের মতোই নেতৃত্বে রয়েছেন ছোট দলের বড় নেতা ড. কামাল হোসেন। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মতোই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রয়েছেন ফ্রন্টের মুখপাত্রের দায়িত্বে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ছোট দলের তিন জাঁদরেল নেতা আ স ম আবদুর রব, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও মাহমুদুর রহমান মান্না। বাড়তি হিসেবে আছে দেশের বৃহত্তর তিনটি ইসলামী দল (জামায়াত, মজলিস ও জমিয়ত)।

তেপ্পান্ন’র পথ ধরে আঠারো কি এগুচ্ছে সাফল্যের সিঁড়িপথে? নতুন ইতিহাস কি আবারো ঘটতে যাচ্ছে ২০১৮ সালে! জনমনে নানা প্রশ্ন, আশংকা এবং প্রত্যাশা। দেখা যাক শেষতক কি হয়।

লেখক: সম্পাদক, কওমিকণ্ঠ

Comment

Share.

Leave A Reply