ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের কোনো ভূমিকা থাকবে না

0

সৈয়দ শামছুল হুদা ::

বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে ইসলামপন্থীরা ধীরে ধীরে নির্বাসনে চলে যাবেন। আজকের কিছু চামচা নিজেদের আখের গুছানোর জন্য এদিক সেদিক দৌড়াদৌঁড়ি করছেন। এদেরকে দিয়ে স্বার্থ আদায় হয়ে গেলে আর পাঁচ পয়সার মূল্যও ওরা পাবে না। বিগত দিনে ইসলামের নামে রাজনীতির যে জোয়ার দেখেছেন, আমাদের ভুলের কারণে, একগুয়েমির কারণে, অদূরদর্শিতার কারণে, হিংসাত্বক মনোভাবের কারণে আমরা সকলেই আড়ালে চলে যাবো।

অনেকটা লম্বা সময়ের জন্য আমরা আড়াল হয়ে যাবো। আলোচনার বাইরে চলে যাবো। আজ কাদের সিদ্দিকীরা যখন শাপলা চত্বরে ঈমানদারদের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার হুঙ্কার দেয়, তখন আমরা এটাকে নানাভাবে নিয়েছি। কেউ সেটাকে বলছি, রাজনীতি হিসেবে, কেউ সেটাকে বলছি, উনি আবার ঈমানদারির কী বুঝেন? আগামীতে আমরা এমন সব ঈমানদের হুঙ্কারই শুধু দেখবো। কোন মোল্লা-মৌলভীর হুঙ্কার খুব বেশি একটা দেখবো না। এই সরকারের আমলে ইনু-মেননরা যেমন দাবড়িয়ে বেড়িয়েছে, তেমনি যদি ক্ষমতার পরিবর্তন হয়ও, সেখানে মান্না, রব, মনসুর, কাদের সিদ্দীকি, ড. কামালদের হুঙ্কার দেখবো, তাদের ভালো কথাগুলো শুনে হাসবো, খারাপ কথাগুলো শুনে কাঁদবো। কিন্তু ‍কিছুই করার থাকবে না।

আমাদের সামনে টার্গেট ভিত্তিক কোন কর্মসূচী নেই। যারাই টার্গেট ভিত্তিক কাজের চেষ্টা করে তাদেরকে এমনভাবে মাইনাস করে দেওয়া হয়, যার ফলে সে আর মাজা সোজা করে দাঁড়াতেই পারে না। মোল্লা-মৌলভিরা দান দক্ষিণার ওপর চলবে, তারা ক্ষমতার প্রতিদ্বন্ধি হবে কোন সাহসে? এমনটাই মনে করেন আজকের ক্ষমতাশালী, ক্ষমতাপ্রার্থীরা। কিন্তু আমরা হতভাগারা নিজেদের মধ্যে এমনভাবে কামড়াকামড়ি করি, চিরুনি দিয়ে এমনভাবে ছাঁকি, যে কারণে আমাদের কোন শক্তিই আমাকে দাঁড়াবার সাহস যোগায় না। আমাদের মধ্যে কর্তৃত্বশীল কেউ না থাকায় এখন মধ্যমসারির নেতারা বড়দেরকে ব্যবহার করছে। যে যেভাবে পারছে, সেভাবে সুযোগ আদায় করে নিচ্ছে। এটাকেই সফলতা মনে করছে।

সাময়িক পাওয়ার তৃপ্তি অনেকের মধ্যেই কাজ করছে। খুব দুঃখ আর বেদনার সাথে লক্ষ্য করছি, আর ভাবছি, আমাদের আগামী সকালটা কেমন হবে? বিশেষ করে যারা ইসলাম নিয়ে ভাবে, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী রাজনীতি, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে তাদের জন্য চরম দুঃসময় অপেক্ষা করছে।ইতিমধ্যেই একটা দীর্ঘ সময় দুঃস্বপ্নের মধ্যে পার হয়েছে। আজ ও আগামীর সকল শক্তি মিলে আমাদেরকে দাবিয়ে রাখার কৌশল আঁটছে। আমরাও তৃপ্তির ঢেকুর তুলছি।

বেদনার সাথেই বলতে হয়, দাওয়াত ও তাবলীগের যে মেহনত নিয়ে তেমন কোন বিরোধ ছিল না, সেখানেও আজ কত বিভাজন। কওমী মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে বেফাকই ছিল অন্যতম ঐক্যের সূতিকাগার। সেটাকে আলোচনার বাইরে ফেলে দিয়েছি। হাইয়াতুল উলয়া নতুন নাম ধারণ করে সকলে মিলে একসাথে চলার যে স্বীকৃতি নিয়েছি, সেটা আমাদের মধ্যে আরো কত বিভাজন সৃষ্টি করবে আল্লাহ জানে। আর ইসলামী দলগুলো যে কত ধারায় বিভক্ত তা বলে শেষ করা যাবে না। ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে নতুন নতুন জোট। সেখানে ইসলামপন্থীরাও পিছিয়ে নেই। সবই আখের গোছানোর ধান্দা। কারো উদ্দেশ্যই ইসলাম, উম্মাহ, দেশ নয়।

লেখক: সম্পাদক, নুরবিডি ডটকম

Comment

Share.

Leave A Reply