‘কাউকে সেভ করবেন আর কাউকে বলি দেবেন এটা ঠিক নয়’

0

আজ (বৃহস্পতিবার) পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নং বিশেষ জজ মাহমুদুল কবিরের আদালতে শুনানি চলাকালে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। আদালত মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

১১টা ৩৭ মিনিট : সকাল ১১টা ৩৭ মিনিটে নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১ মাস ২ দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়।

১১টা ৪৭ মিনিট : ১১টা ৪৭ মিনিটে কারাগারের গেট থেকে হুইল চেয়ারে এজলাস কক্ষে আনা হয় খালেদা জিয়াকে।

১১টা ৫০ মিনিট : বিচারক ১১টা ৫০ মিনিটে এজলাসে উঠেন। এ সময় মামলার আসামি সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করেন। আদালত তার আবেদনটি নামঞ্জুর করে শুনানি করতে বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, এখানে মামলা পরিচালনার কোনো পরিবেশ নেই। আমি সুপ্রিম কোর্টে মামলা ছেড়ে এসেছি। তখন বিচারক বলেন, আজ সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া যাবে না। এই মামলাটি শেষ করতে হবে।

এরপর মওদুদ নিজের পক্ষে শুনানি শুরু করেন। শুনানিতে তিনি মামলার এজাহার পড়েতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি এ ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে তা বলেন। বিচারক তখন বলেন, এটা আপনার অংশ নয়।

তখন খালেদা জিয়া বলেন, নাইকো দুর্নীতির ঘটনায় ওনার নামে (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তো একটা মামলা হয়েছে। কাউকে সেভ করবেন আর কাউকে বলি দেবেন এটা ঠিক নয়। ন্যায়বিচারের জন্য ওনাকে আদালতে হাজির করা হোক। তখন বিচারক খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ঐ মামলাটি তো শেষ হয়ে গেছে।

১২টা ৫৫ মিনিট : ১২টা ৫৫ মিনিটে মওদুদ বিচারককে বলেন, আজ একটু সময় চাচ্ছি। আর শুনানি করতে পারছি না।

এসময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আপনার জন্য মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ করতে সময় লাগছে। আপনি বার বার সময় নিচ্ছেন। আদালতে বলেন অসুস্থ আর বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন। আজকেই আপনাকে শুনানি শেষ করতে হবে। এবং খালেদা জিয়ার পক্ষেও আজ শেষ করতে হবে।

১টা ১০ মিনিট : উভয় পক্ষের শুনানির একপর্যায়ে ১টা ১০ মিনিটে খালেদা জিয়া বলেন, আমি আর বসে থাকতে পারছি না। হাসপাতাল থেকে সরাসরি আমাকে এখানে আনা হয়েছে। বসে থাকতে আমার কষ্ট হচ্ছে।

১টা ১৫ মিনিট : দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বিচারক বলেন, ঠিক আছে একটা সময় দিচ্ছি। সেদিন আপনার ও খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি শেষ করতে হবে। বিচারক ১৪ নভেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এরপর বিচারক এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন।

বিচারক এজলাস ত্যাগ করার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দুই মিনিটের মতো কথা বলেন। এরপর খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

খালেদার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি মেলেনি ফখরুলের

আদালতের ভেতরে খালেদা জিয়ার সাথে ৩০ মিনিট কথা বলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। শুনানির একপর্যায়ে সানাউল্লাহ মিয়া আদালতকে বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমি খালেদা জিয়ার সঙ্গে আদালতের ভেতরে মামলার বিষয়ে ৩০ মিনিট কথা বলতে চাই। বিচারক তখন বলেন, এটা আমার এখতিয়ারের ভেতরে নেই। আমি অনুমতি দিতে পারব না।

Comment

Share.

Leave A Reply