তবে কি আমরা ব্যবহৃত হচ্ছি?

0

মুফতী রেজাউল করীম আবরার ::

কওমি সনদের স্বীকৃতি আমাদের জন্য একটি বিশাল অর্জন। শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফিসহ অনেকেই প্রথমে স্বীকৃতির বিপক্ষে মতামত পেশ করলেও পরবর্তীতে তারা মত পাল্টিয়েছেন। স্বীকৃতির জন্য শায়খুল হাদিস রহ. মুক্তাঙ্গণে অবস্থান করেছিলেন। অনেক কিছুর পর বি, এন,পি সরকার কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি প্রদান করেনি।

আওয়ামীলীগ সরকারের গত টার্মে স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছিল। মে টার্মে একেরপর এক ইসলাম বিরোধি আইন করা হয়েছিল। আলেমদের উপর অত্যাচারের স্টীম রোলার চালানো হয়েছিল। নাস্তিক-মুর্তাদদের আস্ফালন ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিভিন্নভাবে ইসলামের নাম-নিশানা মুছে ফেলা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো।

আওয়ামীলীগের সে টার্মের শেষদিকে উত্থান হয়েছিলো হেফাজতে ইসলামের। তারপরের ইতিহাস সকলের জানা। বাংলাদেশের নিরীহ ধর্ম-প্রাণ মুসলমানদের উপর প্রকাশ্যে গুলি করা হয়েছিলো। ধারালে অস্ত্র দ্বারা কুপিয়ে, রড, লাঠি দ্বারা পিটিয়ে রাজপথে মুসলমানদের হত্যা করা হয়েছিল। হেফাজতের পরে আলেমদের নানাভাবে অত্যাচার করা হয়েছিলো। শায়খুল ইসলাম আহমদ শফিকে নিয়ে জাতীয় সংসদে কটূক্তি করা হয়েছিলো।

২০১৩ এর নির্বাচনের কথা সকলের জানা। পূণরায় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে কওমি সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এজন্য আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ স্বীকৃতি আমাদের রাষ্ট্রীয় অধিকার। আওয়ামীলীগ আমাদের অধিকার আদায় করেছে। এজন্য আমরা তাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পারি।

স্বীকৃতি নিয়েই অনেকে সঙ্কিত ছিলেন। ভয় করেছেন কওমি মাদরাসা নিজস্ব স্বকীয়তা হারানোর। শরিয়তে ‘জাযাকুমুল্লাহ’ শুকরিয়া আদায় হয়ে যেত। বেশিরচেয়ে নামাজ পড়ে তাদের জন্য দোয়া করা যেত। অথবা গণভবনে গিয়ে আমাদের কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়ে আসা যেত!

কিন্তু এগুলো না করে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে বিশাল শুকরিয়া মাহফিলের আয়োজন করে ফেললাম! মোটা দাগের কিছু প্রশ্ন তখন থেকে আঁকুপাকু করছিলো অন্তরে। হাইআতুল উলইয়া লাখ লাখ টাকা খরচ করে স্বীকৃতির আয়োজন করছে। কথা হলো, একজন আমার দাবি পূর্ণ করেছে, দাবি পূর্ণ করার কারণে লাখ লাখ টাকা খরচ করে আনুষ্ঠানিক সম্মিলিত শুকরিয়া মাহফিলের ভিত্তি কতটুকু? দয়া করে এখানে কেউ আকাবিরের দোহাই দিবেন না। কারণ হুসাইন আহমদ মাদানি রহ. পর্যন্ত আমাদের আকাবিররা কেউ এমনটা করেননি। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে আল্লামা আবদুস সালাম চাটগামি, জুনায়েদ বাবুনগরি, মাওলানা আবুল হাসান আবদুল্লাহ, মাওলানা আবদুল মালেক, মাওলানা দিলওয়ার হুসাইন, মাওলানা জিকরুল্লাহ খান, মাওলানা ইমদাদুল হক, মাওলানা তাহমিদুল মাওলাদের মত মুহাক্কিকরা কি আমাদের আকাবির নয়? হাটাহাজির পেইজে অভিনব শুকরিয়া মাহফিলের পক্ষে কুরআন, হাদিসকে বিকৃতি করা হয়েছে। সাহস থাকলে হযরাতদের কাছে ফতোয়া চান যে, এমন আনুষ্ঠানিক, অভিনব সম্মিলিত পন্থায় কোনো নারী প্রধানমন্ত্রীকে শুধুমাত্র স্বীকৃতি প্রদানের কারণে শুকরিয়া মাহফিল করার শারয়ি দৃষ্টিভঙ্গি কি?

অতীতে আলেমরা বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু আবুল ফজল বেষ্টিত অনুষ্ঠান এই প্রথম মনে হয়। কত সংবর্ধনা প্রদান করা হয়, কিন্তু এ সংবর্ধনার জন্য পরীক্ষা পিছানো হয়েছে। দেশের ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের অধীনস্থ সকল ইমাম, মুয়াজ্জিনের জন্য শুকরিয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আলেমদের কোনো প্রোগ্রামের জন্য অতীতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু এ শুকরিয়া মাহফিলের জন্য বাংলাদেশ প্রতিদিনে মোটা করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে! এত কিছুর পরও আস্থা রাখার কথা বলা হচ্ছে?

তাপরপরও দোয়া করি শুকরিয়া মাহফিলকে আল্লাহ কবুল করুন। এর ওসিলায় আল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে ইসলামের প্রকৃত অনুসারী বানিয়ে দিন। আর আবুল ফজলদেরকে আল্লাহ হেদায়াত দান করুন।

Comment

Share.

Leave A Reply