রাজনীতির আজিব তামাশা : বাঘ-ছাগল একঘাটে

0
সৈয়দ শামছুল হুদা ::

রাজনীতি কাকে কখন কোথায় নিয়ে যায় কেউ বলতে পারে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনীতি বড়ই আজিব। আজ যাকে আপনি জানি দুশমন বলে গলা ফাটাচ্ছেন, কাল তার সাথেই আপনার মিলন হচ্ছে। যার সাথে সামান্য ছাড় দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না, পারলে আস্ত খেয়ে ফেলতে চান, তাকেই গলায় জড়িয়ে ধরছেন। এখান থেকে আমাদের অনেক কিছুই শিক্ষনীয় আছে।

এর শত শত উদাহরণ বাংলাদেশেই তৈরী হয়েছে। এইযে ঐক্যফ্রন্ট, সেখানে কারা কারা আছে, তাদের সবাইকেই আমরা চিনি। তাদের অতীত এবং বর্তমান যদি একটু মিলান তাহলে আপনি পেরেশান হয়ে যাবেন।এই ফ্রন্টের ফ্রন্ট লাইনে ড. কামাল, কাদের সিদ্দীকি প্রমুখ। ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্টের ক্ষ মতা ভাগাভাগিতে বিএনপি যেমন থাকবে, থাকবে জামায়াতও। কারণ তাদের ২৫টি আসন দেওয়া হয়েছে। যেই জামায়াতের সাথে অধ্যাপক আবু সাঈদরাও একসাথে বসবেন।

একবার কি চিন্তা করেছেন একই কাতারে বসবে ড.কামাল, কাদের সিদ্দীকি, অধ্যাপক আবু সাঈদ পাশাপাশি জামায়াত, জমিয়ত? রাজনীতিই পারে সব পরিস্থিতি বদলে দিতে। ড. কামালরা তাদের প্রিয় দল থেকে কিল, ঘুষি, গা-গুতা কম খাননি। অবশেষে এসে সরাসরি না হলেও ঘুরিয়ে এসে মিশেছেন জামায়াত আশ্রিত বিএনপির সাথে। সেই জামায়াতেরও সুর এখন নরম হযেছে। এক সময় তারা ড.কামালদের কথায় কথায় নাস্তিক বলতেন, কাফের মুশরিকদের কাতারে ফেলে দিতেন। আজ জামায়াতের বুদ্ধিজীবি মহল ড.কামালদের ব্যাপারে কথা বলা বন্ধ করেছেন। সরকারের জুলুম নির্যাতনে তারাও অনেকটা অসহায় পর্যায়ে এসেছেন। ফলে এখন যে আবু সাঈদ জামায়াতের চিরশত্রু তাদের সাথেও বন্ধুত্ব হয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছায়- অনিচ্ছায়।

রাজনীতি এমনই এক জিনিস। যে হেফাজতের সাথে ছিল সরকারের চিরশত্রুর সম্পর্ক। সেই হেফাজতের আমীর সাহেব ভিন্ন ব্যানারে স্বয়ং উপস্থিত থেকে সোহরাওয়াদী উদ্যানে সংবর্ধনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। উষ্ণ সংবর্ধনা। কোথাকার জল কখন কোথায় গিয়ে মিশে তা বলা মুশকিল।

যে শায়খুল হাদীস রহ, তাঁর অনুদিত বোখারী শরীফে জামায়াতের আদর্শিক চরম বিরোধিতা করেছেন সেই শায়খুল হাদীস রহ.গণও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীদের সাথে একসাথে, একমঞ্চে হাত তুলে জনতাকে অভিবাদন জানিয়েছেন। যে শায়খুল হাদীস রহ.কে আওয়ামীলীগ জেল খাটিয়েছে, সেই আওয়ামীলীগের সাথে ৫দফা শর্তের ভিত্তিতে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

যেই ইনুরা আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে মুখে ফেনা তুলে, সেই ইনু, রাশেদ খান মেননরা কিন্তু ঠিকই গোলাম আযম সাহেবের দুআ ও আশির্বাদ নিতে তার দরবারে হাজির হয়েছিলেন। আজ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা থেকে দুরে সরাতে মাঠে কারা? মাঠে সেই লোকগুলো যারা একসময় কট্টর আওয়ামীলীগ ছিলেন। ড. কামাল, কাদের সিদ্দীকি, মান্না, মনসুর, রব, আবু সাঈদ প্রমুখ। অপর দিকে ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতায় রাখতে সাহায্য করছে ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খাদেমুল ইসলাম প্রমুখ দল ও দলের প্রধান ব্যক্তিরা। কী আজিব জিনিস এই রাজনীতি!

আগামী দিনে রাজনীতির এই গতি প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নিবে কেউ জানে না। কী হতে যাচ্ছে তাও অনেকে জানে না। রাজনীতির ময়দানে তাই কথা বলতে হিসেব করেই কথা বলা উচিত। শত্রুুদের সাথেও যেহেতু মাঝে মাঝে গলাগলি করতে হয়, তাই বিরোধিতা করতে হবে রয়ে সয়ে।

Comment

Share.

Leave A Reply