ইজতেমা মাঠে হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিক্ষোভ; স্মারকলিপি পেশ

0

টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাবলিগি সাথী, উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উপর সাদপন্থীদের হামলার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

জেলার সর্বস্তরের আলেম-উলামা ও তাবলিগের সাথীরা এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিল শেষে তারা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শহরের আলীপুরস্থ গোরস্তান মসজিদের সামনে থেকে বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে এসে জড়ো হন মিছিলকারীরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘উলামা-তাবলিগি সাথীবৃন্দ’।

প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান সোহেলের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, ফরিদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুফতি কামরুজ্জামান।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবুল হোসাইন, আব্দুর রব, ইসমাইল হোসেন, মাওলানা আমজাদ হোসাইন, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা মনসুর আহমেদ, আবুল কাসেমসহ জেলার শীর্ষ স্থানীয় আলেম-উলামারা।

বক্তারা বলেন, আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিকালে গত ১ ডিসেম্বর সায়াদ গ্রুপের অনুসারীরা হামলা চালিয়ে তাবলীগ জামাতের মুরুব্বি ও সাথীদের আহত এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা ফরিদপুরের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম, তাবলিগের মুরুব্বি ও সাথীরা মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ।

আমরা অনতিবিলম্বে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এ সময় তারা ৫ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো : ১. হামলার নির্দেশদাতা দিল্লির মাওলানা সায়াদ, বাংলাদেশের ওয়াসিকুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন নাসিম, মোশাররফ হোসেন এবং ইউনুস সিকদারসহ হামলার সাথে জড়িত বিভিন্ন জেলা থেকে অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান।

২. আসন্ন টঙ্গি ময়দানে ৭-১১ ডিসেম্বরের ৫ দিনের জোড় এবং ১৮, ১৯, ২০ জানুয়ারি এবং ২৫, ২৬, ২৭ জানুয়ারি টঙ্গী ময়দানের বিশ্ব ইজতেমা নির্ধারিত সময়েই করা।

৩. ময়দানে নিহতদের ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

৪. অতিসত্ত্বর কাকরাইলের সকল কার্যকলাপ হতে ওয়াসিফ, নাসিম, ইউনুস ও মোশাররফকে বহিষ্কার করা।

৫. অবিলম্বে বাংলাদেশ থেকে সায়াদপন্থীদের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

Comment

Share.

Leave A Reply